যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
এশিয়ার শীর্ষ শত বিজ্ঞানীর তালিকা-২০২৩ প্রকাশ করেছে এশিয়ান সায়েন্টিস্ট। চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও শিশুদের বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহাও এ তালিকায় স্থান পায়। সুসংবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও সুনিশ্চিত জ্ঞানের জন্য তার প্রচেষ্টা। গবেষণালব্ধ তথ্য শিশু ও মানুষের কল্যাণে কৌশল প্রয়োগে সফল হয়েছেন তিনি।
- ক)(1)
যুক্তিবিদ্যা কী?
- খ)(2)
যুক্তিবিদ্যাকে কেন বিজ্ঞান বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে পাঠ্যপুস্তকের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে পাঠ্যপুস্তকের পরিধি ও বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে ব্যবহারিক বিজ্ঞান সঠিক যুক্তিপদ্ধতির নিয়মাবলি প্রণয়ন করে এবং সত্য অর্জনের উদ্দেশ্যে ভুল যুক্তি থেকে সঠিক যুক্তিকে পৃথক করার পদ্ধতি শিক্ষা দেয়, তাকে যুক্তিবিদ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিজ্ঞান হলো কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সুশৃঙ্খল, সুসংবদ্ধ ও সুনিশ্চিত জ্ঞান যা কিছু সাধারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। যুক্তিবিদ্যাও একটি বিজ্ঞান, কারণ এর একটি নির্দিষ্ট আলোচ্য বিষয় রয়েছে—চিন্তা বা যুক্তিব্যবস্থা। যুক্তিবিদ্যা সঠিক যুক্তির সাধারণ নিয়মাবলি আবিষ্কার ও বিশ্লেষণ করে এবং একটি সুশৃঙ্খল জ্ঞানভাণ্ডার গঠন করে। সঠিক যুক্তি গঠনের প্রক্রিয়া অনুসন্ধান এবং ভ্রান্ত যুক্তি শনাক্ত করার নিয়মকানুন বিজ্ঞানসম্মতভাবেই যুক্তিবিদ্যায় বিন্যস্ত হয়। তাই যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পাঠ্যপুস্তকের অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যার 'বিজ্ঞান ও কলা' হিসেবে দ্বৈত রূপের দিকটি ফুটে উঠেছে।
যুক্তিবিদ্যা কেবল চিন্তা বা যুক্তিপদ্ধতির তত্ত্ব ও নিয়মাবলি আলোচনা করে একটি বিজ্ঞান হিসেবে কাজ করে না; এটি অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে কলা বা শিল্পের রূপও ধারণ করে। কলাবিদ্যা হলো জ্ঞানের এমন এক শাখা যা কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য নিয়মনীতির প্রায়োগিক দক্ষতা শিক্ষা দেয়।
উদ্দীপকে বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা 'সুসংবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও সুনিশ্চিত জ্ঞানের জন্য' প্রয়াস চালিয়েছেন, যা যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক দিক বা বিজ্ঞান রূপকে নির্দেশ করে। আবার তিনি 'গবেষণালব্ধ তথ্য শিশু ও মানুষের কল্যাণে কৌশল প্রয়োগে সফল হয়েছেন', যা জ্ঞানের প্রায়োগিক দিক বা কলাবিদ্যা রূপের প্রতিফলন। অর্থাৎ, উদ্দীপকে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞান ও কলা—উভয় বৈশিষ্ট্যের দিকটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে যুক্তিবিদ্যার পরিধি ও বিষয়বস্তু অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ।
যুক্তিবিদ্যার মূল আলোচ্য বিষয় হলো মানুষের চিন্তাপদ্ধতি এবং যুক্তিপ্রক্রিয়া। তবে কেবল বিশুদ্ধ চিন্তার মধ্যেই যুক্তিবিদ্যার পরিধি সীমাবদ্ধ নয়। এর পরিধির মধ্যে রয়েছে:
১. অনুমান ও তার শ্রেণিবিন্যাস: অবরোহ ও আরোহ অনুমানের নিয়মাবলি বিশ্লেষণ করা।
২. যুক্তির সহায়ক প্রক্রিয়া: সংজ্ঞা, বিভাগ, ব্যাখ্যা, শ্রেণিকরণ ইত্যাদি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিকাশ ঘটানো।
৩. সত্যের অনুসন্ধান: আকারগত সত্যতার পাশাপাশি বস্তুগত সত্যতা অর্জনের জন্য আরোহের ভিত্তি ও নিরীক্ষণ-পরীক্ষণ নিয়ে আলোচনা করা।
৪. অনুপপত্তি পরিহার: যুক্তিপ্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ভুল বা হেত্বাভাস (fallacy) না ঘটে, তা শনাক্ত করা।
৫. ব্যবহারিক প্রয়োগ: অর্জিত সুসংবদ্ধ জ্ঞানকে মানবকল্যাণে এবং বাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা।উদ্দীপকে বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহার কর্মকাণ্ডের মধ্যে যেমন সুশৃঙ্খল ও সুনিশ্চিত জ্ঞানানুসন্ধানের তত্ত্বগত দিক রয়েছে, তেমনি মানবকল্যাণে সে জ্ঞানের সফল প্রয়োগের দিকও রয়েছে। যুক্তিবিদ্যার বিষয়বস্তু ও পরিধিও ঠিক একইভাবে একদিকে তাত্ত্বিক সত্য অনুসন্ধানের নিয়ম তৈরি করে এবং অন্যদিকে বাস্তব জীবনের যুক্তি ও বিজ্ঞানের ভিত্তি রচনা করে। ফলে উদ্দীপকটি যুক্তিবিদ্যার বিস্তৃত পরিধি ও বিষয়বস্তুর বহুমুখী উপযোগিতাকে সার্থকভাবে তুলে ধরে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও