ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মধ্যস্বত্বব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ২০১০ সালে আনন্দপুরের তাঁত শিল্পীরা একটি সমবায় সমিতি গঠন করে। ২০১২ সাল পর্যন্ততাদের অর্জিত মুনাফার পরিমাণ ছিল নিম্নরূপ:তারা বিধিবদ্ধ ন্যূনতম হারে সঞ্চিতি তহবিল সংরক্ষণ করে ২০,০০০ টাকার একটি নতুন তাঁতকল কেনার চিন্তা করছে।
বছর | ২০১০ | ২০১১ | ২০১২
মুনাফা | ৩০,০০০ টাকা | ৩৫,০০০ টাকা | ৪০,০০০ টাকা
- ক)(1)
সমবায় সমিতি কী?
- খ)(2)
উৎপাদক সমবায় সমিতির মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের সমবায় সংগঠন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমমনা ও সমশ্রেণির কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের অর্থনৈতিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে সমবায় আইনের অধীনে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, তাকে সমবায় সমিতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদকদের মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থেকে রক্ষা করে সরাসরি কাঁচামাল সংগ্রহ, দক্ষতার সাথে পণ্য উৎপাদন এবং তা ন্যায্যমূল্যে ভোক্তার কাছে বিক্রয় করার সুযোগ নিশ্চিত করাই উৎপাদক সমবায় সমিতির মূল উদ্দেশ্য।
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উৎপাদকরা এককভাবে পুঁজির অভাব, কাঁচামালের চড়ামূল্য ও উপযুক্ত বাজারজাতকরণের সমস্যার সম্মুখীন হন। এই সমিতি সদস্যদের একত্রিত করে উৎপাদন খরচ হ্রাস করতে এবং উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত মূল্য পেতে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি একটি 'উৎপাদক সমবায় সমিতি'।
একই ধরনের পণ্য উৎপাদনকাজে নিয়োজিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উৎপাদকরা তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা, ন্যায্যমূল্যে কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণ সংগ্রহ এবং উৎপাদিত পণ্য লাভজনক মূল্যে বিক্রয়ের সুবিধার্থে যে সমিতি গঠন করে, তাকে উৎপাদক সমবায় সমিতি বলে।
উদ্দীপকে আনন্দপুরের তাঁত শিল্পীরা মধ্যস্বত্বব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সমবেত হয়ে একটি সমবায় সমিতি গঠন করে। তাঁতিরা মূলত বস্ত্র বা কাপড় উৎপাদনকারী। তাঁতকল ও কাপড় উৎপাদনের সাথে জড়িত এই উৎপাদক শ্রেণির পেশাজীবীরা নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য এ সমিতি গঠন করায় এটি স্পষ্টতই উৎপাদক সমবায় সমিতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকের তাঁত শিল্পীদের সমিতিটির নতুন তাঁতকল কেনার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
বাংলাদেশ সমবায় সমিতি আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর অর্জিত মোট বা নীট মুনাফার ন্যূনতম ১৫% বাধ্যতামূলকভাবে সাধারণ সঞ্চিতি তহবিলে এবং ন্যূনতম ৩% সমবায় উন্নয়ন তহবিলে সংরক্ষণ করতে হয়। বাকি অংশ সদস্যদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন বা বিশেষ কোনো কল্যাণমূলক তহবিল গঠন ও সমিতি উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা যায়।
উদ্দীপকে তিন বছরের অর্জিত মুনাফার হিসাব:
২০১০ সালে মুনাফা = ৩০,০০০ টাকা
২০১১ সালে মুনাফা = ৩৫,০০০ টাকা
২০১২ সালে মুনাফা = ৪০,০০০ টাকা
মোট মুনাফা = (৩০,০০০ + ৩৫,০০০ + ৪০,০০০) = ১,০৫,০০০ টাকা।যদি সমিতিটি বিধিবদ্ধ ন্যূনতম হার (১৫% সঞ্চিতি তহবিল এবং ৩% সমবায় উন্নয়ন তহবিল, মোট ১৮%) সংরক্ষণ করে, তবে সংরক্ষিত অর্থের পরিমাণ হবে:
১,০৫,০০০ টাকার ১৮% = ১৮,৯০০ টাকা।
বিধিবদ্ধ তহবিল সংরক্ষণের পর সমিতির হাতে অবশিষ্ট থাকে:
(১,০৫,০০০ - ১৮,৯০০) = ৮৬,১০০ টাকা।
অথবা শুধু ১৫% সঞ্চিতি তহবিলের হিসাব ধরলেও (১,০৫,০০০ এর ১৫% = ১৫,৭৫০ টাকা), অবশিষ্ট মুনাফা থাকে ৮৯,২৫০ টাকা।নতুন একটি তাঁতকল কিনতে ব্যয় হবে ২০,০০০ টাকা। দেখা যাচ্ছে যে, সঞ্চিতি ও বিধিবদ্ধ তহবিল আলাদা রাখার পরেও সমিতির তহবিলে ৮৬,১০০ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে, যা থেকে খুব সহজেই ২০,০০০ টাকা ব্যয়ে নতুন তাঁতকল ক্রয় করা সম্ভব। অতএব, সমিতির এই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত ও সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও