বাংলা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:

11.1.

একুশের চেতনা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।

11.2.

নিচের উদ্দীপকটি অনুসরণে একটি খুদে গল্প লেখো:
সবুজ শ্যামল এই প্রকৃতিতে উদার হতে শেখো মেঘের উদারতা মনটা কেঁদে ওঠে.......

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

১১.১. একুশের চেতনা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:

স্থান: বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ
চরিত্র: অনিক ও তানভীর

অনিক: শুভ অপরাহ্ণ, তানভীর! কী ভাবছ একমনে?
তানভীর: শুভ অপরাহ্ণ, অনিক। ভাবছিলাম আর কয়েক দিন পরেই তো একুশে ফেব্রুয়ারি—আমাদের মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
অনিক: ঠিক বলেছ। একুশ আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারদের রক্তের বিনিময়ে আমরা মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছি।
তানভীর: একদম তাই। তবে অনিক, একুশের চেতনা কি কেবল ২১শে ফেব্রুয়ারিতে প্রভাতফেরি করা আর শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ?
অনিক: কখনোই না। একুশের মূল চেতনা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, স্বাধিকার রক্ষা এবং আত্মমর্যাদাবোধের উন্মেষ। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনই কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল প্রেরণা জুগিয়েছিল।
তানভীর: যথার্থ বলেছ। একুশ আমাদের অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করতে শিখিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা কি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পেরেছি?
অনিক: এটাই অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। আজও উচ্চ আদালত, উচ্চশিক্ষা কিংবা দাপ্তরিক অনেক ক্ষেত্রে বাংলার পূর্ণ প্রচলন হয়নি। উপরন্তু, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভাষার বিকৃতি লক্ষ্য করা যায়।
তানভীর: সত্যিই তাই। একুশের প্রকৃত চেতনা ধারণ করতে হলে শুদ্ধ বাংলা চর্চা করতে হবে এবং মাতৃভাষার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
অনিক: শুধু তা-ই নয়, দেশের অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাকেও সম্মান জানাতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়াই একুশের মূল বার্তা।
তানভীর: ধন্যবাদ অনিক, তোমার সাথে আলোচনা করে একুশের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করলাম।
অনিক: তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ, তানভীর। ভালো থেকো।


অথবা,

১১.২. খুদে গল্প:

প্রকৃতির পাঠশালা

গ্রামের নাম শান্তিপুর। সবুজ শ্যামল এই প্রকৃতিতে উদার হতে শেখো—বাবার এই উপদেশটা ছোটবেলা থেকেই শুনে বড় হয়েছে রাহুল। প্রকৃতির খোলামেলা রূপ, বিশাল আকাশ আর অবিরাম বয়ে চলা নদীর দিকে তাকালে মনটা প্রশান্তিতে ভরে উঠত। কিন্তু বাস্তব জীবনের কঠোর প্রতিযোগিতায় নাম লেখানোর পর সেই উদারতা রাহুলের মন থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছিল। ইট-কাঠের শহরে এসে সে ক্রমশ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছিল।

গ্রীষ্মের ছুটিতে রাহুল অনেক দিন পর গ্রামে ফিরেছে। একদিন বিকেলে সে নদীর পাড়ে গিয়ে বসল। হঠাৎ আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা গেল। বাতাসের মাতামাতি আর মেঘের গর্জনে শুরু হলো অঝোর ধারায় বৃষ্টি। রাহুল একটি পুরোনো বটগাছের নিচে আশ্রয় নিল। ঠিক তখনই সে দেখল, কাছেই এক জীর্ণ কুটিরের ছাউনি বাতাসে উড়ে গেছে। ভেতরে এক অসহায় বৃদ্ধা ভিজে কাঁপছেন, সঙ্গে তাঁর ছোট্ট নাতি।

প্রকৃতির রূপ তখন অন্যরকম। মেঘের উদারতা মনটা কেঁদে ওঠে প্রকৃতির এই বিচিত্র রূপ দেখে। আকাশ কোনো বাছবিচার না করে অকাতরে নিজের সঞ্চিত বারিধারা বিলিয়ে দিচ্ছে পৃথিবীর বুকে। কিন্তু মানুষের মাঝে কেন এত সংকীর্ণতা? রাহুল নিজের ছাতাটা মেলে ধরে দ্রুত ছুটে গেল সেই ভাঙা কুটিরের দিকে। বৃদ্ধা আর শিশুটিকে আগলে নিয়ে পাশের নিরাপদ পাকা বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিল। বৃষ্টি থামার পর নিজের জমানো হাতখরচের টাকা দিয়ে তাঁদের ঘরের ছাউনি ঠিক করার ব্যবস্থা করে দিল রাহুল। বৃদ্ধার চোখের তৃপ্তির জল দেখে রাহুলের মনে হলো, প্রকৃতি তাকে আজ এক মহামূল্যবান পাঠ শেখাল—নিজের জন্য নয়, পরার্থে উদার হওয়াই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন