বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
এক সময়ে শহরের পাড়ায় পাড়ায় ছিল মাঠ। খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে কেটে যেত পলাশ ও কাজলের শৈশব কৈশোরের দুরন্ত দিনগুলো। লেখাপড়ার পাশাপাশি সুস্থ বিনোদনের সুযোগ ছিল বলে তারা অসৎ সঙ্গে পড়ে বিপথে যাননি। আজ বৃদ্ধ বয়সেও তাদের বন্ধুত্ব অটুট। এক সঙ্গে প্রাতঃভ্রমণের সময়ে বিশ্রাম নেয়া এবং খবরের কাগজ পড়া তাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। একদিন খবরের একটি শিরোনামে দুজনারই চোখে আটকে যায় 'কিশোর গ্যাঙের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ নগরবাসী।
- ক)(1)
আঠারো বছর বয়স কী জানে?
- খ)(2)
"তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি।" চরণটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'কিশোর গ্যাঙের তাণ্ডব'—'আঠারো বছর বয়স' কবিতার কোন দিকটি নির্দেশ করে? বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকটি কি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার ভাবার্থের প্রতিচ্ছবি?”— তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আঠারো বছর বয়স রক্তদানের পুণ্য জানে (অথবা, আঠারো বছর বয়স কাঁদতে জানে না)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি" চরণটির মাধ্যমে কবি তারুণ্যের যাবতীয় বিপদ-আপদ, দ্বিধা ও ভুলের ঊর্ধ্বে উঠে ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী শক্তির জয়গান গেয়েছেন।
আঠারো বছর বয়সে পদে পদে ভুল করার, বিপথগামী হওয়ার এবং আঘাত সয়ে রক্ত ঝরানোর ঝুঁকি থাকে। তা সত্ত্বেও কবি দেখেছেন—এই বয়সের তরুণরাই সব অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়, দুর্যোগে পথ দেখায় এবং দেশ ও জাতির নবজাগরণ ঘটায়। তাই কবি তারুণ্যের সেই সৃজনশীল, নির্ভীক ও অপরাজেয় চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আঠারোর জয়ধ্বনি শোনার কথা বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'কিশোর গ্যাঙের তাণ্ডব'—'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত তারুণ্যের ভুল পথে পরিচালিত হওয়া এবং আত্মঘাতী ও নেতিবাচক দিকটি নির্দেশ করে।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি উল্লেখ করেছেন যে, এ বয়সে তীব্র আবেগে তরুণরা অজানার আহ্বানে ঝাঁপিয়ে পড়ে, যার ফলে বহু দুর্যোগ ও বিপদের ঝুঁকি থাকে। কবি বলেছেন—"এ বয়সে জখম হয় তাজা প্রাণ, এ বয়সে তাই রক্তদানের পুণ্য/ এ বয়স যেন ভীরু, কাপুরুষ নয়/ এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর/ এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা"। সুপথে পরিচালনার অভাব হলে এ বয়স সহজেই বিপথগামী হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত কিশোর গ্যাং ঠিক তেমনি সুস্থ বিনোদন ও সঠিক নির্দেশনার অভাবে ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হয়ে সমাজে তাণ্ডব চালাচ্ছে। তাই উদ্দীপকের কিশোর গ্যাঙের তাণ্ডব কবিতায় নির্দেশিত তারুণ্যের কুপথগামী হওয়ার ঝুঁকির দিকটিকেই প্রকাশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকটি কি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার ভাবার্থের প্রতিচ্ছবি?”— না, উদ্দীপকটি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সামগ্রিক ভাবার্থের প্রতিচ্ছবি নয়, বরং এটি কবিতার একটি আংশিক বা নেতিবাচক দিকের প্রতিফলন মাত্র।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য যৌবনের ইতিবাচক ও কল্যাণকর রূপটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এ বয়স অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে জানে, পরাধীনতা ও জড়তা ভাঙতে পারে এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য আত্মাহুতি দিতে দ্বিধাহীন থাকে। দুর্যোগের মুখেও এ বয়স নতুন প্রাণ সঞ্চার করে এবং কবির চরম প্রত্যাশা—"এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে"। ফলে তারুণ্যের ইতিবাচক সংকল্প ও মহত্ত্বই এ কবিতার মূল ভাবার্থ।
অন্যদিকে, উদ্দীপকে কেবল খেলাধুলার সুযোগের অভাব এবং অসৎ সঙ্গের প্রভাবে কিশোরদের বিপথগামী হওয়া ও কিশোর গ্যাঙের তাণ্ডবের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। তারুণ্যের যে আত্মত্যাগ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম, সাহসিকতা এবং দেশ গড়ার প্রত্যয়—তার কোনো উল্লেখ উদ্দীপকে নেই।
অতএব, উদ্দীপকটি তারুণ্যের সংকটের একটি নেতিবাচক অংশ ছুঁয়ে গেলেও 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সামগ্রিক ও ইতিবাচক ভাবার্থকে ধারণ করে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও