‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. 'X' পেশায় একজন শিক্ষক। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য জ্ঞাপন করেন, আইন মেনে চলেন। যোগ্য নেতাকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের উপযুক্ত মানুষ হওয়ার প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি মানবাধিকারকে নাগরিক অধিকার ও কর্তব্যের পরিপূরণ বলে মন্তব্য করেন।

  1. ক)

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ গৃহীত হয় কত সালে?

    (1)
  2. খ)

    মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    "রাষ্ট্রের প্রতি মি. 'X' এর দায়িত্ব' এবং প্রাপ্ত সুবিধা পরস্পরের পরিপূরক।" পৌরনীতির আলোকে ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উপদ্দীপকের মি. 'X' এর শেষের উক্তিটি যুক্তির আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ (Universal Declaration of Human Rights) ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মৌলিক অধিকার বলতে সেইসব অধিকারকে বোঝায় যা একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য এবং যা দেশের সংবিধানে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে।

    এই অধিকারগুলো রাষ্ট্র কর্তৃক নিশ্চিত ও বিচার বিভাগ দ্বারা সংরক্ষিত হয়। কোনো নাগরিক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে বা তা লঙ্ঘিত হলে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে। জীবনধারণ, বাকস্বাধীনতা, সাম্য প্রভৃতি মৌলিক অধিকারের উদাহরণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পৌরনীতি ও সুশাসনের দৃষ্টিতে অধিকার ও কর্তব্য অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত; একজনের দায়িত্ব পালনই অন্যের অধিকার ভোগের সুযোগ করে দেয়, তাই তারা পরস্পরের পরিপূরক।

    উদ্দীপকে মি. 'X' একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য জ্ঞাপন করেন, আইন মেনে চলেন, এবং যোগ্য নেতাকে ভোট দেন। নাগরিক হিসেবে এগুলো হলো তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। রাষ্ট্র যখন এই আইনানুগ পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা পায়, তখন রাষ্ট্র নাগরিকদের নিরাপত্তা, বাকস্বাধীনতা, শিক্ষার পরিবেশ এবং নানাবিধ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বা অধিকার প্রদান করে।

    নাগরিকেরা যদি দায়িত্ব পালন না করত, তবে রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়ত এবং কোনো অধিকারই নিশ্চিত করতে পারত না। একইভাবে, অধিকার নিশ্চিত না হলে নাগরিক দায়িত্ব পালনে আগ্রহ হারায়। মি. 'X' রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও দায়িত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় অধিকার বা সুবিধা ভোগ করছেন। ফলে পৌরনীতির আলোকে তাঁর দায়িত্ব ও প্রাপ্ত সুবিধা পরস্পরের পরিপূরক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মি. 'X'-এর শেষের উক্তিটি হলো—"মানবাধিকার নাগরিক অধিকার ও কর্তব্যের পরিপূরক"। উক্তিটি রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও পৌরনীতির আলোকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।

    মানবাধিকার হলো মানুষ হিসেবে জন্মগতভাবে প্রাপ্ত সার্বজনীন অধিকার, যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও দেশ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। অন্যদিকে, নাগরিক অধিকার হলো কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। আবার নাগরিক কর্তব্য হলো রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের দায়বদ্ধতা ও আচরণীয় দায়িত্ব।

    একটি রাষ্ট্রে যখন মানবাধিকারের স্বীকৃতি থাকে, তখন তা নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের রূপ পরিগ্রহ করে। উদাহরণস্বরূপ, জীবনের নিরাপত্তা এবং মতামত প্রকাশের অধিকার একই সাথে মানবাধিকার এবং নাগরিক অধিকার। এই অধিকারগুলো সুরক্ষার জন্য নাগরিককে রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করতে হয়, যেমন—আইন মান্য করা, নিয়মিত কর প্রদান করা এবং ভোট প্রদান করা।

    মি. 'X' সঠিকভাবেই উপলব্ধি করেছেন যে, মানবাধিকার কেবল বিমূর্ত কোনো ধারণা নয়; রাষ্ট্রীয় পরিসরে এটি অধিকার ও কর্তব্যের মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমেই বাস্তবে রূপ পায়। নাগরিকরা যদি তাদের কর্তব্য পালন না করে, তবে সমাজে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। পক্ষান্তরে, রাষ্ট্র যদি মানবাধিকার নিশ্চিত করে, তবে নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্তব্য পালন করে। অতএব, যুক্তিগ্রাহ্যভাবেই মানবাধিকার নাগরিক অধিকার ও কর্তব্যের পরিপূরক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন