ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. টিপু তার পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে একটি জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। যার উত্তরাধিকারী করা হয় তার স্ত্রীকে। ৪টি নিয়মিত প্রিমিয়াম প্রদানের পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পরে স্ত্রী ও ছেলে পৃথকভাবে বিমা কোম্পানির নিকট বিমাদাবি করেন। কিন্তু বিমা কোম্পানি স্ত্রীকে বিমাদাবি পরিশোধ করলেও ছেলের দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
- ক)(1)
সমৰ্পণ মূল্য কী?
- খ)(2)
জীবন বিমায় মৃত্যুহারপঞ্জি ব্যবহার করা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে মি. টিপু কোন ধরনের বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. টিপুর ছেলের বিমাদাবি প্রত্যাখ্যানের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবন বিমাপত্র মেয়াদের পূর্বে বিমাগ্রহীতা বাতিল বা সমর্পণ করলে বিমাকারীর কাছ থেকে ফেরত হিসেবে যে পরিমাণ অর্থ পায়, তাকে সমর্পণ মূল্য (Surrender Value) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের সম্ভাব্য মৃত্যুর হার বা বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক উপায়ে পরিমাপের জন্য জীবন বিমায় মৃত্যুহারপঞ্জি ব্যবহার করা হয়। এর সাহায্যে বিমা কোম্পানি কোনো নির্দিষ্ট বয়সের গ্রাহকের ঝুঁকি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারে এবং সেই ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী সঠিক ও যৌক্তিক প্রিমিয়ামের হার নির্ধারণ করতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. টিপু আজীবন জীবন বিমাপত্র (Whole Life Policy) গ্রহণ করেছিলেন।
যে জীবন বিমাপত্রে বিমাগ্রহীতার জীবিতাবস্থায় কোনো বিমাদাবি পরিশোধ করা হয় না, বরং বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পরই কেবলমাত্র তার মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীকে বিমা অঙ্ক পরিশোধ করা হয়, তাকে আজীবন বিমাপত্র বলে। এ ধরনের বিমাপত্রের মূল উদ্দেশ্যই হলো বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
উদ্দীপকে লক্ষ্য করা যায়, মি. টিপু পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিমাপত্রটি খোলেন এবং মাত্র ৪টি প্রিমিয়াম দেওয়ার পর তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর ফলেই বিমাদাবি কার্যকর হয় এবং স্ত্রী তা লাভ করেন। মৃত্যুর মাধ্যমেই বিমাদাবি পরিশোধযোগ্য হওয়ায় এটি স্পষ্টত একটি আজীবন জীবন বিমাপত্র।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. টিপুর ছেলের বিমাদাবি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তটি বিমা আইনের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ যুক্তিসংগত।
বিমা আইনের মনোনয়ন (Nomination) ধারা অনুযায়ী, জীবন বিমাগ্রহীতা জীবিতাবস্থায় বিমাপত্রের অর্থ গ্রহণের জন্য যেকোনো ব্যক্তিকে 'মনোনীত ব্যক্তি' বা নমিনি নির্ধারণ করতে পারেন। বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর বিমা কোম্পানি বিমার সম্পূর্ণ অর্থ মনোনীত ব্যক্তির নিকট প্রদান করতে আইনত বাধ্য থাকে। মনোনীত ব্যক্তি জীবিত থাকলে সাধারণ উত্তরাধিকারীরা সরাসরি বিমা কোম্পানির নিকট দাবির অধিকার রাখেন না; বিমাকারী নমিনিকে অর্থ পরিশোধ করলেই তার দায় থেকে মুক্ত হয়।
উদ্দীপকে মি. টিপু তার বিমাপত্রে বৈধভাবে তার স্ত্রীকে উত্তরাধিকারী বা নমিনি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। ফলে টিপুর মৃত্যুর পর বিমা দাবি পাওয়ার আইনসংগত একমাত্র দাবিদার ছিলেন তার স্ত্রী। তাই ছেলের পৃথক দাবি গ্রহণ না করে সরাসরি নমিনি বা স্ত্রীকে অর্থ পরিশোধ করা আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।
অতএব, বিমা কোম্পানি কর্তৃক ছেলের দাবি প্রত্যাখ্যান করে মনোনীত স্ত্রীকেই বিমাদাবি পরিশোধ করা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ যথাযথ ও যৌক্তিক হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও