বাংলা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৬

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

3.

পোশাক শিল্প ও বাংলাদেশ।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

পোশাক শিল্প ও বাংলাদেশ

ভূমিকা:
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও বিগত কয়েক দশকে শিল্পখাতে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এই শিল্পায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প (Readymade Garments বা RMG)। বিশ্ববাজারে 'Made in Bangladesh' ট্যাগটি আজ আমাদের অর্থনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক এবং জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বিকাশ:
ষাটের দশকের শেষভাগে কিংবা সত্তরের দশকের শুরুতে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের প্রাথমিক উদ্যোগ শুরু হলেও মূলত আশির দশকে এই শিল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘটে। 'রিয়াজ গার্মেন্টস' এবং 'দেশ গার্মেন্টস'-এর হাত ধরে বাংলাদেশে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের দ্বার উন্মোচিত হয়। সহজলভ্য সস্তা শ্রম এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের সুবিধায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এ শিল্প অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করে।

জাতীয় অর্থনীতিতে পোশাক শিল্পের অবদান:
বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তৈরি পোশাক খাতের অবদান অপরিসীম:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই (প্রায় ৮০ থেকে ৮৪ শতাংশ) আসে এই তৈরি পোশাক খাত থেকে। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে মৌলিক ভূমিকা পালন করে।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: এ খাতে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষভাবে সুতা, পরিবহন, প্যাকিং, ব্যাংক ও বীমাসহ নানা খাতের কোটি মানুষ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।
৩. নারীর ক্ষমতায়ন: পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের একটি বিশাল অংশ (প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ) নারী। গ্রামীণ প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে সমাজের মূলধারায় তুলে এনেছে এই শিল্প, যা নারীর সামাজিক ক্ষমতায়নে এক নীরব বিপ্লব সাধন করেছে।

পোশাক শিল্পের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জসমূহ:
অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয়:
১. কমপ্লায়েন্স ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: কারখানাগুলোতে আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা একটি চলমান চ্যালেঞ্জ।
২. কাঁচামালের আমদানি-নির্ভরতা: তুলা ও সিন্থেটিক সুতাসহ অন্যান্য কাঁচামালের জন্য বাংলাদেশকে এখনো বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়।
৩. আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও দরপতন: ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং বিদেশি ক্রেতাদের ক্রমাগত পোশাকের দাম কমানোর চাপ।
৪. প্রযুক্তিগত রূপান্তর: আধুনিক অটোমেশন ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সাথে খাপ খাইয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করার চ্যালেঞ্জ।

সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয়:
বর্তমান বিশ্বে পরিবেশবান্ধব বা 'গ্রিন ফ্যাক্টরি' (Green Factory) তৈরিতে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। এই অগ্রগতিকে আরও বেগবান করতে উচ্চমূল্যের (High-end) পোশাক উৎপাদনে নজর দিতে হবে। নতুন নতুন বাজার যেমন—জাপান, অস্ট্রেলিয়া, লাতিন আমেরিকা ও রাশিয়ায় রপ্তানি সম্প্রসারণ করতে হবে। একই সাথে বন্দর ও অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও কল্যাণ সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন।

উপসংহার:
পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুবর্ণ সোপান। লাখ লাখ শ্রমিকের ঘামে রচিত এই শিল্প আমাদের আত্মনির্ভরশীলতার প্রতীক। সরকারি নীতি সহায়তা এবং উদ্যোক্তা-শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশ তার শীর্ষস্থান আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন