বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের যেকোনো ১ টি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ

9.1.

সারমর্ম লেখো:দৈন্য যদি আসে আসুক, লজ্জা কিবা তাহে? মাথা উঁচু রাখিস। সুখের সাথী মুখের পানে যদি না চাহে, ধৈর্য ধরে থাকিস। বুদ্র রূপে তীব্র দুঃখ যদি আসে নেমে বুক ফুলিয়ে দাঁড়াস, আকাশ যদি বজ্র নিয়ে মাথায় পড়ে ভেঙে ঊর্ধ্বে দু'হাত বাড়াস।

9.2.

ভাবসম্প্রসারণ করো: মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নয়।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

৯.১ সারমর্ম:

সারমর্ম: জীবনে দারিদ্র্য বা চরম দুর্দশা এলে হীনম্মন্যতায় ভোগা বা ভেঙে পড়া অনুচিত। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সুখের সঙ্গীরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও অটল ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়। চরম বিপর্যয় ও সংকটকে সাহসিকতার সাথে বরণ করে মাথা উঁচু রেখে বেঁচে থাকার মধ্যেই মনুষ্যত্বের সার্থকতা নিহিত।


৯.২ ভাবসম্প্রসারণ:

ভাবসম্প্রসারণ: মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নয়।

মূলভাব: মানুষের জীবনের প্রকৃত মূল্যায়ন তার বেঁচে থাকার বছরের সংখ্যা বা দীর্ঘায়ুর ওপর নির্ভর করে না; বরং তা নির্ভর করে তার মহৎ কর্ম এবং মানবকল্যাণে অবদানের ওপর।

সম্প্রসারিত ভাব: মানুষের পার্থিব জীবনের স্থায়িত্ব অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। প্রতিটি মানুষই প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে একদিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। কিন্তু এই সীমিত আয়ুর জীবনে মানুষ যদি মহৎ কর্মের মাধ্যমে সৃষ্টিশীল কিছু রেখে যেতে পারে, তবে সে মৃত্যুর পরেও অমরত্ব লাভ করে। মানবজীবনের স্বার্থকতা নিছক দিন, মাস ও বছরের সমষ্টির হিসেবে দীর্ঘায়ু পাওয়ার মধ্যে নয়। কোনো ব্যক্তি যদি শত বছর ধরে বেঁচে থেকেও পরিবার, সমাজ বা দেশের কোনো উপকারে না আসে, তবে তার সেই জীবন পশুর জীবনের মতোই অর্থহীন ও নিষ্ফল। অন্যদিকে, স্বল্পায়ু পেয়েও যদি কেউ আর্তমানবতার সেবা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি কিংবা দেশের কল্যাণে আত্মোৎসর্গ করে, তবে সে চিরকাল মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধার সাথে বেঁচে থাকে।

ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়— হজরত মুহাম্মদ (সা.), গৌতম বুদ্ধ, স্বামী বিবেকানন্দ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, সুকান্ত ভট্টাচার্য, জন কিটস কিংবা আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মতো বহু মহামানব ও প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব মহৎ কর্মের কারণেই চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র একুশ বছর বেঁচে থেকেও তাঁর অমর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে অক্ষয় স্থান করে নিয়েছেন। তাঁদের জীবনের ব্যাপ্তি হয়তো দীর্ঘ ছিল না, কিন্তু তাঁদের কর্মের গভীরতা ছিল সীমাহীন। মহৎ কাজের মাধ্যমে মানুষ অনন্তকালের অধিকারী হতে পারে। নিঃস্বার্থ কর্মের সৌরভ মানুষকে অমর করে রাখে।

মন্তব্য: অতএব, দীর্ঘায়ু লাভ করা জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়; বরং স্বল্পস্থায়ী জীবনকে সুন্দর, মহৎ ও কল্যাণকর কর্মে নিয়োজিত করাই জীবনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ মানুষের বয়স মুছে যায় কালের নিয়মে, কিন্তু সৎকর্ম বেঁচে থাকে অনন্তকাল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন