‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।"

  1. ক)

    পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন কে জারি করেন?

    (1)
  2. খ)

    "রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি" কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত বক্তব্যটি যে ভাষণের অংশবিশেষ তার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে উক্ত ভাষণের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা (১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি আদায় ও আন্দোলন পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত সর্বদলীয় পরিষদ বা সংস্থাকে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি' বলা হয়।

    ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সর্বদলীয়ভাবে এ কমিটির পুনর্গঠন ঘটে, যার চূড়ান্ত রূপ ছিল ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি গঠিত 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'। এই কমিটি ভাষা আন্দোলনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বক্তব্যটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের কালজয়ী অংশবিশেষ। এর প্রেক্ষাপট ছিল তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার অন্যায় অবিচার ও শাসনতান্ত্রিক ষড়যন্ত্র।

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে তালবাহানা ও গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ৩ মার্চ ১৯৭১ ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ১ মার্চ হঠাৎ স্থগিত ঘোষণা করা হলে পূর্ব বাংলায় তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়।

    বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এই চরম রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও পাকিস্তানি সামরিক শক্তির নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু উপস্থিত লাখ লাখ জনতার উদ্দেশ্যে এই ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন এবং বাঙালিকে মুক্তির চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ছিল মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা ও চূড়ান্ত মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল।

    ১. স্বাধীনতার স্পষ্ট দিকনির্দেশনা: বঙ্গবন্ধু এই ভাষণে বাঙালি জাতিকে চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। "তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে"—এই আহ্বানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার মানসিক শক্তি পায়।
    ২. অসহযোগ আন্দোলনের নির্দেশনা: এই ভাষণের মাধ্যমে ট্যাক্স-খাজনা বন্ধ করাসহ পাকিস্তান সরকারের সাথে সব ধরনের অসহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়, যার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের শাসনভার প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধুর হাতে চলে আসে।
    ৩. গেরিলা যুদ্ধের কৌশল: আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কীভাবে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে প্রতিরোধ করতে হবে, তিনি তার স্পষ্ট নির্দেশনা দেন।
    ৪. জাতীয় ঐক্য ও প্রেরণা: ভাষণটি সমগ্র বাঙালি জাতিকে একটি অভিন্ন লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে এই ভাষণ মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

    পরিশেষে বলা যায়, ৭ই মার্চের ভাষণ কেবল একটি ভাষণ নয়, এটি একটি জাতির মুক্তির দলিল। এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেই ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এটিকে 'বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য' (Memory of the World) হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন