ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব মনির ও তাঁর ৬ বন্ধু মিলে কেক, বিস্কুট তৈরির একটি কারখানা গড়ে তোলেন। শহরের আনাচে-কানাচে তারা নিজস্ব ভ্যানে করে পণ্য সরবরাহ করেন। দুই বছর পর মনিরের এক বন্ধু নাঈম প্রতিষ্ঠান হতে চলে যান। তবে তাঁর বিনিয়োগকৃত অর্থ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে রেখে দেন। এর কিছুদিন পর খবর পাওয়া যায় আরেক বন্ধু রিগ্যান ব্যবসায়ে তাঁর নিজের অংশ কাউকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেন।
- ক)(1)
চুক্তিপত্র কী?
- খ)(2)
অংশীদারি ব্যবসায় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আইনগত বাধ্যবাধকতা অবশ্যই পালনীয়”- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
জনাব মনিরের প্রতিষ্ঠানটি কোন কোন উপযোগ সৃষ্টি করে? ব্যাখ্যা কর
- ঘ)(4)
জনাব নাঈমের অংশীদারিত্বের ধরন বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ অবস্থা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অংশীদারি ব্যবসায় পরিচালনার নিয়মাবলি ও অংশীদারদের পারস্পরিক অধিকার, দায়-দায়িত্ব সংবলিত লিখিত দলিলকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায় গঠনে নিবন্ধন আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। তবে নিবন্ধন না থাকলে প্রতিষ্ঠানটি কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ১০০ টাকার বেশি পাওনা আদায়ের জন্য মামলা করতে পারে না এবং পারস্পরিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনগত অসুবিধার মুখোমুখি হয়। তাই ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা এড়াতে চুক্তি সম্পাদন ও নিবন্ধনজনিত আনুষ্ঠানিকতাগুলো পালনীয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব মনিরের প্রতিষ্ঠানটি মূলত রূপগত উপযোগ ও স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি করে।
উৎপাদনের মাধ্যমে কোনো পণ্যের আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলাকে রূপগত উপযোগ বলে। অন্যদিকে, পরিবহনের মাধ্যমে পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানোকে স্থানগত উপযোগ বলে।
উদ্দীপকে জনাব মনির ও তাঁর বন্ধুরা ময়দা, চিনি ইত্যাদি কাঁচামাল প্রক্রিয়া করে কেক ও বিস্কুট তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন, যা রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি তারা নিজস্ব ভ্যানে করে শহরের আনাচে-কানাচে গ্রাহকদের কাছে এই পণ্য সরবরাহ করেন, যার মাধ্যমে স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি হয়। অতএব, প্রতিষ্ঠানটি রূপগত ও স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব নাঈমের অংশীদারিত্বের ধরন বিবেচনায় তিনি মূলত একজন ঋণদাতা বা সীমিত/সুপ্ত অংশীদারের মর্যাদা পেলেও সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটি অবলুপ্তির ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
অংশীদারি কারবার থেকে কোনো অংশীদার অবসর গ্রহণের পরও যদি তাঁর বিনিয়োগকৃত মূলধন কারবার থেকে তুলে না নিয়ে ঋণ হিসেবে বা মুনাফার অংশে প্রতিষ্ঠানে রেখে দেন, তবে তিনি একজন ঋণদাতা অংশীদার বা সীমাবদ্ধ অংশীদার হিসেবে গণ্য হন। তবে ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী সকল অংশীদারের সম্মতি ছাড়া কোনো অংশীদার তাঁর অংশ তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করতে পারে না; এমনটি ঘটলে ব্যবসায়ের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়।
উদ্দীপকে নাঈম কারবার ত্যাগ করলেও তাঁর বিনিয়োগকৃত অর্থ প্রতিষ্ঠানে রেখে দেন, ফলে তাঁর দায় তাঁর রাখা অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু এর পরপরই আরেক বন্ধু রিগ্যান কারো সম্মতি না নিয়েই নিজের অংশ বিক্রি করে দেন। অংশীদারি আইন অনুসারে, অন্য অংশীদারদের সম্মতি ব্যতিরেকে অংশ হস্তান্তর অংশীদারি চুক্তির মৌলিক শর্ত ভঙ্গ করে। এর ফলে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের অভাব দেখা দেয় এবং আদালত কর্তৃক বা অংশীদারদের সিদ্ধান্তে ব্যবসায়টি বিলোপসাধনের মুখে পড়তে পারে।
সুতরাং, নাঈমের মূলধন রেখে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটির জন্য সাময়িক অর্থায়নের সুযোগ রাখলেও রিগ্যানের অবৈধ অংশ বিক্রির কারণে অংশীদারি ব্যবসায়টির ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব হুমকির মুখে এবং বিলুপ্তির পথেই ধাবিত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও