ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. জালাল শাহ “জয়হার টেক্সটাইল লি.”-এর একজন কর্মকর্তা। তিনি কোম্পানির নীতি আদর্শ কর্মপদ্ধতি পরিকল্পনা কর্মোদ্যোগ প্রভৃতি নিয়ে কাজ করেন। মিঃ আহসান ঐ প্রতিষ্ঠানেরই অন্য একজন কর্মকর্তা। তিনি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে কর্মীদের পরিচালনা করেন। তাদের উভয় কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানটি একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি।

  1. ক)

    ব্যবস্থাপনা কী?

    (1)
  2. খ)

    বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    মি. জালাল শাহ ও মি. আহসান প্রতিষ্ঠানটির কোন কোন পর্যায়ে কাজ করেন— ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মি. জালাল শাহ ও মি. আহসান একে অপরের পরিপূরক; তাদের যৌথ কার্যকলাপ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের চাবিকাঠি— ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা, সমন্বয়সাধন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যাবলির সমষ্টিকে ব্যবস্থাপনা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গতানুগতিক পদ্ধতির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কাজ পরিচালনা করাকে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা বলে।

    বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক ফ্রেডারিক উইনস্লো টেইলর (F.W. Taylor)। তিনি কাজের প্রতিটি উপাদানের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কর্মী নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের মধ্যে দায়িত্বের সুষম বণ্টনের ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে সর্বনিম্ন ব্যয়ে সর্বোচ্চ উৎপাদন অর্জন করা সম্ভব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মি. জালাল শাহ 'উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা' এবং মি. আহসান 'নিম্ন বা প্রথম সারির পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা' (বা মধ্য/তত্ত্বাবধান পর্যায়ের)-এ কাজ করেন।

    ব্যবস্থাপনার যে পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও মৌলিক নীতিমালা নির্ধারিত হয়, তাকে উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বলে। চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ ও মহাব্যবস্থাপক এই স্তরের অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে, উচ্চ ও মধ্য পর্যায়ের পরিকল্পনা ও নীতি অনুসারে মাঠপর্যায়ে কর্মীদের কাজ প্রত্যক্ষভাবে পরিচালনা ও তদারকি করার স্তরকে নিম্ন পর্যায় বা প্রথম সারির ব্যবস্থাপনা বলা হয়।

    উদ্দীপকে মি. জালাল শাহ কোম্পানির নীতি, আদর্শ, কর্মপদ্ধতি, পরিকল্পনা ও কর্মোদ্যোগ নির্ধারণ নিয়ে কাজ করেন; যা মূলত উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার মুখ্য কাজ। পক্ষান্তরে, মি. আহসান সরাসরি কর্মীদের পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করেন; যা নিম্ন পর্যায় বা তত্ত্বাবধানমূলক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মি. জালাল শাহ ও মি. আহসানের ভূমিকা বাস্তবিকই একে অপরের পরিপূরক এবং তাদের যৌথ কার্যকলাপ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি—বক্তব্যটি যথার্থ।

    একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতার জন্য নীতি নির্ধারণ এবং তা কার্যকর বাস্তবায়ন উভয়ই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা দূরদর্শী পরিকল্পনা ও সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন করে পথনির্দেশ দেয়, আর নিম্ন বা পরিচালন পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কর্মীদের দিয়ে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করে। একটি স্তর ছাড়া অন্য স্তরের কার্যকারিতা অর্থহীন।

    উদ্দীপকে মি. জালাল শাহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে জয়হার টেক্সটাইল লি.-এর সামগ্রিক নীতি ও কর্মপদ্ধতি পরিকল্পনা করেন। অন্যদিকে মি. আহসান সেই পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়নের জন্য কর্মীদের সরাসরি পরিচালনা করেন। যদি শুধু পরিকল্পনা থাকত কিন্তু মাঠপর্যায়ে কর্মীদের দক্ষ পরিচালনার অভাব হতো, তবে লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হতো। একইভাবে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা ছাড়া শুধুমাত্র কর্মীদের পরিচালনা করেও কোনো ফল আসত না।

    উভয়ের এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই প্রতিষ্ঠানটি একটি সফল ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। সুতরাং, তাদের কার্যকলাপ নিঃসন্দেহে একে অপরের পরিপূরক এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের চাবিকাঠি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন