পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
রহিমা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় এক বছর কাজ করার পর লক্ষ্য করল যে, তার শরীরে ওজন হ্রাস পাচ্ছে। হালকা জ্বর ও গলা ব্যথা হচ্ছে, শুকনো কাশি লেগে আছে। ডাক্তারের কাছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারলো রহিমা একটি ভাইরাসজনিত মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে।
- ক)(1)
মুসলিম লীগ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
- খ)(2)
জলবায়ু পরিবর্তন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে রহিমার যে রোগ শনাক্ত হয়েছে, তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে সেই রোগ বিস্তারের ধারণা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত রোগটি প্রতিরোধে তোমার সুপারিশমালা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জলবায়ু পরিবর্তন বলতে সাধারণত দীর্ঘ সময়ব্যাপী (সাধারণত ৩০ বছর বা তার বেশি) কোনো অঞ্চল বা সামগ্রিক পৃথিবীর আবহাওয়ার গড় অবস্থা যেমন- তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদির দীর্ঘমেয়াদি ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনকে বোঝায়। মানুষের বিভিন্ন ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড (যেমন গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ, বন উজাড় ইত্যাদি) এবং প্রাকৃতিক কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে জলবায়ুর এই পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রহিমার যে রোগটি শনাক্ত হয়েছে তা হলো 'এইডস' (AIDS - Acquired Immune Deficiency Syndrome)। এটি এইচআইভি (HIV) নামক ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে ঘটে থাকে।
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এইডস বা এইচআইভি বিস্তারের মূল মাধ্যমগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক: এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে অনিরাপদ ও অরক্ষিত দৈহিক মেলামেশা করলে এ রোগ সংক্রমিত হয়।
২. সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ: এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তির রক্ত বা রক্তজাত পদার্থ সুস্থ ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করালে এ রোগ ছড়ায়।
৩. ব্যবহৃত সুচ বা সিরিঞ্জ: একই সুচ, সিরিঞ্জ বা চিকিৎসার যন্ত্রপাতি জীবানুমুক্ত না করে একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করলে ভাইরাস ছড়াতে পারে। বিশেষ করে শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে এ ঝুঁকি খুব বেশি।
৪. মা থেকে সন্তানে সংক্রমণ: এইচআইভি আক্রান্ত গর্ভবতী মা থেকে গর্ভকালীন সময়ে, প্রসবের সময় কিংবা বুকের দুধ পানের মাধ্যমে শিশুর শরীরে এ ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত রোগটি হলো মারণব্যাধি এইডস (AIDS)। এটি একটি দূরারোগ্য ব্যাধি হওয়ায় এর বিস্তার রোধে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাই একমাত্র সমাধান। এ রোগ প্রতিরোধে আমার সুপারিশমালা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন মেনে চলা: অনৈতিক ও অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক পরিহার করে সুস্থ ও সুশৃঙ্খল পারিবারিক জীবনযাপন করা।
২. নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করা: শরীরে রক্ত গ্রহণের পূর্বে তা এইচআইভি মুক্ত কি না তা সঠিকভাবে পরীক্ষা (স্ক্রিনিং) করে নেওয়া।
৩. একবার ব্যবহারযোগ্য সিরিঞ্জ ব্যবহার: ইনজেকশন বা রক্তের নমুনা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবার নতুন ও জীবানুমুক্ত সুচ এবং সিরিঞ্জ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
৪. অঙ্গ প্রতিস্থাপনে সতর্কতা: রক্ত বা কোনো অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পূর্বে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা করা।
৫. জনসচেতনতা বৃদ্ধি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মতো জনবহুল স্থানে এইডস-এর কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনা করা।
৬. আক্রান্ত মায়ের সঠিক চিকিৎসা: এইচআইভি পজিটিভ গর্ভবতী মাকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART) দিয়ে সন্তানকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা।পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যবিধি সতর্কতার সাথে অনুসরণের মাধ্যমেই এইডস রোগ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও