ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

অভিজাত ও বিলাসবহুল পরিবেশের মধ্যে বেড়ে ওঠা সুজন প্রতি বছরই ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা দেখতে যায়। এবার তার চাচার আমন্ত্রণে কুমারখালীর বৈশাখীমেলা দেখার জন্য সে চাচার বাড়িতে উপস্থিত হয়েছে। চাচার সাথে মেলায় গিয়ে বাণিজ্য মেলার মতো ঝলমলে আলোকসজ্জা না দেখে কিছুটা হতাশা হলো। কিন্তু মেলাতে স্থানীয় মহিলাদের হাতে তৈরি কারুপণ্য দেখে সে বিস্মিত হয়ে গেল এবং তাৎক্ষণিকভাবে বেশকিছু বাঁশ, বেত ও পাটের তৈরি হস্তশিল্পসামগ্রী ক্রয় করে। শিক্ষিত উদ্যোগী যুবক সুজন ঢাকাতে এরূপ পণ্যের একটি বিক্রয়কেন্দ্র খোলার ব্যাপারে চিন্তা করছে।

  1. ক)

    ব্যবসায় পরিবেশ কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বিবেচনার কারণ ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    কুমারখালী এর আয়োজনটি ব্যবসায়ের কোন পরিবেশের উপাদানের সাথে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা

    (3)
  4. ঘ)

    সুজনের উদ্যোগী চিন্তাটি কীভাবে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক বাহ্যিক উপাদান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যবসায়ের গঠন, পরিচালনা ও সার্বিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে, তাদের সামগ্রিক রূপকে ব্যবসায় পরিবেশ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সামর্থ্য ও দুর্বলতা মূল্যায়ন করে কার্যকর ব্যবসায়িক কৌশল নির্ধারণের জন্য অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বিবেচনা করতে হয়।

    ব্যবসায়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ গঠিত হয় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উপাদানসমূহ যেমন—মালিক, পরিচালনা পর্ষদ, শ্রমিক-কর্মী, অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি, আর্থিক ও ভৌত সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি নিয়ে। এই উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে থাকে। অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সঠিকভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান তার প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়াতে পারে, মানবসম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে এবং কোনো দুর্বলতা থাকলে তা দূর করে বাহ্যিক পরিবেশের সুযোগ কাজে লাগাতে ও ঝুঁকি মোকাবেলা করতে পারে। তাই অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বিবেচনা অপরিহার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কুমারখালীর আয়োজনটি ব্যবসায়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশের উপাদানের সাথে সম্পর্কিত।

    কোনো সমাজের মানুষের মূল্যবোধ, বিশ্বাস, আচার-আচরণ, ঐতিহ্য, দৃষ্টিভঙ্গি, রীতিনীতি ও লোকসংস্কৃতি নিয়ে ব্যবসায়ের যে পরিবেশ গঠিত হয়, তাকে সাংস্কৃতিক পরিবেশ বলে। এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন মেলা, উৎসব ও লোকজ পণ্যের বাজারের সৃষ্টি হয়।

    উদ্দীপকে কুমারখালীর বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে, যা বাঙালির শতবর্ষের লোকঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মেলাটিতে স্থানীয় নারীদের হাতে তৈরি কারুপণ্য যেমন—বাঁশ, বেত ও পাটের হস্তশিল্প বিক্রি হচ্ছিল। এসব পণ্য দেশীয় ঐতিহ্য, লোকশিল্প ও গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রকাশ। অতএব, মেলা ও হস্তশিল্প পণ্যের এ সমাহার ব্যবসায়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশের উপাদানের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুজনের ঢাকাতে লোকজ হস্তশিল্পের বিক্রয়কেন্দ্র খোলার উদ্যোগী চিন্তাটি দেশের গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে সামগ্রিক আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

    ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশেষ করে গ্রামীণ নারী ও সাধারণ কারিগরদের উৎপাদিত পণ্য উপযুক্ত বিপণন ব্যবস্থার অভাবে অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পায় না। যদি শহরের বড় বাজারে এসব পণ্যের সরাসরি সংযোগ ঘটিয়ে দেওয়া যায়, তবে উৎপাদক ও ক্রেতা উভয়ই উপকৃত হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, কুমারখালীর বৈশাখী মেলায় গিয়ে সুজন গ্রামীণ নারীদের তৈরি বাঁশ, বেত ও পাটের চমৎকার কারুপণ্য দেখে মুগ্ধ হয় এবং তা ঢাকায় বিপণনের পরিকল্পনা করে। সুজনের এই চিন্তা বাস্তবায়ন হলে নিম্নোক্ত আর্থসামাজিক প্রভাব পড়বে:
    ১. কর্মসংস্থান ও নারী ক্ষমতায়ন: গ্রামীণ নারী কারিগরদের কাজের পরিধি ও ধারাবাহিক চাহিদা বাড়বে, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে।
    ২. ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ: মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে কারিগররা তাদের শ্রমের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও মূল্য পাবেন।
    ৩. লোকজ ঐতিহ্য ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের বিকাশ: প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব পাট ও বাঁশের পণ্যের ব্যবহার বাড়বে এবং ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প পুনরুজ্জীবিত হবে।
    ৪. নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: শহরের আধুনিক ক্রেতারা দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সান্নিধ্য পাবে এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

    পরিশেষে বলা যায়, সুজনের গৃহীত উদ্যোগটি গ্রামীণ প্রান্তিক শিল্পীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে দেশীয় পণ্যের অবদান জোরদার করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন