‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি রাষ্ট্রে 'ক' আইনে প্রথমবারের মতো দ্বি কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠন করার ব্যবস্থা করা হয়। এ আইনে প্রদেশে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করা হয়। অন্যদিকে 'খ' আইনে এ রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এ আইনে কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন চালু করা হয়।

  1. ক)

    কোন আইনে ব্রিটিশ ভারতে স্বতন্ত্র নির্বাচন পদ্ধতি চালু করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    দ্বিজাতি তত্ত্বের ব্যাখ্যা দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' আইন তোমার পঠিত কোন আইনকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো। ৩

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'খ' দ্বারা নির্দেশিত আইনের মাধ্যমে প্রবর্তিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৯ সালের ভারতীয় পরিষদ আইনের (মরলে-মিন্টো সংস্কার আইন) মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতে স্বতন্ত্র নির্বাচন পদ্ধতি চালু করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিজাতিতত্ত্ব হলো মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক প্রচারিত একটি রাজনৈতিক মতবাদ, যার মূল কথা হলো ভারতে হিন্দু ও মুসলিম কেবল দুটি পৃথক ধর্মীয় সম্প্রদায় নয়, বরং তারা সম্পূর্ণ পৃথক দুটি জাতি। তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস, সামাজিক মূল্যবোধ পরস্পর সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফলে এই দুই ভিন্ন জাতির বিকাশ ও সুরক্ষার জন্য আলাদা আবাসভূমির প্রয়োজন—এ চিন্তাই দ্বিজাতিতত্ত্বের মূল ভিত্তি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' আইনটি ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনকে (মন্ট্যাগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন) নির্দেশ করে।

    ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের অন্যতম প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য ছিল—কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রথমবারের মতো দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন (উচ্চ পরিষদ বা Council of State এবং নিম্ন পরিষদ বা Legislative Assembly) এবং প্রাদেশিক পর্যায়ে দ্বৈতশাসন (Dyarchy) ব্যবস্থার প্রবর্তন, যেখানে বিষয়গুলোকে হস্তান্তরিত ও সংরক্ষিত তালিকায় ভাগ করা হয়েছিল।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত 'ক' আইনে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা এবং প্রদেশে দ্বৈতশাসন প্রবর্তনের কথা বলা হয়েছে, যা হুবহু ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। সুতরাং 'ক' আইনটি ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'খ' আইনটি হলো ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন। এই আইনের মাধ্যমে ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে 'প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন' প্রবর্তন করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে এর কার্যকারিতা ছিল অত্যন্ত সীমিত ও ত্রুটিপূর্ণ।

    তাত্ত্বিকভাবে এই আইনের মাধ্যমে প্রদেশে দ্বৈতশাসনের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে শাসনভার দেওয়া হয়েছিল এবং প্রাদেশিক মন্ত্রিসভাকে আইনসভার নিকট দায়বদ্ধ করা হয়েছিল।

    কিন্তু বাস্তবে প্রাদেশিক গভর্নরদের হাতে ব্যাপক 'স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা' ও 'ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধিপ্রসূত ক্ষমতা' ন্যস্ত ছিল। গভর্নররা যেকোনো সময় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারতেন, এমনকি বিশেষ পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে শাসনভার নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন। ফলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কোনো বাস্তব কর্তৃত্ব ছিল না।

    এ কারণে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু এই আইন সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন—"এটি এমন একটি ইঞ্জিনবিহীন গাড়ি, যার কেবল শক্তিশালী ব্রেক রয়েছে"। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হলেও গভর্নরের সীমাহীন কর্তৃত্বের কারণে ১৯৩৫ সালের আইনের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কার্যত ব্যর্থ ও অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন