বাংলা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

11.1.

ফেসবুকের অতিরিক্ত ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।

11.2.

নিচের শিরোনাম অনুসারে একটি খুদে গল্প লেখো : 'সাদা রঙের দিনগুলি'

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

১১.১. ফেসবুকের অতিরিক্ত ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:

স্থান: কলেজের লাইব্রেরির সামনে
চরিত্র: তানভীর ও অনিক

তানভীর: কী রে অনিক, তুই আজকাল সবসময় ফোনে মুখ গুঁজে থাকিস। ডাকলেও শুনিস না!
অনিক: আরে তানভীর, ফেসবুকে একটা নতুন রিলস দেখছিলাম। টাইমটা কীভাবে কেটে গেল টেরই পাইনি।
তানভীর: কিন্তু বন্ধু, তুই কি খেয়াল করেছিস যে ফেসবুকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে তোর পড়াশোনায় কতটা ক্ষতি হচ্ছে? সাময়িক পরীক্ষায় তো তোর রেজাল্টও খারাপ হয়েছে।
অনিক: তা ঠিক, কিন্তু ফেসবুক স্ক্রোল না করলে যেন মনটাই অস্থির লাগে।
তানভীর: এটাই তো ফেসবুকের আসক্তি। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্রাতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহারের ফলে মনোযোগের ঘাটতি হয়, অনিদ্রা দেখা দেয় এবং চোখেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়।
অনিক: হুম, ইদানীং রাতে দেরিতে ঘুমানোর কারণে সকালে মাথাও ধরে থাকে।
তানভীর: শুধু তা-ই নয়, ভার্চুয়াল জগতে বন্দি হয়ে মানুষ বাস্তব সমাজের সম্পর্কগুলো হারিয়ে ফেলে। শারীরিক পরিশ্রম না থাকায় নানা শারীরিক জটিলতাও সৃষ্টি হয়।
অনিক: তুই একদম সঠিক কথা বলেছিস তানভীর। আমি নিজেই বুঝতে পারছি আমার কতটা মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
তানভীর: ফেসবুক তথ্যের আদান-প্রদান ও যোগাযোগের ভালো মাধ্যম, তবে তা পরিমিত ব্যবহারে। আমাদের উচিত স্ক্রিন-টাইম নির্দিষ্ট করে দিয়ে পড়াশোনা ও খেলাধুলায় মনোযোগ দেওয়া।
অনিক: ধন্যবাদ বন্ধু আমাকে সতর্ক করার জন্য। আজ থেকেই আমি ফেসবুক ব্যবহারের সময় সীমিত করব এবং পড়াশোনায় মন দেব।
তানভীর: চমৎকার সিদ্ধান্ত! চল, এখন ক্লাসে যাই।


অথবা,

১১.২. খুদে গল্প : 'সাদা রঙের দিনগুলি'

হাসপাতালের চার দেয়ালের ভেতর জীবনের অনুভূতিগুলো যেন নিথর হয়ে যায়। নিয়ন আলোর নিচে শুভ্র অ্যাপ্রন পরা ডাক্তার-নার্স, সাদা বিছানার চাদর আর সাদা দেয়াল—সবকিছুতেই যেন এক ধরনের শীতল শূন্যতা। এক মাস ধরে এই সাদা রঙের ওয়ার্ডেই শুয়ে আছে শুভ্র। একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ওর জীবনের সব উচ্ছল রঙিন ক্যানভাসকে এক লহমায় সাদাকালো করে দিয়েছে।

প্রথম দিকে শুভ্রের মনে হতো, তার জীবনের সব আলো নিভে গেছে। পায়ের জটিল অস্ত্রোপচার শেষে বিছানায় পড়ে থাকা দিনগুলো ছিল নিদারুণ যন্ত্রণার। জানালার বাইরে নীল আকাশ, সবুজ গাছপালা তাকে ব্যাকুল করত। তবে এই কঠিন সাদা রঙের দিনগুলোতেই শুভ্র জীবনের এক নতুন সত্যের মুখোমুখি হলো। তার মা প্রতিদিন হাসিমুখে পাশে বসে দোয়া পড়তেন, বন্ধুরা দল বেঁধে এসে ওর পাশে বসে হাসাত, আর হাসপাতালের কর্তব্যরত সেবিকা স্নিগ্ধ হাসি দিয়ে ঔষধ খাইয়ে বলতেন, "তুমি আবার দৌড়াবে শুভ্র, বিশ্বাস হারিও না।"

আজ শুভ্রের হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার দিন। সে ক্রাচে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। শুভ্র বুঝতে পারল, এই সাদা রঙের দিনগুলো কেবল দুঃখ বা অসুস্থতার ছিল না, এগুলো ছিল ধৈর্য, ভালোবাসা আর পুনর্জন্মের প্রতীক। যে সাদা রঙকে সে আগে বেদনার মনে করত, আজ তা-ই তার কাছে মনে হলো শুদ্ধতার এক নতুন শুভ সূচনা। জীবনের রঙিন পথে আবার পা বাড়ানোর নতুন প্রত্যয় নিয়ে সে হাসপাতালের শুভ্র করিডোর পেরিয়ে সূর্যের আলোয় পা রাখল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন