বাংলা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
সংলাপ ও খুদেগল্প
11.1.
‘ফেসবুকের সুফল ও কুফল’ বিষয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ রচনা করো।
11.2.
নিচের উদ্দীপক অনুসরণে একটি খুদেগল্প লেখো:পড়ন্ত বিকেলে ঢাকার ফুটপাতে হাঁটতে হাঁটতে রাজু ভাবে, কালের প্রবহমান স্রোত জীবনকে আজ কতদূরে নিয়ে এসেছে। কিন্তু শৈশবের স্মৃতিগুলো আজও...
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১১.১. ‘ফেসবুকের সুফল ও কুফল’ বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:
স্থান: কলেজের উদ্যান
চরিত্র: তাহমিদ ও তানভীর
তাহমিদ: শুভ অপরাহ্ন, তানভীর! কী ব্যাপার, বেশ কিছুক্ষণ ধরে লক্ষ করছি তুমি একদৃষ্টিতে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছ?
তানভীর: আরে তাহমিদ, এসো! আসলে ফেসবুকে একটা শিক্ষামূলক গ্রুপের লাইভ ক্লাস দেখছিলাম। সমসাময়িক প্রস্তুতিতে ফেসবুক আজকাল দারুণ সাহায্য করছে।
তাহমিদ: ঠিক বলেছ। বর্তমান যুগে ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগের এক বৈপ্লবিক মাধ্যম। তথ্য আদান-প্রদান, দেশ-বিদেশের খবর জানা, এমনকি অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমেও এর অবদান অনস্বীকার্য।
তানভীর: শুধু কি তা-ই? রক্তের প্রয়োজনে বা কোনো জরুরি সামাজিক দুর্যোগে তহবিল গঠনে এবং জনমত তৈরিতে ফেসবুকের ভূমিকা অপরিসীম। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও আজ ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
তাহমিদ: তোমার কথার সাথে আমি একমত, তবে এর একটি অন্ধকার দিকও কিন্তু আছে। অনেকেই, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা এতে অযথা সময় অপচয় করে পড়াশোনা ও স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তানভীর: তুমি যথার্থ বলেছ। ফেসবুকের অতিরিক্ত আসক্তি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, বাস্তব সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তাছাড়া গুজব ছড়ানো, সাইবার অপরাধ ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঘটনাও তো হরহামেশা ঘটছে।
তাহমিদ: আসলে কোনো প্রযুক্তি নিজেই ভালো বা খারাপ নয়, ব্যবহারকারীর সদিচ্ছা ও সচেতনতার ওপরই তা নির্ভর করে। গঠনমূলক কাজে পরিমিত ব্যবহার করলে এটি আশীর্বাদ, নতুবা অভিশাপ।
তানভীর: একদম খাঁটি কথা বলেছ, তাহমিদ। আমাদের উচিত এর ইতিবাচক দিকগুলো গ্রহণ করা এবং অপব্যবহার ও আসক্তি পরিহার করা। ধন্যবাদ তোমাকে এমন সুন্দর আলোচনার জন্য।
তাহমিদ: তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ, ভালো থেকো।
অথবা,
১১.২. খুদেগল্প:
স্মৃতির জলছবি
পড়ন্ত বিকেলে ঢাকার ফুটপাতে হাঁটতে হাঁটতে রাজু ভাবে, কালের প্রবহমান স্রোত জীবনকে আজ কতদূরে নিয়ে এসেছে। কিন্তু শৈশবের স্মৃতিগুলো আজও তার মনের মণিকোঠায় অম্লান ও জীবন্ত।
ক্লান্ত নাগরিক জীবনের যান্ত্রিক কোলাহল, গাড়ির তীব্র হর্ন আর ইট-পাথরের ধূসর জঙ্গল তাকে প্রতিনিয়ত গ্রাস করে। কিন্তু এমন নিঃসঙ্গ মুহূর্তগুলোতে চোখ বন্ধ করলেই সে ফিরে যায় নিজ গ্রাম রূপনগরে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে বর্ষায় থৈ থৈ করা বিলের জল, আর বন্ধুদের সাথে শাপলা তোলার সেই অনাবিল আনন্দ। বাবার আঙুল ধরে মেলায় যাওয়া, মায়ের হাতের পিঠার গন্ধ, কিংবা বিকেলে কাশবনে দৌড়াদৌড়ি—সবই যেন রূপকথার মতো মনে হয়। জীবনের তাগিদে উচ্চশিক্ষার জন্য সেই যে সে গ্রাম ছেড়ে ঢাকা শহরের এক চিলতে ভাড়া বাসায় আশ্রয় নিয়েছিল, তারপর থেকে ছুটে চলা কেবলই টিকে থাকার তাগিদে। কর্পোরেট চাকরির চাপ আর বাস্তবতার কঠিন চাকা তাকে শৈশবের সেই নিষ্কলুষ রাজু থেকে বহু দূরে এক অচেনা যন্ত্রমানবে পরিণত করেছে।
হঠাৎ ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক পথশিশুর প্রাণখোলা হাসির শব্দে রাজুর ভাবনায় ছেদ পড়ে। ছেলেটি কাগজের একটি ভাঙা প্লেন বাতাসে ওড়ানোর চেষ্টা করছে। শিশুটির চোখের নিষ্পাপ আনন্দ দেখে রাজু একমুহূর্ত থমকে দাঁড়াল। সে বুঝতে পারল, জীবনের প্রাপ্তির খাতা যতই বড় হোক না কেন, শৈশবের সেই সারল্য আর মাটির গন্ধই মানুষের আত্মাকে সজীব রাখে। একরাশ প্রশান্তি নিয়ে রাজু আবার পা বাড়াল ঘরে ফেরার উদ্দেশ্যে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও