যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
গ্রিক দার্শনিক প্লেটো মানুষ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন, "মানুষ হলো পাখাবিহীন দ্বিপদী জীব।" কিন্তু যুক্তিবিদরা বলেছেন, "মানুষ হলো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব।"
- ক)(1)
নেতিবাচক সংজ্ঞা কী?
- খ)(2)
একক বস্তুর সংজ্ঞা দেওয়া যায় না কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত মানুষ সম্পর্কে প্লেটোর ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্লেটো ও যুক্তিবিদদের ধারণায় ইঙ্গিতকৃত বিষয় দুটি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তুলনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সংজ্ঞায় কোনো পদের সংজ্ঞায়নে ইতিবাচক বা সদর্থক ভাষা ব্যবহারের পরিবর্তে নঞর্থক বা নেতিবাচক ভাষা ব্যবহার করা হয়, তাকে নেতিবাচক সংজ্ঞা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একক বস্তুর কোনো সুনির্দিষ্ট আসন্নতম জাতি ও লক্ষণ বা ব্যবচ্ছেদক গুণ না থাকায় তার যৌক্তিক সংজ্ঞা দেওয়া যায় না।
যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়মানুসারে কোনো পদের সংজ্ঞা দিতে হলে তার আসন্নতম জাতি এবং লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। একক বস্তুর মধ্যে অসংখ্য অবান্তর লক্ষণ বা ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে, যা থেকে মৌলিক সাধারণ গুণাবলি পৃথক করা যায় না। তাই একক বস্তুর ক্ষেত্রে কেবল বর্ণনা সম্ভব, কিন্তু সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মানুষ সম্পর্কে প্লেটোর ধারণাটি যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়মলঙ্ঘনজনিত ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞাকে নির্দেশ করে।
যুক্তিবিদ্যার নিয়মানুসারে, কোনো পদের সংজ্ঞায় কেবল পদটির আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু প্লেটো মানুষকে বলেছেন "পাখাবিহীন দ্বিপদী জীব"।
এখানে 'পাখাবিহীন' কথাটি একটি নেতিবাচক ও অবান্তর লক্ষণ এবং 'দ্বিপদী' কথাটিও মানুষের কোনো মৌলিক বা অনিবার্য সারসত্তা (বুদ্ধিবৃত্তি) নয়, বরং এটি একটি উপলক্ষণ বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য। প্লেটো মানুষের অপরিহার্য জাত্যর্থ উল্লেখ না করে বাহ্যিক ও অবান্তর গুণ উল্লেখ করেছেন, যার ফলে সংজ্ঞার চতুর্থ ও পঞ্চম নিয়মের লঙ্ঘন ঘটেছে। ফলে এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞায় পরিণত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্লেটোর ধারণা মূলত 'অবান্তর লক্ষণভিত্তিক ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞা' এবং যুক্তিবিদদের ধারণা 'যৌক্তিক সংজ্ঞা'কে নির্দেশ করে। নিম্নে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এদের তুলনা করা হলো:
১. জাত্যর্থের প্রকাশ: যুক্তিবিদদের সংজ্ঞায় মানুষের জাত্যর্থের পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে। মানুষের জাত্যর্থ হলো জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি। যুক্তিবিদরা 'জীব' বলে আসন্নতম জাতি এবং 'বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন' বলে বিভেদক লক্ষণ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, প্লেটোর বক্তব্যে মানুষের জাত্যর্থ উপেক্ষিত হয়ে বাহ্যিক রূপ প্রকাশ পেয়েছে।
২. নিয়মানুগতা: যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম অনুযায়ী কোনো পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হয়—না বেশি, না কম। যুক্তিবিদরা এটি যথাযথভাবে মেনে চলেছেন। বিপরীতে, প্লেটো জাত্যর্থ বাদ দিয়ে নেতিবাচক ও উপলক্ষণভিত্তিক গুণের অবতারণা করে সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন।
৩. বিজ্ঞানসম্মত গ্রহণযোগ্যতা: যুক্তিবিদদের ধারণাটি যৌক্তিক, অবিতর্কিত ও সার্বজনীন। পক্ষান্তরে, প্লেটোর সংজ্ঞায় অন্য কোনো পাখাবিহীন দ্বিপদী প্রাণীর সাথে মানুষের বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।
সুতরাং বলা যায়, যুক্তিবিদদের ধারণাটি একটি আদর্শ ও যথার্থ যৌক্তিক সংজ্ঞা, আর প্লেটোর ধারণাটি সংজ্ঞার নিয়মবহির্ভূত একটি বর্ণনা মাত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও