ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. আজিজ, মি. আতিক ও মি. আলিফ তিনজন বন্ধু মিলে চুক্তির মাধ্যমে একটি বুটিক্স কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। এদের মধ্যে মি. আলিফ ব্যবসা পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে না।কিন্তু সমান মুনাফা গ্রহণ করেন। অত্যন্ত সুনাম ও সফলতার সাথে ব্যবসাটি পরিচালিত হচ্ছিল। সম্প্রতি আতিক ইচ্ছাকৃতভাবে অংশীদারি চুক্তি ভঙ্গ করেন, যার ফলে ব্যবসার পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্য সদস্যদের ইচ্ছা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির বিলোপ সাধন ঘটে।
- ক)(1)
সীমাবদ্ধ অংশীদার কে?
- খ)(2)
আচরণে অনুমিত অংশীদার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপক অনুযায়ী মি. আলিফ কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"আদালতের নির্দেশে বিলপের কারণে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি বিলোপ সাধন ঠেকানো যায়নি"- বক্তব্যের যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অংশীদারের দায় ব্যবসায় তার বিনিয়োগকৃত মূলধনের পরিমাণ দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে, তাকে সীমাবদ্ধ বা সীমিত অংশীদার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ব্যক্তি অংশীদার না হয়েও যদি তার কথা, আচরণ বা কাজের মাধ্যমে নিজেকে ব্যবসায়ের অংশীদার হিসেবে প্রকাশ করে এবং তৃতীয় পক্ষকে তা বিশ্বাস করতে দেয়, তবে তাকে আচরণে অনুমিত অংশীদার বলে।
এ রূপ অংশীদার ব্যবসায় মূলধন বিনিয়োগ করে না এবং পরিচালনায়ও অংশ নেয় না। তবে তার আচরণের কারণে কোনো তৃতীয় পক্ষ ব্যবসায়ে ঋণ দিলে বা চুক্তি করলে, উক্ত ঋণের জন্য তৃতীয় পক্ষের নিকট তিনি সাধারণ অংশীদারের মতোই ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুযায়ী মি. আলিফ হলেন একজন 'ঘুমন্ত বা সুপ্ত অংশীদার' (Dormant or Sleeping Partner)।
যে অংশীদার ব্যবসায় পূর্ণ মূলধন বিনিয়োগ করে এবং লাভের অংশ পায় কিন্তু নিজে ব্যবসায়ের দৈনন্দিন পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে না, তাকে ঘুমন্ত বা নিষ্ক্রিয় অংশীদার বলা হয়। সাধারণ জনসাধারণের নিকট এরা অংশীদার হিসেবে পরিচিত থাকেন না।
উদ্দীপকে মি. আজিজ, মি. আতিক ও মি. আলিফ যৌথভাবে বুটিক্স কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে মি. আলিফ মূলধন দিয়ে চুক্তিভুক্ত অংশীদার হলেও ব্যবসায়ের দৈনন্দিন পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন না, অথচ তিনি সমান হারে মুনাফা গ্রহণ করেন। পরিচালনায় সক্রিয় না থেকে কেবল মূলধন দিয়ে মুনাফা ভোগ করায় আলিফ একজন ঘুমন্ত অংশীদার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"আদালতের নির্দেশে বিলোপের কারণে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি বিলোপ সাধন ঠেকানো যায়নি"—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো অংশীদার যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা ক্রমাগত চুক্তি ভঙ্গ করে এবং এমন আচরণ করে যার ফলে ব্যবসা পরিচালনা অসম্ভব বা অযৌক্তিক হয়ে পড়ে, তবে অন্য কোনো অংশীদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ব্যবসায়টির বাধ্যতামূলক বিলোপ সাধনের নির্দেশ দিতে পারেন। আদালতের এরূপ বাধ্যতামূলক নির্দেশের বিরুদ্ধে ব্যবসা চালু রাখার সুযোগ থাকে না।
উদ্দীপকে মি. আতিক ইচ্ছাকৃতভাবে অংশীদারি চুক্তি ভঙ্গ করেন, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যান্য সদস্যদের প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখার ইচ্ছা থাকলেও আতিকের চুক্তি ভঙ্গের কারণে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা বন্ধ করতে হয়। আদালতের নির্দেশিত বিলোপ সাধনের ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার কারণেই অন্য সদস্যদের ইচ্ছা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির বিলোপ রোধ করা সম্ভব হয়নি। সুতরাং বক্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও