সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

গ্রামের ছিন্নমূল অসহায় মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ১৯৭৪ সালে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। যা বর্তমানে ৪৮৫টি উপজেলায় বিদ্যমান রয়েছে। এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামে বসবাসরত জনগণের জীবনমান উন্নয়ন করা।

  1. ক)

    মানবাধিকার কী?

    (1)
  2. খ)

    কিশোর আদালত বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত কর্মসূচিটির র্যক্রম বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়নে উদ্দীপকের ৪৮৫টি উপজেলায় বাস্তবায়িত কার্যক্রমটির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষের মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজ স্বীকৃত অপরিহার্য অধিকারসমূহকে মানবাধিকার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কিশোর আদালত হলো আইনের সংস্পর্শে আসা বা অপরাধে জড়িত অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের বিচার ও সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ ধরনের আদালত। সাধারণ আদালতের ন্যায় কঠোর শাস্তিমূলক পরিবেশের বদলে অনানুষ্ঠানিক, সহমর্মিতাপূর্ণ ও সংশোধনমূলক প্রক্রিয়ায় কিশোরদের সংশোধন ও পুনর্বাসন করাই এ আদালতের মূল লক্ষ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত কর্মসূচিটি হলো বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত 'পল্লী সমাজসেবা কর্মসূচি' (Rural Social Services - RSS)। এর কার্যক্রমসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. দল গঠন ও জরিপ: গ্রামের দরিদ্র, ভূমিহীন ও সুবিধাবঞ্চিত নারী-পুরুষদের আর্থ-সামাজিক জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করে তাদের নিয়ে লক্ষ্যভুক্ত দল গঠন করা হয়।
    ২. সুদবিহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রদান: দরিদ্র পরিবারগুলোকে ক্ষুদ্র আবর্তনশীল তহবিল থেকে জামানতবিহীন ও সুদবিহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হয়।
    ৩. দক্ষতা উন্নয়ন ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ: হাঁস-মুরগি পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য চাষ ও কৃষিকাজে সদস্যদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
    ৪. সচেতনতা বৃদ্ধি: প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি, মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং স্যানিটেশন বিষয়ে শিক্ষা ও সচেতনতা প্রদান করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উদ্দীপকে নির্দেশিত ৪৮৫টি উপজেলায় বাস্তবায়িত 'পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম' (RSS)-এর কার্যকারিতা অত্যন্ত ব্যাপক ও ইতিবাচক। নিচে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি: জামানতহীন ও সহজ শর্তে আবর্তনশীল ঋণ সুবিধার ফলে দরিদ্র মানুষ আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছে, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
    ২. নারীর ক্ষমতায়ন: গ্রামীণ নারীদের দলে সংগঠিত করে আয়বর্ধক কাজের সাথে সম্পৃক্ত করার ফলে পরিবারে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
    ৩. জীবনমান উন্নয়ন: সদস্যদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পানি এবং স্যানিটেশন বিষয়ে সচেতন করার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের জীবনযাত্রার গুণগত মান উন্নত হয়েছে।
    ৪. মূলধনের অপচয় রোধ: নিজস্ব সঞ্চয় ও ঋণ তহবিল সঠিকভাবে পরিচালনার শিক্ষা দেওয়ায় গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে সঞ্চয়ের মানসিকতা তৈরি হয়েছে।

    যদিও অপর্যাপ্ত বাজেট ও তদারকির অভাবের মতো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও সমন্বিত গ্রামীণ উন্নয়নের কার্যকর মডেল হিসেবে পল্লী সমাজসেবা কর্মসূচি বাংলাদেশে অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করে আসছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন