অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

'X' দেশের সরকার বর্তমান অর্থবছরে একটি নতুন কর আরোপ করেছে। এই করের করাঘাত এবং করপাত ভিন্নি ভিন্ন ব্যক্তির উপর পড়ে। অর্থাৎ এই করের করভার অন্যের উপর চাপানো যায়। তাছাড়া সরকার তার ব্যয় নির্বাহের জন্য দেশের জনগণ এবং আমেরিকা থেকেও ঋণ গ্রহণ করেছে।

  1. ক)

    সরকারি আয় কী?

    (1)
  2. খ)

    'সরকারি ঋণের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করা' ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সরকার কর্তৃক আরোপিত করটি কী প্রকৃতির? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সরকারি ঋণের উৎসগুলোর মধ্যে কোনটি উত্তম? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি দেশের সরকার তার সার্বিক ব্যয় নির্বাহের জন্য কর ও কর-বহির্ভূত বিভিন্ন উৎস থেকে যে অর্থ সংগ্রহ করে, তাকে সরকারি আয় বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুদ্ধ, মহামারি, অনাবৃষ্টি বা আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জাতীয় জরুরি অবস্থায় সরকারের তাৎক্ষণিক ও বিপুল ব্যয়ভার মেটানোর জন্য সরকারি ঋণ গ্রহণ আবশ্যক হয়ে পড়ে।

    জরুরি পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক রাজস্ব আয় দিয়ে অপ্রত্যাশিত বর্ধিত ব্যয় নির্বাহ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। অধিকন্তু, এ সময় জনগণের ওপর তাৎক্ষণিক নতুন কর আরোপ করা সম্ভব বা যুক্তিসঙ্গত হয় না। তাই দ্রুত ত্রাণ, পুনর্বাসন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস হতে ঋণ গ্রহণ করা অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সরকার কর্তৃক আরোপিত নতুন করটি হলো 'পরোক্ষ কর' (Indirect Tax)।

    যে করের প্রাথমিক চাপ বা আঘাত (Impact of tax) এবং চূড়ান্ত ভার বা করপাত (Incidence of tax) ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ওপর পড়ে, অর্থাৎ যার ওপর কর ধার্য করা হয় তিনি যদি সেই করের ভার অন্যের ওপর স্থানান্তর বা চাপাতে পারেন, তাকে পরোক্ষ কর বলে।

    উদ্দীপকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, করটির করাঘাত এবং করপাত ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির উপর পড়ে এবং এর ভার অন্যের ওপর চাপানো যায়। যেমন— মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) বা আবগারি শুল্ক উৎপাদকদের ওপর ধার্য করা হলেও তারা পণ্যের দামের সাথে যুক্ত করে তা চূড়ান্ত ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়। সুতরাং, উদ্দীপকে আরোপিত করটি একটি পরোক্ষ কর।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সরকারি ব্যয়নির্বাহের জন্য সরকার দুটি উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে— দেশের জনগণের কাছ থেকে (অভ্যন্তরীণ ঋণ) এবং আমেরিকা থেকে (বৈদেশিক ঋণ)। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই দুটি উৎসের মধ্যে 'অভ্যন্তরীণ ঋণ' (দেশের জনগণের থেকে গৃহীত ঋণ) তুলনামূলকভাবে অধিক উত্তম। এর কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. জাতীয় সম্পদ দেশে থাকা: অভ্যন্তরীণ ঋণের ক্ষেত্রে ঋণের আসল ও সুদের অর্থ দেশের নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের হাতেই ফিরে আসে। ফলে জাতীয় সম্পদের বহির্গমন ঘটে না; কেবল এক নাগরিকের হাত থেকে অন্য নাগরিকের হাতে অর্থের স্থানান্তর ঘটে। পক্ষান্তরে, আমেরিকা থেকে গৃহীত বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের সময় জাতীয় সম্পদ বিদেশে চলে যায়।

    ২. সার্বভৌমত্ব ও শর্তহীনতা: বৈদেশিক ঋণের সাথে প্রায়ই বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত কঠোর শর্ত আরোপিত থাকে, যা দেশের স্বাধীনতা ও অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। দেশের জনগণের কাছ থেকে ঋণ নিলে এমন কোনো বাহ্যিক রাজনৈতিক শর্তের ঝুঁকি থাকে না।

    ৩. বৈদেশিক মুদ্রার চাপ হ্রাস: বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে হয়, যা দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে। অভ্যন্তরীণ ঋণে এই সংকট দেখা দেয় না।

    তবে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে যদি বিদেশি মুদ্রার সরাসরি প্রয়োজন থাকে, তখন বৈদেশিক ঋণের ভূমিকা থাকলেও সামগ্রিক ঝুঁকি ও আর্থিক নিরাপত্তার বিচারে দেশের জনগণের কাছ থেকে নেওয়া অভ্যন্তরীণ ঋণই অধিকতর নিরাপদ ও উত্তম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন