অর্থনীতি ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
শাকিলা ও আফরোজা পরস্পর বান্ধবী। শাকিলা A দেশে এবং আফরোজা B দেশে বাস করেন । প্রায়ই তাদের সাথে ফোনে কথা হয়। একদিন শাকিলা, আফরোজকে ফোন করে এবং বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে ।শাকিলা: আফরোজা, তোমার দেশের আবহাওয়া কেমন?
আফরোজা : খুবই ভালো। তবে ধন বৈষম্য প্রকট
শাকিলা : আচ্ছা আফরোজা, তোমার দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কীরূপ?
আফরোজা : এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় এবং দ্রব্যের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয়।
শাকিলা : ও, তাই! আমাদের এখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন।
- ক)(1)
অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কী?
- খ)(2)
নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় নাম ব্যবস্থার গুরুত্ব নেই কেন? ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
A. দেশের অর্থব্যবস্থার ধরন উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
A. দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে B দেশের অর্থব্যবস্থার পার্থক্য রয়েছে কি? যুক্তিসহ মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত কাঠামোর অধীনে সমাজের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড (যেমন—উৎপাদন, বণ্টন, বিনিময় ও ভোগ) পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়, তাকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্দেশমূলক বা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সকল উৎপাদনের উপকরণ ও সম্পদের মালিকানা রাষ্ট্রের অধীনে থাকে এবং উৎপাদন, বণ্টন ও মূল্যের যাবতীয় সিদ্ধান্ত একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দেয়। এখানে চাহিদা ও জোগানের পারস্পরিক ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে কোনো স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা কাজ করে না। যেহেতু রাষ্ট্রের জনকল্যাণমূলক নীতি ও নির্দেশনার মাধ্যমেই পণ্যের উৎপাদন ও মূল্য নির্ধারিত হয়, তাই এই ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থার কোনো গুরুত্ব থাকে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে শাকিলা যে A দেশে বাস করে, সেই দেশের অর্থব্যবস্থাটি হলো 'নির্দেশমূলক বা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা' (Command/Socialist Economic System)।
উদ্দীপকে শাকিলা উল্লেখ করেছে, "আমাদের এখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন।" নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যই হলো দেশের সকল উৎপাদন উপাদান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক মালিকানা বজায় থাকা। এই ব্যবস্থায় কী উৎপাদিত হবে, কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কার জন্য উৎপাদিত হবে—তা কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে। এখানে ব্যক্তিগত লাভের পরিবর্তে সামাজিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে উৎপাদনের উপকরণসমূহের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। অতএব, উদ্দীপকের A দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হলো নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, A দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে B দেশের অর্থব্যবস্থার মৌলিক ও কাঠামোগত সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
উদ্দীপক অনুসারে, A দেশের অর্থব্যবস্থা হলো 'নির্দেশমূলক বা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা' এবং B দেশের অর্থব্যবস্থা হলো 'ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা' (যেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগ, স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা এবং প্রকট ধনবৈষম্য বিদ্যমান)।
এদের মধ্যকার মূল পার্থক্যসমূহ নিচে যুক্তি সহকারে তুলে ধরা হলো:
১. সম্পদের মালিকানা: A দেশে সম্পদের একক মালিক রাষ্ট্র বা সমাজ। অপরদিকে, B দেশে উৎপাদনের উপাদানসহ সকল সম্পদের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা বিদ্যমান।
২. দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া: A দেশে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সরকারি নির্দেশনায় পণ্যের দাম নির্ধারিত হয়। কিন্তু B দেশে স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থাৎ বাজার চাহিদা ও জোগানের ঘাত-প্রতিঘাতে পণ্যের দাম নির্ধারিত হয়।
৩. মুনাফা ও উদ্দেশ্য: A দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য সামাজিক কল্যাণ সাধন। পক্ষান্তরে, B দেশে ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের মূল উদ্দেশ্য থাকে ব্যক্তিগত মুনাফা সর্বোচ্চ করা।
৪. আয় বণ্টন ও বৈষম্য: A দেশে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকায় সম্পদের সুষম বণ্টন হয় এবং কোনো শ্রেণি শোষণ থাকে না। অপরপক্ষে, B দেশে পুঁজির অসম বণ্টন ও ব্যক্তিগত মুনাফার ফলে শ্রেণি বিভেদ ও প্রকট ধনবৈষম্যের সৃষ্টি হয় (যা আফরোজার উক্তিতে স্পষ্ট)।
৫. ভোক্তার স্বাধীনতা: সমাজতান্ত্রিক দেশে ভোক্তার সার্বভৌমত্ব সীমিত, তবে পুঁজিবাদী B দেশে ভোক্তা অবাধ স্বাধীনতার সুযোগ পায়।উপরিউক্ত তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বলা যায়, A দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা এবং B দেশের পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার মধ্যে আদর্শ, পরিচালনা পদ্ধতি ও ফলাফলের দিক থেকে সুনির্দিষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও