ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
বংশালের ২০ জন জুতা প্রস্তুতকারী কারখানার মালিক মিলে আইনগত সত্তা বিশিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানটি গত তিন বছর যাবত যথাক্রমে ৬,০০,০০০ টাকা, ৮,০০,০০০ টাকা ও ৯,০০,০০০ টাকা মুনাফা অর্জন করে। অর্জিত মুনাফা বিধি মোতাবেক সঞ্চিতি তহবিলে রেখে অবশিষ্ট টাকা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেয়। তারা নিজেদের আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য আফতাব নগরে এককালীন ১০,০০,০০০ টাকা প্রদান করে কিস্তিতে একটি ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।
- ক)(1)
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় কী?
- খ)(2)
ব্যবসায়ের আইনগত সত্তা কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
প্রকৃতি বিচারে প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের সমবায় সমিতি? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে করো সঞ্চিতি তহবিল হতে আবাসন সমস্যা সমাধান সম্ভব? উদ্দীপকের বিবেচনায় যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্র কর্তৃক গঠিত বা জাতীয়করণকৃত এবং সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত ও পরিচালিত ব্যবসায় সংগঠনকে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব, স্বাধীন অস্তিত্ব এবং আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনগত সত্তা প্রয়োজন।
আইনগত সত্তা থাকলে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার মালিকদের থেকে পৃথক ব্যক্তিসত্তা লাভ করে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি নিজের নামে চুক্তি সম্পাদন, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় এবং আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে। এছাড়াও এর ফলে কোনো মালিকের মৃত্যু বা দেউলিয়া হওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বিনষ্ট হয় না এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতি বিচারে প্রতিষ্ঠানটি একটি উৎপাদক সমবায় সমিতি।
একই ধরনের পণ্য উৎপাদনকারী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উৎপাদকরা তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষা, মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ দূরীকরণ এবং পারস্পরিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে যে সমবায় সমিতি গঠন করে, তাকে উৎপাদক সমবায় সমিতি বলে।
উদ্দীপকে বংশালের ২০ জন জুতা প্রস্তুতকারী কারখানার মালিক মিলে নিজেদের সুবিধার জন্য আইনগত সত্তাবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। যেহেতু সদস্যরা প্রত্যেকেই জুতা প্রস্তুতকারী বা উৎপাদক, তাই সদস্যদের পেশাগত প্রকৃতি অনুযায়ী সমিতিটি একটি উৎপাদক সমবায় সমিতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমি মনে করি সমবায় আইনের বিধান অনুসারে সংরক্ষিত সঞ্চিতি তহবিল হতে সরাসরি আবাসন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বা আইনসম্মত নয়।
বাংলাদেশ সমবায় সমিতি আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর অর্জিত নিট মুনাফার কমপক্ষে ১৫% সাধারণ সঞ্চিতি তহবিলে এবং ৩% সমবায় উন্নয়ন তহবিলে জমা রাখা বাধ্যতামূলক। সঞ্চিতি তহবিল মূলত সমিতির ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা, ঝুঁকি মোকাবেলা ও ভবিষ্যৎ লোকসান পূরণের উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত রাখা হয়। সমবায় আইন অনুযায়ী নিবন্ধকের পূর্বানুমোদন ছাড়া এই তহবিলের অর্থ সমিতি বা সদস্যদের অন্য কোনো ব্যক্তিগত বা ভিন্নধর্মী সুবিধার্থে (যেমন ফ্ল্যাট কেনা) খরচ করা যায় না।
উদ্দীপকে গত তিন বছরের মোট মুনাফা ২৩,০০,০০০ টাকা (৬+৮+৯ লক্ষ)। এর মধ্য থেকে সঞ্চিতি তহবিলে নির্দিষ্ট অংশ রাখা হয়েছে। সমিতির উদ্দেশ্য হলো সদস্যদের উৎপাদনমূলক সহায়তা দেওয়া, এটি কোনো আবাসন সমবায় সমিতি নয়। তাছাড়া আইন অনুযায়ী সঞ্চিতি তহবিল সরাসরি আবাসন প্রকল্পে বা ফ্ল্যাট কেনার এককালীন ১০,০০,০০০ টাকা প্রদানে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য সদস্যদের পৃথকভাবে আবাসন সমবায় সমিতি গঠন করা অথবা সমিতির নিজস্ব আলাদা গৃহনির্মাণ প্রকল্প তহবিল গঠন করা আবশ্যক ছিল। তাই প্রচলিত নিয়মে সাধারণ সঞ্চিতি তহবিল থেকে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও