বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
"চলে যায় মরি হায় বসন্তের দিন। দূর শাখে পিক ডাকে বিরাম বিহীন।। অধীর সমীর- ভরে উচ্ছ্বসি বকুল ঝরে, গন্ধ সনে হল মন সুদূরে বিলীন। পুলকিত আম্রবীথি ফাল্গুনেরই তাপে, মধুকর গুঞ্জরণে ছায়াতল কাঁপে।কেন আজি অকারণে সারা বেলা আনমনে পরানে বাজায় বীণা কে গো উদাসীন।।"
- ক)(1)
"কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি"- কার কথা বলা হয়েছে?
- খ)(2)
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটিতে নাটকীয় গুণসম্পন্ন কবিতা বলা হয়ে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বসন্ত বর্ণনার সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বসন্ত বর্ণনার সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের মূলসূর 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি"- এখানে কবি সুফিয়া কামালের কথা বলা হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটিতে নাটকীয় গুণসম্পন্ন কবিতা বলা হয়, কারণ এর গঠনরীতি সংলাপনির্ভর এবং এতে নাটকীয় গুণাবলির স্পষ্ট প্রকাশ রয়েছে।
কবিতাটিতে কবিভক্ত এবং কবির মধ্যে কথোপকথনের মাধ্যমে কাহিনী বা বক্তব্য এগিয়ে গেছে। কবির অন্তরের বিষাদ, উদাসীনতা ও প্রিয়জন হারানোর শোক নাটকীয় সংলাপ ও আবেগের মধ্য দিয়ে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে, যা সাধারণত নাটকে দেখা যায়। সংলাপের এমন সাবলীল প্রবাহ ও পরিবেশ সৃষ্টির কারণেই কবিতাটিকে নাটকীয় গুণসম্পন্ন বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বসন্ত বর্ণনার সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বসন্ত বর্ণনার প্রকৃতি রূপায়ণে সাদৃশ্য থাকলেও কবির মানসিক উপলব্ধির দিক থেকে বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
সাদৃশ্যের দিক থেকে দেখা যায়, উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয় স্থানেই বসন্তের আগমনে প্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্যের বর্ণনা রয়েছে। উদ্দীপকে কোকিলের ডাক, সমীরণ, বকুল ফুল ঝরে পড়া, আমের মুকুল ও মৌমাছির গুঞ্জরণের কথা বলা হয়েছে। একইভাবে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাতেও বসন্তের প্রভাবে আমের মুকুল আসা এবং মাধবী কুঁড়ির সুবাস ছড়ানোর মতো প্রাকৃতিক রূপের বর্ণনা এসেছে।
তবে বৈসাদৃশ্যের দিকটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। উদ্দীপকে বসন্তের রূপবৈচিত্র্যের সান্নিধ্যে মনের এক প্রকার আনমনা ও উদাসীন ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে। পক্ষান্তরে, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় বসন্ত সমাগত হলেও কবির মনে বসন্তের কোনো আনন্দ স্পর্শ করেনি। সেখানে কবির প্রিয়জন হারানোর তীব্র শোক ও বিষাদ প্রকৃতির রূপ-মাধুর্যকে ছাপিয়ে প্রধান হয়ে উঠেছে। প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও কবির জীবনে এসেছে রিক্ততা। এভাবে অনুভূতির প্রকাশে উভয় রচনায় বৈসাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মূলসুর হলো বসন্তের মোহনীয় প্রকৃতির মাঝেও এক অজানা উদাসীনতা ও আনমনা ভাবের প্রকাশ, যা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল বিষাদচেতনার আংশিক ভাবকে স্পর্শ করে।
উদ্দীপকে বসন্তের অপূর্ব প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য—কোকিলের ডাক, বকুল ঝরা, বসন্তের হাওয়া এবং মৌমাছির গুঞ্জন সত্ত্বেও কবির পরানে এক উদাসীন সুর বেজে ওঠে এবং মন আনমনা হয়ে সুদূরে বিলীন হয়। অর্থাৎ প্রকৃতির প্রাচুর্যের মাঝেও অন্তরে একধরনের হাহাকার ও উদাসীনতার ভাব জেগে উঠেছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলসুর মূলত প্রিয়জন হারানোর তীব্র শোক, রিক্ততা ও বিষাদ। বসন্তের আগমনে চারপাশের প্রকৃতি যখন ফুলে-ফলে সাজে, তখন কবিভক্ত কবিকে বসন্ত বন্দনা করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু কবির মন প্রিয়তম স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন। তাই বসন্তের রূপ-লাবণ্য কবিকে এতটুকু আন্দোলিত করতে পারে না; তিনি নিজেকে বসন্ত-আবাহন থেকে পুরোপুরি গুটিয়ে রাখেন।
অতএব, উদ্দীপকে প্রকৃতির মাঝে যে আনমনা উদাসীনতার দোলাচল রয়েছে, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় তা আরও গভীর ও বাস্তব শোকার্ত রিক্ততায় রূপ নিয়েছে। ফলে উদ্দীপকের মূলসুরে কেবল এক উদাসী ভাবের ইঙ্গিত থাকলেও 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলসুর ব্যক্তিগত বিচ্ছেদবেদনা ও স্মৃতিকাতরতায় অত্যন্ত গভীর ও মর্মস্পর্শী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও