সাধারণ জ্ঞান • Literature, arts and culture • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন
ফরিদপুর জেলার ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে নকশিকাঁথা। কাঁথা সেলাই করে অনেকেই সচ্ছলতার মুখ দেখেছে। নারীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে স্ব-উদ্যোগে নকশিকাঁথার দোকান পরিচালনা করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। শহরের অলিগলিতে আজ. চোখে পড়ে অসংখ্য হস্তশিল্পের দোকান। দোকানের পণ্যগুলো দেশের বাজার ছাড়িয়ে বিদেশের বাজারেও স্থান করে নিচ্ছে। তাই এখন এ জেলার স্লোগান হচ্ছে।"ফরিদপুরের নকশিকাঁথা, বাংলাদেশের স্বর্বগাঁথা”।
- ক)(1)
কৃষকপত্নী কীসের বিনিময়ে কন্যা বিক্রয় করত?
- খ)(2)
"শিরে দিয়ে বাঁকা তাজঢেকে রাখে টাক।"- বিশ্লেষণ করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সঙ্গে 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের বিষয়বস্তুর বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।
- ঘ)(4)
""চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে লেখিকা যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উদ্দীপকে তার সার্থক প্রতিফলন ঘটেছে।"- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এক জোড়া শাড়ির বিনিময়ে কৃষকপত্নী তার কন্যা বিক্রয় করত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"শিরে দিয়ে বাঁকা তাজ ঢেকে রাখে টাক"— চরণটির মাধ্যমে বাইরের কৃত্রিম চাকচিক্য ও আভিজাত্যের আবরণ দিয়ে নিজেদের ভেতরের দৈন্যদশা ও অন্তঃসারশূন্যতা ঢেকে রাখার প্রবণতাকে বোঝানো হয়েছে।
'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া তৎকালীন উচ্চবিত্ত বা তথাকথিত সভ্য মানুষদের ভণ্ডামিপূর্ণ মনোভাব তুলে ধরেছেন। সমাজের সাধারণ কৃষক সমাজ যখন অন্নাভাবে ও বস্ত্রাভাবে ধুঁকছে, তখন অনেকে মাথা ন্যাড়া করে কিংবা ভেতরের কদর্যতা ঢেকে রাখতে মাথায় জমকালো তাজ বা পাগড়ি পরিধান করে আভিজাত্যের ভান করত। লেখক এই রূপকের সাহায্যে আসল সত্যকে আড়াল করে লোকদেখানো বাহ্যিক আড়ম্বর প্রদর্শন করার মানসিকতাকে ব্যঙ্গ করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সঙ্গে বেগম রোকেয়ার 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের কৃষকদের চরম দারিদ্র্য, অসহায়ত্ব ও পরাধীন অর্থনৈতিক অবস্থার বৈসাদৃশ্য লক্ষণীয়।
'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে ভারতবর্ষের শোষিত ও বঞ্চিত চাষীদের করুণ জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে। কৃষকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করেও নিজেরা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাত এবং তাদের লজ্জা নিবারণের মতো বস্ত্র পর্যন্ত ছিল না। কুটির শিল্পের ধ্বংস এবং বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে চাষীদের জীবন দারিদ্র্যের চরম সীমায় পৌঁছেছিল।
অন্যদিকে, উদ্দীপকে দেখা যায় ফরিদপুরের নারীরা নিজেদের উদ্যোগে নকশিকাঁথা তৈরি ও বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। হস্তশিল্পের মাধ্যমে তাদের ঘরে সচ্ছলতা এসেছে এবং উৎপাদিত পণ্য দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। উদ্দীপকে অর্থনৈতিক সাফল্য, নারী ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতার জয়গান রয়েছে, যা 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে বর্ণিত কৃষকদের সীমাহীন শোষণ, দারিদ্র্য ও বঞ্চনার ঠিক বিপরীত বা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে লেখিকা যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উদ্দীপকে তার সার্থক প্রতিফলন ঘটেছে"— মন্তব্যটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া কৃষকদের চরম দুর্দশার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের মুক্তির পথও নির্দেশ করেছেন। লেখিকা উপলব্ধি করেছিলেন যে, বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কুটির শিল্পের প্রসার ঘটালে গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হবে। বিশেষ করে চড়কা বা হস্তশিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটিয়ে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ফরিদপুর জেলার নারীরা ঘরে ঘরে নকশিকাঁথা তৈরি করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। হস্তশিল্পের প্রসারের মাধ্যমে তারা শুধু নিজেরা স্বাবলম্বী হয়নি, বরং দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখছে। লেখিকা রোকেয়া গ্রামীণ হস্তশিল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক যে আত্মনির্ভরশীলতার স্বপ্ন দেখেছিলেন, উদ্দীপকের নারীরা নকশিকাঁথা তৈরি ও বিপণনের মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করেছে।
অতএব, গ্রামীণ নারীদের নিজস্ব হস্তশিল্প চর্চার মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও স্বাবলম্বিতা অর্জনের বিষয়টি বিবেচনা করলে স্পষ্টতই বোঝা যায় যে, রোকেয়ার ব্যক্ত করা আশাবাদেরই এক বাস্তব ও সার্থক প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও