বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

"বন্ধু তোমার ছাড় উদ্বেগ, সুতীক্ষ্ণ কর চিত্ত বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত মূঢ় শত্রুকে হানো স্রোত রুখে, তন্দ্রাকর ছিন্ন, একাগ্র দেশে শত্রুরা এসে হয়ে যাক নিশ্চিহ্ন। ঘরে তোল ধান বিপ্লবী প্রাণ প্রস্তুত রাখো কাস্তে, গাও সারি গান, হাতিয়ারে শান দাও আজ উদয়াস্তে।"সুকান্ত ভট্টাচার্য এই বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করার জন্য মহামানবকে আহ্বান জানিয়েছেন- "হে মহামানব একবার এসো ফিরে"……….

  1. ক)

    নূরলদীনের বাড়ি কোথায় ছিল?

    (1)
  2. খ)

    ’যখন আমার স্বপ্ন লুট হয়ে যায়"- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কবিতাটির সাথে 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতায় কোন বিষয়ে সাদৃশ্য রয়েছে? আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের কবি যে কারণে মহামানবের আবির্ভাব কামনা করেন সৈয়দ শামসুল হকও একই কারণে নূরলদীনের পুনরাবির্ভাব কামনা করেন- আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নূরলদীনের বাড়ি ছিল রংপুরে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "যখন আমার স্বপ্ন লুট হয়ে যায়" বলতে বাঙালির অধিকার হরণ এবং পরাধীনতার শৃঙ্খলে শোষিত ও নিষ্পেষিত হওয়ার যন্ত্রণাকে বোঝানো হয়েছে।

    ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে এ দেশের মানুষের ওপর বারবার আঘাত এসেছে। শাসকগোষ্ঠী ও বিদেশি হানাদাররা সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা, স্বাধিকার এবং শান্তির স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে শোষণ চালিয়েছে। কবির ভাষায়, এই নির্মম শোষণ ও মানবিক মূল্যবোধের অবলুপ্তিকেই 'স্বপ্ন লুট হওয়া' বলা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের কবিতাটির সাথে 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতার শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সশস্ত্র প্রতিরোধের আহ্বানের দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দুর্বৃত্ত শত্রুর বিরুদ্ধে বাংলার মাটিকে দুর্জয় ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তুলে রুখে দাঁড়ানোর এবং কাস্তে ও হাতিয়ারে শান দিয়ে বিপ্লবের ডাক দেওয়া হয়েছে। তন্দ্রা ছিন্ন করে শত্রুদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য একতাবদ্ধ হওয়ার বার্তা এখানে ব্যক্ত হয়েছে।

    'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতাতেও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসক ও সামন্ত প্রভুদের শোষণ-অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষক নেতা নূরলদীনের বিদ্রোহের কথা স্মরণ করা হয়েছে। নূরলদীন যেভাবে কৃষকদের জাগিয়ে তুলেছিলেন 'জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?' বলে, তেমনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও বাঙালি নূরলদীনের সেই চেতনা থেকে প্রেরণা নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করেছে। সুতরাং, উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয় স্থানেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং শত্রুকে প্রতিহত করার সংগ্রামী চেতনার সাদৃশ্য লক্ষণীয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের কবি যে কারণে মহামানবের আবির্ভাব কামনা করেন, সৈয়দ শামসুল হকও জাতির চরম সংকটকালে মুক্তির দিশারি পাওয়ার সেই একই প্রত্যাশায় নূরলদীনের পুনরাবির্ভাব কামনা করেছেন—মন্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, অন্যায়, অবিচার ও শত্রুর আগ্রাসনের মুখে একটি শোষিত ও বিপন্ন মানবসমাজকে রক্ষার জন্য এবং এই পৃথিবীকে শিশুর বাসযোগ্য করার জন্য একজন ত্রাতা বা মহামানবের আগমন প্রত্যাশা করা হয়েছে।

    অনুরূপভাবে, 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতায় কবি সৈয়দ শামসুল হক তৎকালীন পাকিস্তানের দুঃশাসন, শোষণ ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে নূরলদীনকে স্মরণ করেছেন। যখনই দেশে কালরাত নেমে আসে, মানুষের স্বাধীনতা ও স্বপ্ন লুণ্ঠিত হয়, অভুক্ত মানুষের কান্না বাতাসে ভাসে, তখনই নূরলদীনের মতো সাহসী ও বিপ্লবী নেতৃত্বের প্রয়োজন পড়ে। নূরলদীন কোনো সাধারণ ব্যক্তি নন, তিনি বাঙালি জাতির ঐক্য ও দ্রোহের প্রতীক। তাঁর ডাক যেমন অতীতে কৃষকদের জাগ্রত করেছিল, তেমনি যেকোনো জাতীয় দুর্যোগে সেই সংগ্রামী নেতৃত্ব জাতিকে রুখে দাঁড়াতে শক্তি জোগায়।

    অতএব, অন্ধকার ও সংকট থেকে মুক্তির জন্য উদ্দীপকে যেমন মহামানবকে আহ্বান করা হয়েছে, সৈয়দ শামসুল হকও তেমনি জাতির দুঃসময়ে সংগ্রামী চেতনার প্রতীক হিসেবে নূরলদীনের পুনরাবির্ভাব কামনা করেছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন