ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব রফিক তার একমাত্র সন্তানের কথা চিন্তা করে ২০১৮ সালে ৫০ লক্ষ টাকার একটি বিমাপত্র গ্রহণ করেন। তিনি বিমাচুক্তির শর্তানুযায়ী প্রিমিয়াম হিসাবে এককালীন ২০ লক্ষ টাকা প্রদান করেন এবং কেবলমাত্র বিমাগ্রহীতার বিমাগ্রহীতার সন্তান উক্ত বিমাকৃত অর্থ পাবে। ২০২০ সালে জনাব রফি হয়। তার সন্তান বিমাকৃত অর্থ দাবি করলে বিমা কর্মকর্তা তাকে একটি দাখিল করার পরামর্শ দেন, কারণ মি. রফিক তার সন্তানকে নমিনি করেন নাই।

  1. ক)

    বিমাচুক্তি কী?

    (1)
  2. খ)

    বিমাযোগ্য স্বার্থ বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বিমা কর্মকর্তা মি. রফিকের সন্তানকে কোন সনদপত্র দাখিলের পরামর্শ দেন? ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    বিমাকৃত অর্থ প্রাপ্তির জন্য বিমা কর্মকর্তা মি. রফিকের সন্তানকে যে পরামর্শ দেন তার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে চুক্তির মাধ্যমে এক পক্ষ (বিমাকারী) নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে অপর পক্ষকে (বিমাগ্রহীতা) কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা ঘটার বা নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়, তাকে বিমাচুক্তি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিমাযোগ্য স্বার্থ বলতে বিমার বিষয়বস্তুর ওপর বিমাগ্রহীতার এমন এক আর্থিক স্বার্থ বা অধিকারকে বোঝায়, যার অস্তিত্বে বিমাগ্রহীতা আর্থিকভাবে উপকৃত হন এবং যার ক্ষতি বা বিনাশে বিমাগ্রহীতা সরাসরি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। বিমাযোগ্য স্বার্থ না থাকলে বিমাচুক্তি জুয়াখেলায় পরিণত হয় এবং তা আইনত বাতিল বলে গণ্য হয়। যেমন—নিজের জীবন বা সম্পত্তির ওপর ব্যক্তির বিমাযোগ্য স্বার্থ থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বিমা কর্মকর্তা মি. রফিকের সন্তানকে 'উত্তরাধিকার সনদপত্র' বা 'সাকসেশন সার্টিফিকেট' (Succession Certificate) দাখিলের পরামর্শ দেন।

    জীবন বিমাচুক্তিতে কোনো ব্যক্তি বিমাপত্র গ্রহণের সময় সাধারণত কোনো ব্যক্তিকে নমিনি বা মনোনীতক হিসেবে উল্লেখ করেন, যাতে বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর মনোনীতক সহজেই বিমাদাবি আদায় করতে পারেন। কিন্তু বিমাগ্রহীতা যদি কাউকে নমিনি না করে যান, তবে তার মৃত্যুর পর বিমাকৃত অর্থ দাবির ক্ষেত্রে আইনি বৈধতার প্রশ্ন ওঠে।

    উদ্দীপকে জনাব রফিক সন্তানের জন্য বিমাপত্র গ্রহণ করলেও সন্তানকে নমিনি করেননি। ফলে জনাব রফিকের মৃত্যুর পর তার সন্তান বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে দাবি আদায় করতে গেলে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত উত্তরাধিকার সনদপত্র বা সাকসেশন সার্টিফিকেট জমা দেওয়া আইনত আবশ্যক। এজন্যই বিমা কর্মকর্তা তাকে এই সনদপত্রটি দাখিলের পরামর্শ দেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিমাকৃত অর্থ প্রাপ্তির জন্য বিমা কর্মকর্তা মি. রফিকের সন্তানকে সাকসেশন সার্টিফিকেট বা উত্তরাধিকার সনদ সংগ্রহের যে পরামর্শ দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও আইনসম্মত।

    বিমা আইনের বিধান অনুযায়ী, বিমাপত্রে যদি কোনো নমিনি উল্লেখ না থাকে এবং বিমাগ্রহীতার মৃত্যু ঘটে, তবে বিমাকৃত অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তির কাছে সরাসরি হস্তান্তর করা যায় না। একাধিক সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী থাকতে পারে বিধায় কোনো প্রকার বিরোধ বা জটিলতা এড়াতে বিমা কোম্পানি আদালত কর্তৃক প্রত্যয়িত বৈধ উত্তরাধিকারীকেই অর্থ প্রদান করতে বাধ্য থাকে। উপযুক্ত আদালত কর্তৃক প্রদত্ত উত্তরাধিকার সনদপত্রই প্রমাণ করে যে আবেদনকারী ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির বৈধ প্রাপক।

    উদ্দীপকে জনাব রফিক তার সন্তানকে নমিনি করেননি। এ অবস্থায় বিমা কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে কেবল দাবির ভিত্তিতে সন্তানকে অর্থ প্রদান করলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দাবিদার বা আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারত। তাই বিমা কোম্পানিকে আইনি ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে এবং প্রকৃত উত্তরাধিকারীর অধিকার নিশ্চিত করতেই বিমা কর্মকর্তা সাকসেশন সার্টিফিকেট দাখিলের পরামর্শ দিয়েছেন। অতএব, এই পরামর্শটি বিমা আইন ও বিধিমালার আলোকে পুরোপুরি বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন