পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার প্রায় দুই যুগ পরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনের রাষ্ট্রের একাংশের একটি রাজনৈতিক দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। কিছু ক্ষমতাসীন সরকার ওই দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে তালবাহানা ও ষড়যন্ত্র শুরু করে। বিজয়ী অংশের জনগণ তাদের একজন মহান নেতার নেতৃত্বে স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- ক)(1)
পাকিস্তানের প্রথম গর্ভনর জেনারেল কে ছিলেন?
- খ)(2)
আগরতলা মামলা বলতে কী বোঝো?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচনের সাথে তোমার পঠিত বইয়ের কোন নির্বাচনের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচনের গুরুত্ব মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আগরতলা মামলা' (যার আনুষ্ঠানিক নাম ছিল 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য') হলো ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান কর্তৃক দায়েরকৃত একটি তথাকথিত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জন রাজনৈতিক নেতা, সেনা ও সরকারি কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ আনা হয় যে, তাঁরা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় ভারতীয় প্রতিনিধিদের সাথে গোপনে বৈঠক করে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন দমন এবং বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেওয়া।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সাধারণ নির্বাচনের সাথে আমার পঠিত বইয়ের ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার দীর্ঘ ২৩ বছর (প্রায় দুই যুগ) পর ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে দেশটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতির প্রতিনিধিত্বকারী দল 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ' জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টি আসন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট ১৬৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার প্রায় দুই যুগ পর নির্বাচন এবং একাংশের একটি দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার বিষয়টি ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল বাঙালি জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যক্ষ ভিত্তি।
এ নির্বাচনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিম্নরূপ:
১. জনগণের রায়ের স্বীকৃতি: ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা কর্মসূচি এবং বাঙালির পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবির পক্ষে অভূতপূর্ব রায় প্রদান করে।
২. বাঙালি ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ: নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং স্বাধিকারের প্রশ্নে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ।
৩. পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠীর মুখোশ উন্মোচন: নির্বাচনের পর জেনারেল ইয়াহিয়া খান এবং জুলফিকার আলী ভুট্টো আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বিভিন্ন টালবাহানা ও সামরিক ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। এর মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানের চরম স্বৈরাচারী মানসিকতা বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হয়।
৪. মুক্তিযুদ্ধের পথ সুগম করা: নির্বাচনী রায়ের প্রতি এই অবজ্ঞা ও ষড়যন্ত্রের ফলেই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের পর বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জনগণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করে।সুতরাং, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনই পাকিস্তানের অখণ্ডতার অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথকে সরাসরি চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও