যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
কূটাভাস শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
বহুকারণ সমন্বয়বাদ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকটিতে কার্যকারণ তত্ত্বের কোন বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি কি গ্রহণযোগ্য? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘কূটাভাস’ (Paradox) শব্দের অর্থ আপাতবিরোধী বা স্ববিরোধী বক্তব্য, যা আপাতদৃষ্টিতে সঠিক বা গ্রহণযোগ্য মনে হলেও যুক্তিগতভাবে পরস্পরবিরোধী বা ভ্রান্ত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যখন কতগুলো কারণ বা শর্ত পৃথকভাবে কাজ না করে একসাথে মিলিত হয়ে একটি মাত্র মিশ্র বা যৌথ কার্য সৃষ্টি করে, তখন কারণগুলোর সেই সম্মিলিত অবস্থাকে ‘বহুকারণ সমন্বয়’ (Conjunction of Causes) বলা হয়। যেমন— হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নির্দিষ্ট অনুপাতে মিলিত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। এখানে একাধিক কারণ পৃথক পৃথক ফল না দিয়ে একত্রে একটি কার্য সৃষ্টি করেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটিতে কার্যকারণ সংক্রান্ত ‘বহুকারণবাদ’ (Plurality of Causes) বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
যুক্তিবিদ্যায় বহুকারণবাদ অনুসারে, একই কার্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণ দ্বারা উৎপন্ন হতে পারে। অর্থাৎ, একটি কার্যের জন্য কেবল একটি নির্দিষ্ট কারণই সর্বদা দায়ী থাকবে এমন নয়, বরং একাধিক ভিন্ন ভিন্ন কারণ পৃথকভাবে একই কার্য সম্পাদন করতে পারে।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, 'শব্দ' নামক একই কার্যটি বিভিন্ন সময়ে একাধিক ভিন্ন ভিন্ন কারণ যেমন— 'ঘণ্টাধ্বনি', 'হাততালি' এবং 'গাড়ির হর্ন' দ্বারা উৎপন্ন হচ্ছে। এখানে 'শব্দ' হলো একই কার্য এবং ঘণ্টাধ্বনি, হাততালি ও গাড়ির হর্ন হলো এর একাধিক বিকল্প কারণ। যেহেতু এখানে একই কার্যের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন কারণ সংঘটিত হওয়ার চিত্র দেখানো হয়েছে, তাই এটি যুক্তিবিদ্যার বহুকারণবাদ মতবাদকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘বহুকারণবাদ’ তত্ত্বটি বৈজ্ঞানিক ও কঠোর যুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। নিচে এর সপক্ষে মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সাধারণ ও অবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি: সাধারণ মানুষ যখন কোনো কার্যকে বা কারণকে সার্বিক ও শিথিল অর্থে গ্রহণ করে, তখন বহুকারণবাদের উদ্ভব হয়। যেমন— উদ্দীপকে কেবল 'শব্দ' বলা হয়েছে। কিন্তু সূক্ষ্মভাবে বিচার করলে ঘণ্টাধ্বনির শব্দ, হাততালির শব্দ এবং হর্নের শব্দ তরঙ্গদৈর্ঘ্য, তীব্রতা ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা কার্য। অতএব কার্যকে সামান্য বা জাতিগত অর্থে বিবেচনা করায় একাধিক কারণ মনে হয়।
২. কারণকে শিথিল অর্থে গ্রহণ: কারণকেও যদি সূক্ষ্ম ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা হয়, তবে দেখা যাবে যে শব্দ উৎপাদনের মূল বৈজ্ঞানিক কারণ হলো 'বস্তুর কম্পন'। ঘণ্টাধ্বনি, হাততালি বা হর্ন— সবই আসলে কম্পন সৃষ্টির ভিন্ন মাধ্যম মাত্র; মূল কারণ একটাই, তা হলো কম্পন।
৩. কার্যকারণ নিয়মের লঙ্ঘন: বিজ্ঞানের মৌলিক নিয়ম হলো ‘সমকারণ থেকে সমকার্য উৎপন্ন হয়’ এবং প্রতিটি কার্যের কেবল একটিই সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে (কারণ ও কার্যের অনন্যতা)। বহুকারণবাদ স্বীকার করলে প্রকৃতির নিয়মাবর্তিতা ও কার্যকারণ নীতির সর্বজনীনতা ক্ষুণ্ণ হয়।
অতএব, কার্য ও কারণ উভয়কেই সুনির্দিষ্ট এবং বৈজ্ঞানিক অর্থে গ্রহণ করলে বহুকারণবাদ ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়। তাই উদ্দীপকে নির্দেশিত বহুকারণবাদ তত্ত্বটি বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও