‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল • আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

ড. নাদিম পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি মনে করেন কেবল আইনই স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না। মানুষ বিবেকবোধ, ন্যায়নীতি, উচিত-অনুচিতের দ্বারাও পরিচালিত হয়। সেগুলো আইন থেকে পৃথক। তিনি বিশ্বাস করেন সমাজে যদি বৈষম্য বিরাজ করে তাহলে স্বাধীনতাকখনও ফলপ্রসু হয় না। তাই ড. নাদিম স্বাধীনতাকে ফলপ্রসু করতে অর্থনৈতিক সাম্যের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

  1. ক)

    মূল্যবোধ কী?

    (1)
  2. খ)

    "সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন।"- কেন?

    (2)
  3. গ)

    ড. নাদিম বিবেকবোধ, ন্যায়নীতিকে আইন থেকে পৃথক বলেছেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষ লাইন ড. নাদিম এর মতামতের সাথে তুমি কি। একমত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণের মানদণ্ড বা বিশ্বাসের সমষ্টি, যা সমাজের মানুষের ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত এবং ন্যায়-অন্যায় নির্ধারণ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত না থাকলে স্বাধীনতা কেবল সমাজের মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী শ্রেণির সুবিধায় পরিণত হয়, তাই সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা অর্থহীন।

    নাগরিকদের মধ্যে যদি অর্থনৈতিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক বৈষম্য বিরাজ করে, তবে সাধারণ মানুষ তাদের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে ভোগ করতে পারে না। যেমন, সমাজে যদি অর্থনৈতিক সাম্য না থাকে, তবে দরিদ্র মানুষ ক্ষুধার তাড়নায় ধনীদের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হয়, যার ফলে তাদের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়ে। তাই স্বাধীনতার বাস্তব সুফল পেতে সাম্যের উপস্থিতি অপরিহার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ড. নাদিম বিবেকবোধ ও ন্যায়নীতিকে আইন থেকে পৃথক বলেছেন কারণ এদের প্রকৃতি, প্রয়োগপদ্ধতি ও বাধ্যবাধকতা ভিন্ন।

    আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও স্বীকৃত বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি, যা অমান্য করলে শাস্তির বিধান রয়েছে। পক্ষান্তরে, বিবেকবোধ, ন্যায়নীতি এবং উচিত-অনুচিতবোধ হলো ব্যক্তির নৈতিকতা বা আত্মিক বিষয়, যা মানুষের অভ্যন্তরীণ চেতনা দ্বারা পরিচালিত হয়। নৈতিকতা অমান্য করলে কোনো রাষ্ট্রীয় বা বাহ্যিক শাস্তির বিধান নেই; ব্যক্তি কেবল সমাজের ভর্ৎসনা বা নিজের বিবেকের দংশনে ভোগে।

    উদ্দীপকে আইনজীবী ড. নাদিম লক্ষ্য করেছেন যে, মানুষের কেবল রাষ্ট্রীয় আইন মানাই যথেষ্ট নয়, সুস্থ সমাজ গঠনে নৈতিক মূল্যবোধও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৈতিকতা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতির সাথে জড়িত এবং এটি সার্বজনীন চেতনাভিত্তিক, যা বাহ্যিক কোনো রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কার্যকর করা যায় না। এ কারণেই তিনি বিবেকবোধ ও ন্যায়নীতিকে রাষ্ট্রীয় বাহ্যিক আইন থেকে পৃথক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষ লাইনে ড. নাদিম স্বাধীনতাকে ফলপ্রসূ করতে অর্থনৈতিক সাম্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন—উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

    পৌরনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্বাধীনতা এবং সাম্যকে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থনৈতিক সাম্য বলতে এমন এক পরিস্থিতিকে বোঝায় যেখানে সবার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ থাকে এবং সমাজে তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকে না। সমাজে চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য বজায় থাকলে সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে পড়ে।

    উদ্দীপকের ড. নাদিম যথাযথভাবেই বিশ্বাস করেন যে, সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকলে স্বাধীনতা কখনো ফলপ্রসূ হয় না। কোনো ব্যক্তি যদি অনাহারে থাকে বা তার অন্ন, বস্ত্র ও আশ্রয়ের নিশ্চয়তা না থাকে, তবে তার বাকস্বাধীনতা, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা ভোটাধিকারের কোনো বাস্তব মূল্য থাকে না। অর্থনৈতিকভাবে পরাধীন ব্যক্তি অনেক সময় বিত্তবানদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হতে বাধ্য হয়। ফলে সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা একটি অলীক কল্পনায় রূপ নেয়।

    সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বাধীনতাকে অর্থপূর্ণ ও ফলপ্রসূ করতে হলে সবার আগে অর্থনৈতিক সাম্য নিশ্চিত করা আবশ্যক। অতএব, ড. নাদিমের মতামতটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন