বাংলা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
10.
(ক) সারমর্ম লেখো:সবারে বাসিব ভালো, করিব না আত্মপর ভেদসংসারে গড়িব এক নতুন সমাজ।মানুষের সাথে কভু মানুষের রবে না বিচ্ছেদ-সর্বত্র মৈত্রীর ভাব করিবে বিরাজ।দেশে দেশে যুগে যুগে কত যুদ্ধ কত না সংঘাতমানুষে মানুষে হলো কত হানাহানি।এবার মোদের পুণ্যে সমুদিবে প্রেমের প্রভাতসোল্লাসে গাহিবে সবে সৌহার্দ্যের বাণী।অথবা,(খ) ভাবসম্প্রসারণ করো:স্বদেশের উপকারে নেই যার মন কে বলে মানুষ তারে? পশু সেই জন।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) সারমর্ম:
যুদ্ধ, সংঘাত ও ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলতে হবে এক নতুন মানবিক সমাজ। হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে বিশ্বজুড়ে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মৈত্রীর আদর্শ প্রতিষ্ঠা করাই মানবজীবনের মূল সার্থকতা।
অথবা, (খ) ভাবসম্প্রসারণ:
মূলভাব:
স্বদেশের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা মানুষের এক অপরিহার্য গুণ। যার হৃদয়ে দেশের প্রতি মমত্ববোধ নেই এবং যে দেশের কল্যাণে এগিয়ে আসে না, সে বাহ্যত মানুষ হলেও নৈতিকভাবে পশুরই সমতুল্য।
সম্প্রসারিত ভাব:
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তার শারীরিক অবয়বে নয়, তার মহৎ গুণাবলী, বিবেক এবং পরার্থপরতায়। যে দেশে মানুষ জন্মগ্রহণ করে, সে দেশের আলো-বাতাস, ফলমূল ও প্রাকৃতিক সম্পদে সে লালিত-পালিত হয়। তাই জন্মভূমির প্রতি প্রতিটি মানুষের থাকে অশেষ ঋণ। এই ঋণ পরিশোধের একমাত্র উপায় হলো নিঃস্বার্থভাবে দেশের সেবা ও কল্যাণ সাধন করা।
যে ব্যক্তি দেশের উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত করে না, দেশের দুর্যোগে উদাসীন থাকে কিংবা কেবল নিজের সংকীর্ণ স্বার্থ চরিতার্থে মত্ত থাকে, সে মনুষ্যত্বহীন। পশু কেবল নিজের আহার ও দৈহিক প্রয়োজন মেটাতে বাঁচে; অন্যের বা পারিপার্শ্বিকতার প্রতি তার কোনো দায়িত্ববোধ থাকে না। কোনো মানুষ যদি স্বদেশের প্রতি এমন উদাসীন ও দায়িত্বহীন আচরণ করে, তবে তার সাথে পশুর কোনো মৌলিক তফাত থাকে না। ইতিহাসেও কেবল তারাই অমর হয়ে থাকেন, যাঁরা স্বদেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছেন।
মন্তব্য:
দেশপ্রেম মানবজীবনের এক পবিত্রতম অনুভূতি। তাই দেশ ও জাতির কল্যাণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে প্রকৃত মানুষের মতো জীবনযাপন করা প্রত্যেক নাগরিকের পরম কর্তব্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও