জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
যৌন-দ্বিরূপতা কী?
- খ)(2)
অসম্পূর্ণ রূপান্তর বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
'A' হতে 'B' সৃষ্টির প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
ভিন্ন ভিন্ন কাজ সম্পাদনের জন্য 'B' এর বিভিন্ন স্তরের পরিণতি ভিন্ন ভিন্ন- বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই প্রজাতির পুরুষ ও স্ত্রী সদস্যের মধ্যে বাহ্যিক শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান থাকাকে যৌন দ্বিরূপতা (Sexual dimorphism) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে রূপান্তর প্রক্রিয়ায় ডিম ফুটে বের হওয়া অপরিণত অবস্থা (নিম্ফ) কিছু কিছু বৈশিষ্ট্যের অপূর্ণতা ছাড়া দেখতে প্রায় পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর মতো হয় এবং কোনো পিউপা দশা ছাড়াই বারবার খোলস মোচনের মাধ্যমে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে পরিণত হয়, তাকে অসম্পূর্ণ রূপান্তর (Incomplete metamorphosis) বলে। যেমন: ঘাসফড়িঙের রূপান্তর। এ রূপান্তরের ধাপগুলো হলো: ডিম → নিম্ফ → পূর্ণাঙ্গ প্রাণী (ইমাগো)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'A' হলো জাইগোট এবং চিত্র 'B' হলো দ্বিস্তরী গ্যাস্ট্রুলা। জাইগোট (A) থেকে গ্যাস্ট্রুলা (B) সৃষ্টির প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. ক্লিভেজ ও মরুলা সৃষ্টি: নিষেকের পর জাইগোটে মাইটোসিস প্রকৃতির ধারাবাহিক কোষ বিভাজন ঘটে, যাকে ক্লিভেজ বলে। ক্লিভেজের ফলে সৃষ্ট কোষগুলোকে ব্লাস্টোমিয়ার বলে। ক্রমাগত বিভাজনের ফলে ব্লাস্টোমিয়ারগুলো একটি নিরেট বলের মতো কোষে পরিণত হয়, যাকে মরুলা বলে।
২. ব্লাস্টুলা সৃষ্টি: মরুলা দশার কোষগুলো ক্রমশ একটি নির্দিষ্ট স্তরে সজ্জিত হয়ে কেন্দ্রে ব্লাস্টোসিল নামক একটি তরলপূর্ণ গহ্বর সৃষ্টি করে। এক স্তরবিশিষ্ট এই কোষীয় দশাকে ব্লাস্টুলা এবং এর প্রাচীরকে ব্লাস্টোডার্ম বলে।
৩. গ্যাস্ট্রুলেশন: ব্লাস্টুলার পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন মর্ফোজেনেটিক চলনের মাধ্যমে একস্তর বিশিষ্ট ভ্রূণটি দ্বিস্তরবিশিষ্ট গ্যাস্ট্রুলায় রূপান্তরিত হয়। এ প্রক্রিয়ায় ব্লাস্টোডার্মের কিছু কোষ অন্তঃপ্রবিষ্ট (Invagination) হয়ে নতুন গহ্বর আর্কেনটেরন সৃষ্টি করে। ফলে বহিঃস্থ এক্টোডার্ম এবং অন্তঃস্থ এন্ডোডার্ম স্তর গঠিত হয়। এভাবেই জাইগোট (A) থেকে গ্যাস্ট্রুলা (B) সৃষ্টি হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'B' হলো হাইড্রা বা দ্বিস্তরী প্রাণীর গ্যাস্ট্রুলা দশা। গ্যাস্ট্রুলার মূলত দুটি ভ্রূণীয় কোষস্তর রয়েছে— বহিঃস্থ এক্টোডার্ম (বা এপিডার্মিস গঠনকারী) এবং অন্তঃস্থ এন্ডোডার্ম (বা গ্যাস্ট্রোডার্মিস গঠনকারী)। উভয় স্তরের পরিণতি এবং কার্যিক ভূমিকা ভিন্ন ভিন্ন, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বহিঃস্তরের (এক্টোডার্ম) পরিণতি ও কাজ:
- আবরণ ও সুরক্ষা: এপিডার্মিসের পেশি-আবরণী কোষ দেহপ্রাচীর গঠন করে দেহকে বাইরের প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা করে এবং সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে দেহকে ছোট-বড় করতে সাহায্য করে।
- খাদ্যগ্রহণ ও আত্মরক্ষা: এর নিডোসাইট কোষের নেমাটোসিস্ট আত্মরক্ষা, চলন ও শিকার আটকে রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- উদ্দীপনা গ্রহণ: সংবেদী কোষ পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং স্নায়ুকোষের মাধ্যমে সংকেত দেহের বিভিন্ন অংশে প্রেরণ করে।
- জনন ও পুনরুৎপত্তি: ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ প্রয়োজনে বিভাজিত হয়ে অন্যান্য কোষে এবং শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয় গঠনের মাধ্যমে প্রজননে অংশ নেয়।
২. অন্তঃস্তরের (এন্ডোডার্ম) পরিণতি ও কাজ:
- পরিপাক ও শোষণ: গ্যাস্ট্রোডার্মিসের পুষ্টি কোষ বা পেশি-আবরণী কোষ খাদ্য পরিপাক ও শোষণে সরাসরি নিয়োজিত। এ কোষগুলো ফ্ল্যাজেলা ও ক্ষণপদ সৃষ্টি করে খাদ্য চূর্ণ করে এবং ফ্যাগোসাইটোসিস ও পিনোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে।
- এনজাইম নিঃসরণ: ক্ষরণ কোষ বিভিন্ন পরিপাক রস ও এনজাইম ক্ষরণ করে বহিঃকোষীয় পরিপাকে অংশ নেয়।
সুতরাং, গ্যাস্ট্রুলা দশার এই দুটি স্তরের কোষগুলোর পরিণতি এবং কার্যাবলি পুরোপুরি আলাদা; যা সামগ্রিকভাবে জীবের অস্তিত্ব রক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং পুষ্টি পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও