বাংলা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ লেখো:

12.1.

ক. পরিবেশদূষণ: কারণ ও প্রতিকার

12.2.

খ. তথ্যপ্রযুক্তি ও আজকের বাংলাদেশ

12.3.

গ. বই পড়ার আনন্দ

12.4.

ঘ. বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

12.5.

ঙ. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বাংলাদেশ

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

পরিবেশদূষণ: কারণ ও প্রতিকার

ভূমিকা:
মানুষ ও তার চারপাশের জড় ও জীব উপাদান নিয়ে গঠিত হয় পরিবেশ। বাতাস, পানি, মাটি, গাছপালা ও প্রাণীকূলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপরই মানুষের জীবন ও বিকাশ নির্ভরশীল। কিন্তু সভ্যতার ক্রমবিকাশ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বর্তমানে পরিবেশদূষণ সমগ্র বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য একটি অন্যতম প্রধান জাতীয় ও বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

পরিবেশদূষণের রূপ ও কারণ:
১. বায়ুদূষণ: কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া, যানবাহনের ক্ষতিকর গ্যাস (কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড), এবং যত্রতত্র ইটভাটার ধোঁয়া প্রতিনিয়ত বায়ুমণ্ডলে মিশে বাতাস দূষিত করছে।
২. পানিদূষণ: শিল্প-কারখানার অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য, পয়ঃনিষ্কাশনের অপদ্রব্য এবং কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে নদ-নদী, খাল-বিল ও ভূগর্ভস্থ পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
৩. মাটিদূষণ: পলিথিন, প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্যের অবাধ নিক্ষেপ মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে। এ ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগে মাটির স্বাভাবিক অনুজীব ধ্বংস হচ্ছে।
৪. শব্দদূষণ: উচ্চশব্দে হর্ন বাজানো, কলকারখানার যান্ত্রিক শব্দ, নির্মাণকাজ এবং মাইকের বেপরোয়া ব্যবহারের ফলে শব্দদূষণ সৃষ্টি হচ্ছে, যা মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।

পরিবেশদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব:
পরিবেশদূষণের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলবায়ুর বিপজ্জনক পরিবর্তন ঘটছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, যার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের মতো নিম্নাঞ্চল। মানুষ হাঁপানি, অ্যালার্জি, ক্যানসার, হৃদরোগ ও শ্রবণশক্তি হ্রাসের মতো জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী বিলুপ্তির পথে ধাবিত হচ্ছে।

প্রতিকারের উপায়:
১. বনায়ন বৃদ্ধি: অধিক পরিমাণে বৃক্ষরোপণ এবং বনভূমি উজাড় বন্ধ করা সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।
২. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শোধন: সকল শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ETP) বাধ্যতামূলক করা এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার (Recycle) নিশ্চিত করা।
৩. পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার: জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।
৪. আইনের প্রয়োগ ও জনসচেতনতা: পরিবেশ সুরক্ষা আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় সচেতন করে তোলা প্রয়োজন।

উপসংহার:
পরিবেশের সুস্থতার ওপরই মানবজাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে মানবসভ্যতার অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে আমাদের এখনই পরিবেশ সুরক্ষায় সম্মিলিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন