বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের যেকোনো ১ টি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ
7.1.
ঐতিহাসিক স্থানের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করো।
7.2.
তোমার কলেজ গ্রন্থাগার সম্পর্কে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-লিখিত কাল্পনিক নমুনা। প্রশ্নে না-দেওয়া নাম, তারিখ, যোগাযোগ, সংখ্যা ও জরিপ/সাক্ষাৎকারের বিবরণ উদাহরণভিত্তিক অনুমান; বাস্তবে তথ্যসংগ্রহ করা হয়েছে এমন দাবি নয়।
৭.১. ঐতিহাসিক স্থানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা:
ঐতিহাসিক স্থান বাগেরহাট ভ্রমণের অভিজ্ঞতা
গত শীতের ছুটিতে আমি ও আমার কয়েকজন সহপাঠী মিলে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক নগরী বাগেরহাট ভ্রমণের পরিকল্পনা করি। ভোরবেলা ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে দুপুরের দিকে আমরা হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর পুণ্যভূমি বাগেরহাটে পৌঁছাই।
সেখানে পৌঁছে প্রথমে আমরা বিখ্যাত ষাটগম্বুজ মসজিদ পরিদর্শন করি। পনেরো শতকে নির্মিত এই অনিন্দ্যসুন্দর স্থাপত্যকীর্তিটি দেখে আমরা বিস্মিত হই। ষাটটি থামের ওপর একাশিটি গম্বুজ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদের গঠনশৈলী এবং পোড়ামাটির কারুকাজ সুলতানি আমলের স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন। এর বিশালতা এবং ভাবগাম্ভীর্য আমাদের মুগ্ধ করে।
এরপর আমরা খানজাহান আলীর সমাধিসৌধ এবং সংলগ্ন বিশাল দিঘি দেখতে যাই। দিঘির শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ আমাদের মন ভরিয়ে দেয়। স্থানীয়দের কাছে শুনলাম সেই ঐতিহাসিক মিঠাপানির কুমিরের গল্প। পরবর্তীতে আমরা পার্শ্ববর্তী জাদুঘর পরিদর্শন করি, যেখানে সুলতানি আমলের নানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে।
বাগেরহাটের প্রাচীন স্থাপত্যগুলো প্রত্যক্ষ করে দেশের গৌরবময় অতীত ও সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করি। বইয়ের পাতার ইতিহাস যেন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। এই ঐতিহাসিক ভ্রমণটি শুধু আনন্দেরই ছিল না, ছিল অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ ও শিক্ষণীয়। অপরাহ্ণের স্নিগ্ধ আলোয় স্মৃতিবিজড়িত বাগেরহাটকে বিদায় জানিয়ে আমরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই। এই স্মৃতি চিরকাল আমার মানসপটে অম্লান হয়ে থাকবে।
অথবা,
৭.২. কলেজ গ্রন্থাগার সম্পর্কে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:
তারিখ: ১৫ অক্টোবর, ২০১৯
বরাবর,
অধ্যক্ষ,
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, ঢাকা।
বিষয়: কলেজ গ্রন্থাগারের সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
সূত্র: স্মারক নং- দারেমক/গ্রন্থা/২০১৯/১২
জনাব,
আপনার প্রদত্ত দায়িত্ব অনুযায়ী কলেজের গ্রন্থাগারের সামগ্রিক অবস্থা, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা এবং সমস্যাসমূহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিচে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন উপস্থাপন করছি:
১. সূচনা:
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হৃৎপিণ্ড হলো তার গ্রন্থাগার। আমাদের কলেজ গ্রন্থাগারটি মূল ভবনের দোতলায় অবস্থিত। বর্তমানে গ্রন্থাগারটিতে প্রায় পনেরো হাজার পাঠ্য ও সহায়ক বই রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের চাহিদার তুলনায় এটি নানা ধরনের সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত।
২. বর্তমান অবস্থা ও সমস্যাসমূহ:
- স্থান সংকুলান: গ্রন্থাগারে একসঙ্গে মাত্র পঞ্চাশ জন শিক্ষার্থী বসতে পারে, যা কলেজের মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
- বইয়ের আধুনিকায়নের ঘাটতি: সৃজনশীল ও উচ্চতর রেফারেন্স বইয়ের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষত তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞানের হালনাগাদ বইয়ের অভাব চোখে পড়ার মতো।
- ডিজিটালাইজেশনের অভাব: ক্যাটালগ ব্যবস্থা এখনো পুরোনো সনাতন কার্ড পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ায় দ্রুত বই খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়। ই-লাইব্রেরি বা ইন্টারনেট সংযোগের কোনো ব্যবস্থা নেই।
- পরিবেশগত সমস্যা: গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকলেও কয়েকটি সিলিং ফ্যান অকেজো থাকায় পাঠকদের গরমে কষ্ট পেতে হয়।
৩. উত্তরণের সুপারিশসমূহ:
- পাঠকক্ষ সম্প্রসারণ করে আসন সংখ্যা অন্তত একশত পঞ্চাশে উন্নীত করা।
- প্রতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সিলেবাসভিত্তিক নতুন বই ও জার্নাল সংযোজন করা।
- কম্পিউটারাইজড ক্যাটালগ ও ডিজিটাল লাইব্রেরি সফটওয়্যার চালু করা।
- শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটসহ কয়েকটি কম্পিউটার স্থাপন করা।
- প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সংস্কার ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা।
৪. উপসংহার:
শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও জ্ঞানচর্চার পরিধি বাড়াতে একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক গ্রন্থাগার অপরিহার্য। উপর্যুক্ত পদক্ষেপগুলো দ্রুত গ্রহণ করলে আমাদের কলেজ গ্রন্থাগারটি আরও প্রাণবন্ত ও কার্যকর হয়ে উঠবে।
প্রতিবেদকের নাম: আবরার জাহিন
শ্রেণি: দ্বাদশ, রোল: ১০৫
প্রতিবেদন তৈরির স্থান: ঢাকা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও