যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: একটি কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সুবিধার্থে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা এভাবে সকল শিক্ষার্থীদের বিভক্ত করলেন।দৃশ্যকল্প-২: একদল গবেষক একটি গ্রামের জরিপ কার্যে সুবিধা করার জন্য উত্ত গ্রামের সকল মানুষকে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত এভাবে বিভক্ত করলেন।
- ক)(1)
যৌক্তিক বিভাগ কাকে বলে?
- খ)(2)
সংকর বিভাগ অনুপপত্তি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ নির্দেশিত যৌক্তিক বিভাগটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত যৌক্তিক বিভাগের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি নীতি বা মূলসূত্রের ওপর ভিত্তি করে একটি উচ্চতর জাতিকে তার অন্তর্ভুক্ত নিম্নতর উপজাতিসমূহে মানসিক প্রক্রিয়ায় বিভক্ত করার নাম যৌক্তিক বিভাগ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক বিভাগের সময় একই সাথে একাধিক মূলসূত্র গ্রহণ করার ফলে সৃষ্ট অনুপপত্তিকে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি বলে।
যৌক্তিক বিভাগের দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বিভাগের ক্ষেত্রে একটিমাত্র মূলসূত্র অনুসরণ করতে হবে। যদি একই সাথে একাধিক মূলসূত্র প্রয়োগ করা হয়, তবে উপজাতিগুলো পরস্পরের সাথে মিশে যায় বা একটি অপরটির অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। যেমন—মানুষ জাতিকে একই সাথে 'সততা' ও 'শিক্ষা' মূলসূত্রের ভিত্তিতে সৎ, অসৎ, শিক্ষিত ও অশিক্ষিতে ভাগ করলে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠ্য বিষয় বা শিক্ষার শাখা রূপ একটি নির্দিষ্ট মূলসূত্রের ওপর ভিত্তি করে যৌক্তিক বিভাগ করা হয়েছে।
যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, একটি জাতিকে কোনো মূলসূত্রের ভিত্তিতে তার অন্তর্গত উপজাতিসমূহে ভাগ করতে হয়। দৃশ্যকল্প-১ এ কলেজ কর্তৃপক্ষ সকল শিক্ষার্থীর বৃহত্তর শ্রেণিকে 'পাঠ্য বিষয়' বা 'শিক্ষা ধারা' রূপ একটি একক মূলসূত্রের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিনটি স্বতন্ত্র উপজাতিতে বিভক্ত করেছেন।
এখানে যৌক্তিক বিভাগের মূল নিয়মসমূহ যথার্থভাবে বজায় রয়েছে। যেমন—বিভাজিত উপজাতিগুলোর যোগফল মূল জাতিটির (কলেজের সকল শিক্ষার্থী) সমান এবং একটিমাত্র সুনির্দিষ্ট নীতিকে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে কোনো অস্পষ্টতা বা সংকর বিভাগ সৃষ্টি হয়নি। এটি সাধারণ যৌক্তিক বিভাগের নিয়মসম্মত একটি সুনির্দিষ্ট রূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-২ উভয়ই যৌক্তিক বিভাগের উদাহরণ হলেও এদের প্রকৃতি ও বিভাজনের ধারায় মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। নিম্নে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বিভাগের ধরণ: দৃশ্যকল্প-১ এ সাধারণ যৌক্তিক বিভাগ বা বহুশাখাভিত্তিক বিভাজন ঘটেছে; যেখানে একটি মূলসূত্রের ভিত্তিতে মূল শ্রেণিকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিনটি উপজাতিতে ভাগ করা হয়েছে। অপরপক্ষে, দৃশ্যকল্প-২ এ 'দ্বিকোটিক বিভাগ' (Dichotomy) অনুসৃত হয়েছে; যেখানে মূল শ্রেণিকে একটি গুণ এবং তার বিরোধী গুণের ভিত্তিতে দুটি বিরুদ্ধ উপজাতিতে (শিক্ষিত ও অশিক্ষিত) ভাগ করা হয়েছে।
২. মূলসূত্রের সংখ্যা ও প্রয়োগ: দৃশ্যকল্প-১ এ 'শিক্ষা ধারা' মূলনীতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। দৃশ্যকল্প-২ এ 'শিক্ষা' নামক ইতিবাচক গুণের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির (জ্ঞাতসার ও অজ্ঞাতসার) মূলনীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
৩. বিরোধের সম্পর্ক: দৃশ্যকল্প-১ এর উপজাতিগুলোর মধ্যে বিষয়গত পার্থক্য রয়েছে, কিন্তু তারা পরস্পর বৈপরীত্যমূলক বা বিরুদ্ধ নয়। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ এর বিভাজনটি বিরোধের নিয়মের (Law of Contradiction) ওপর প্রতিষ্ঠিত, কারণ শিক্ষিত ও অশিক্ষিতের মাঝে কোনো মধ্যবর্তী বিকল্প নেই এবং একটি অপরটির সরাসরি পরিপন্থী।
৪. নিশ্চিত ও নিঃশেষক রূপ: দ্বিকোটিক বিভাগ (দৃশ্যকল্প-২) সবসময় সুনির্দিষ্ট ও নিঃশেষক হয়, যা বাস্তব জরিপ কার্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। অন্যদিকে সাধারণ বহুশাখাভিত্তিক বিভাগে (দৃশ্যকল্প-১) নতুন শাখা বা উপজাতি যুক্ত হওয়ার সুযোগ থেকে যেতে পারে।
সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ হলো একক মূলসূত্রের ওপর ভিত্তি করে গঠিত সাধারণ যৌক্তিক বিভাগ এবং দৃশ্যকল্প-২ হলো স্বতঃসিদ্ধ বিরুদ্ধ পদের ভিত্তিতে গঠিত দ্বিকোটিক বিভাগ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও