উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৬

উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. আকাশ ও তার কয়েকজন বন্ধু মিলে ‘ইয়ং ফ্যাশন’ নামে একটি টি-শার্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। ভূমি ও দালানকোঠা ব্যতীত উক্ত প্রতিষ্ঠানের মূলধন ২৮ কোটি টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যা ১১০ জন। বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ৩৫,০০০ পিস টি-শার্ট উৎপাদন করতে পারলেও তাদের উৎপাদন হচ্ছে ৩০,০০০ পিস টি-শার্ট। আধুনিক, রুচিসম্মত ও উন্নতমানের টি-শার্ট উৎপাদন তাদের পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বর্ধিত চাহিদা মেটানোর জন্য তারা আরও ১০,০০০ পিস টি-শার্ট উৎপাদন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

  1. ক)

    পরিবর্তনশীল ব্যয় কী?

    (1)
  2. খ)

    ‘অমিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রায় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়’— ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের এন্টারপ্রাইজ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মি. আকাশ ও তার বন্ধুদের গৃহীত সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল? কাম্য মাত্রা বিবেচনায় বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উৎপাদনের পরিমাণের পরিবর্তনের সাথে সাথে যে ব্যয় পরিবর্তিত হয় (অর্থাৎ উৎপাদন বাড়লে ব্যয় বাড়ে এবং উৎপাদন কমলে ব্যয় কমে), তাকে পরিবর্তনশীল ব্যয় বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অমিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রা বলতে উৎপাদনের এমন একটি পর্যায়কে বোঝায় যেখানে উৎপাদনের মাত্রা বা আয়তন কাম্য সীমার অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নানা অসুবিধার সৃষ্টি হয় এবং গড় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

    উৎপাদনের মাত্রা কাম্য স্তর অতিক্রম করলে ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে জটিলতা দেখা দেয়, অপচয় বাড়ে এবং উৎপাদন ক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে প্রতি একক পণ্যের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। আর উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বজায় রাখার জন্য পণ্যের বিক্রয়মূল্যও বাড়িয়ে নির্ধারণ করতে হয়। এজন্য অমিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রায় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ইয়ং ফ্যাশন' প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী একটি মাঝারি শিল্প বা এন্টারপ্রাইজ।

    উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকার অধিক এবং অনধিক ৫০ কোটি টাকা হলে কিংবা যে শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১২১ জন থেকে ৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে মাঝারি শিল্প বলে। তবে মূলধন বা শ্রমিকসংখ্যার যেকোনো একটি মানদণ্ড পূরণ করলেই তা সংশ্লিষ্ট শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আবার ২০১০/২০১৬ সালের জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী উৎপাদন খাতের জন্য জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে ১০ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকার মূলধন অথবা ১২১ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক থাকলে তা মাঝারি শিল্পের আওতাভুক্ত হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. আকাশ ও তাঁর বন্ধুদের টি-শার্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান 'ইয়ং ফ্যাশন'-এ ভূমি ও দালানকোঠা ব্যতীত মূলধনের পরিমাণ ২৮ কোটি টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যা ১১০ জন। যেহেতু প্রতিষ্ঠানটির মূলধনের পরিমাণ (২৮ কোটি টাকা) ১০ থেকে ৩০ কোটি টাকার (বা ১৫ থেকে ৫০ কোটি টাকার) মধ্যে রয়েছে, তাই মূলধনের দিক থেকে এটি নিশ্চিতভাবেই মাঝারি শিল্পের মানদণ্ড পূরণ করেছে। অতএব, উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি একটি মাঝারি এন্টারপ্রাইজ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মি. আকাশ ও তাঁর বন্ধুদের বিদ্যমান যন্ত্রপাতি অপরিবর্তিত রেখে আরও ১০,০০০ পিস টি-শার্ট উৎপাদনের সিদ্ধান্তটি কাম্য মাত্রা বিবেচনায় সঠিক ছিল না।

    উৎপাদনের কাম্য মাত্রা হলো উৎপাদনের সেই নির্দিষ্ট পরিমাণ বা স্তর, যেখানে বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির পূর্ণতম ব্যবহার ঘটে এবং প্রতি একক গড় উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা যদি কাম্য মাত্রার চেয়ে কম থাকে, তবে উৎপাদন বাড়ানো যুক্তিসংগত; কিন্তু তা যদি বিদ্যমান ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে যায়, তবে অতিরিক্ত চাপ ও অমিতব্যয়ী উৎপাদনের কারণে গড় ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

    উদ্দীপকে উল্লেখ আছে, প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা হলো ৩৫,০০০ পিস টি-শার্ট। বর্তমানে তারা উৎপাদন করছে ৩০,০০০ পিস টি-শার্ট। অর্থাৎ তাদের উদ্বৃত্ত উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে মাত্র (৩৫,০০০ - ৩০,০০০) = ৫,০০০ পিস। কিন্তু তারা বিদ্যমান পরিকাঠামোতেই বর্ধিত চাহিদা পূরণের জন্য আরও ১০,০০০ পিস টি-শার্ট উৎপাদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ফলে তাদের মোট প্রস্তাবিত উৎপাদন হবে (৩০,০০০ + ১০,০০০) = ৪০,০০০ পিস।

    এই ৪০,০০০ পিস উৎপাদন বিদ্যমান সর্বোচ্চ ক্ষমতা (৩৫,০০০ পিস)-এর চেয়ে ৫,০০০ পিস বেশি। বাড়তি যন্ত্রপাতি বা পরিকাঠামো স্থাপন না করে বিদ্যমান যন্ত্রপাতির ওপর অতিরিক্ত চাপ দিয়ে ৩৫,০০০ পিসের বেশি উৎপাদন করতে গেলে যন্ত্রপাতির অপব্যবহার, অতিরিক্ত ওভারটাইম খরচ, ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বৃদ্ধি এবং ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা সৃষ্টি হবে। এতে কাম্য মাত্রার সুবিধা নষ্ট হয়ে অমিতব্যয়িতার সৃষ্টি হবে এবং একক প্রতি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে। ফলে তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না; বরং তারা সর্বোচ্চ ৩৫,০০০ পিস পর্যন্ত উৎপাদন বাড়াতে পারত অথবা নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন