ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
প্রাথমিক জীবনে তৈমুর লঙ সিস্তান অভিযানকালে নির্বিঘ্নে রাজধানীতে প্রবেশ করেন। সিস্তান অধিপতি রাজধানী ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন। তৈমুর যখন নিশ্চিন্তে রাজধানীতে বিশ্রামরত তখন সিস্তানের সৈন্যরা তাকে ঘিরে ফেলে। এমন অতর্কিত আক্রমণে তৈমুর লঙ পরাজিত হয়ে কোনো মতে প্রান নিয়ে পালিয়ে যান। এমনকি কিছু দিনের জন্য তিনি রাজ্য হারা হন।
- ক)(1)
'বাবর' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
কবুলিয়ত ও পাট্টা বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সিস্তান অভিযানের সাথে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের কোন অভিযানের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর
- ঘ)(4)
উক্ত যুদ্ধের ফলাফল মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বাবর' শব্দের অর্থ সিংহ বা বাঘ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবুলিয়ত ও পাট্টা হলো শেরশাহ প্রবর্তিত ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। সরকার কৃষকের জমির স্বত্ব, সীমানা ও প্রদেয় খাজনা উল্লেখ করে কৃষককে যে দলিল দিত তাকে 'পাট্টা' বলা হতো। পক্ষান্তরে, কৃষক পাট্টায় বর্ণিত খাজনা নিয়মিত পরিশোধের শর্ত স্বীকার করে সরকারকে যে লিখিত অঙ্গীকারপত্র দিত, তাকে 'কবুলিয়ত' বলা হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সিস্তান অভিযানের সাথে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের বাংলা (গৌড়) অভিযানের গভীর মিল রয়েছে।
১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট হুমায়ুন শেরশাহকে শায়েস্তা করার জন্য গৌড় বা বাংলায় অভিযান চালান। শেরশাহ কৌশলগত কারণে কোনো প্রতিরোধ না করে গৌড় ত্যাগ করে বিহারে চলে যান। হুমায়ুন কোনো বাধা ছাড়াই গৌড়ে প্রবেশ করেন এবং এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এর নাম রাখেন 'জান্নাতাবাদ'। সেখানে হুমায়ুন প্রায় ছয় মাস আমোদ-প্রমোদে গা ভাসিয়ে অসতর্ক অবস্থায় সময় কাটান। এই সুযোগে শেরশাহ হুমায়ুনের পশ্চাদপসরণের পথ বন্ধ করে দেন এবং চausa নামক স্থানে অতর্কিত আক্রমণ করে হুমায়ুনকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। হুমায়ুন কোনোমতে নদী সাঁতরে প্রাণ রক্ষা করেন। তৈমুর লঙের অসতর্কতার সুযোগে সিস্তানের বাহিনীর আক্রমণ ও বিপর্যয়ের সাথে হুমায়ুনের এই ঘটনার হুবহু মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্ত যুদ্ধের (১৫৩৯ খ্রিষ্টাব্দের চৌসার যুদ্ধ এবং পরবর্তী ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দের কনৌজের যুদ্ধ) ফলাফল মুঘল এবং ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ছিল।
প্রথমত, চৌসার যুদ্ধে আকস্মিক পরাজয়ের ফলে হুমায়ুনের সামরিক মর্যাদা ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয় এবং মুঘল বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়ে। শেরশাহ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে স্বাধীন নরপতি হিসেবে ঘোষণা করেন এবং 'শেরশাহ' উপাধি ধারণ করেন।
দ্বিতীয়ত, এই পরাজয়ের ধারাবাহিকতায় ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দে বিলগ্রাম বা কনৌজের যুদ্ধে হুমায়ুন শেরশাহের কাছে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন। এর ফলে ভারতে সাময়িকভাবে মুঘল শাসনের অবসান ঘটে এবং দ্বিতীয় আফগান সাম্রাজ্য বা সুর বংশ প্রতিষ্ঠিত হয়। হুমায়ুন সিংহাসন হারিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর যাযাবরের মতো দেশান্তরিত থাকতে বাধ্য হন।
অতএব, এই যুদ্ধ ভারতীয় রাজনীতিতে মুঘলদের পতন ও আফগানদের পুনরুত্থানের পথ তৈরি করেছিল, যা মুঘল ইতিহাসের গতিপথ সাময়িকভাবে পুরোপুরি বদলে দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও