অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
চামড়া শিল্প বাংলাদেশের একটি উদীয়মান ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প। এই শিল্পের উৎপাদিত প্রধান দ্রব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে জুতা, ব্যাগ, বেল্ট, অলঙ্কারের বাক্স ইত্যাদি। এই সমস্ত দ্রব্য বিদেশে বিক্রয় করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।
- ক)(1)
কৃষিভিত্তিক শিল্প কী?
- খ)(2)
আমদানি বিকল্প শিল্প বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সাহায্য করে কীভাবে?
- গ)(3)
কতিপয় বৈশিষ্ট্য উল্লেখপূর্বক উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের ধরন চিহ্নিত করো।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত শিল্পটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং এক্ষেত্রে সরকারের করণীয় আলোচনা করো.
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব শিল্পে কৃষিজাত পণ্যকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে নতুন দ্রব্য উৎপাদন করা হয়, সেগুলোকে কৃষিভিত্তিক শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমদানি বিকল্প শিল্প হলো এমন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যা পূর্বে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যসমূহ নিজ দেশেই উৎপাদনের ব্যবস্থা করে। এসব শিল্প অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষম হওয়ায় বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির নির্ভরতা অনেকাংশে কমে যায়। এর ফলে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়। যখন আমদানির পরিমাণ কমে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে বাণিজ্যে ব্যয়ের তুলনায় আয়ের ব্যবধান হ্রাস পায়, তখন তা দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত চামড়া শিল্প মূলত একটি 'রপ্তানিমুখী শিল্প' এবং কাঁচামালের উৎসের দিক থেকে এটি 'কৃষিভিত্তিক বা প্রাণিসম্পদভিত্তিক শিল্প' ও 'ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প'। তবে উদ্দীপকে "এই সমস্ত দ্রব্য বিদেশে বিক্রয় করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়" উল্লেখ থাকায় এটি প্রধানত রপ্তানিমুখী ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
এ শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. কাঁচামালের সহজলভ্যতা: দেশের অভ্যন্তরে গবাদিপশুর চামড়া প্রাথমিক কাঁচামাল হিসেবে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়।
২. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: উৎপাদিত পণ্য যেমন জুতা, ব্যাগ, বেল্ট ইত্যাদি বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।
৩. শ্রমঘন উৎপাদন প্রক্রিয়া: এই শিল্পে প্রচুর দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।
৪. মূল্য সংযোজন (Value Addition): কাঁচা চামড়াকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে চামড়াজাত বিভিন্ন ফ্যাশনেবল পণ্যে রূপান্তরের ফলে উচ্চমাত্রায় মূল্য সংযোজিত হয়।সুতরাং, অভ্যন্তরীণ কাঁচামাল ও স্থানীয় শ্রম ব্যবহার করে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে আয় করায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত চামড়া শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা গেলে তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি চামড়া শিল্পও দেশের প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হতে পারে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা:
১. বাজার সম্প্রসারণ: আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার জুতা, ব্যাগ ইত্যাদির বিশাল বাজার দখল করার সক্ষমতা এ খাতের রয়েছে।
২. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: শিল্পটি শ্রমঘন হওয়ায় ব্যাপক বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।
৩. মূল্য সংযোজনের সুযোগ: তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে উচ্চ মূল্য সংযোজনের বিরাট সুযোগ রয়েছে।সরকারের করণীয়:
১. পরিবেশসম্মত শিল্পনগরী নিশ্চিতকরণ: সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (CETP) পুরোপুরি কার্যকর করা এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মান (LWG সনদ) অর্জনে সহায়তা প্রদান করা।
২. সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা: উদ্যোক্তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও রপ্তানি প্রণোদনা দেওয়া।
৩. দক্ষ জনশক্তি তৈরি: চামড়াজাত পণ্যের নকশা ও উৎপাদনের আধুনিক কৌশল শেখানোর জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা।
৪. নতুন বাজার অনুসন্ধান: কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ইউরোপ, আমেরিকাসহ নতুন নতুন দেশে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত করা।অতএব, সরকারি নীতিগত সহায়তা ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিত পদক্ষেপে চামড়া শিল্প দেশের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও