ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
“অর্নবস্ কোম্পানি লিঃ” এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোর্ড সভায় পরবর্তী বছরের সামগ্রিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা বিভাগীয় প্রধানদের অবহিত করেন। বিভাগীয় প্রধানগণ স্ব-স্ব বিভাগের লক্ষ্য নির্ধারণের পরিকল্পনা নিলেও আন্তঃবিভাগীয় পরিকল্পনায় পারস্পরিক সংহতি স্থাপনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি বোর্ডের নজরে এলে বোর্ড উৎপাদন বিভাগের ব্যবস্থাপককে প্রধান ও অন্য বিভাগের প্রধানদের সদস্য করে বিভাগীয় কর্মকাণ্ডে সংহতি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করেন।
- ক)(1)
সমন্বয় কী?
- খ)(2)
দলীয় প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে সমন্বয় অপরিহার্য কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের কোম্পানিতে সমন্বয়ের কোন নীতি অনুসরণ না হওয়ায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বোর্ড কর্তৃক সমন্বয় কমিটি গঠন করে দেয়ায় ভবিষ্যতে বিশৃঙ্খলা কমবে — তুমি কি একমত? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠানের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন বিভাগ, উপ-বিভাগ ও কর্মীদের কার্যাবলিকে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত করার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বা সমন্বয়সাধন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দলীয় প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে সমন্বয় অপরিহার্য, কারণ এটি দলের সদস্যদের মধ্যকার বিশৃঙ্খলা ও কাজের দ্বৈততা দূর করে একটি সাধারণ লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করে।
একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের দৃষ্টিভঙ্গি, কর্মপদ্ধতি ও আগ্রহ ভিন্ন হতে পারে। যথাযথ সমন্বয় না থাকলে দলগতভাবে কাজের মধ্যে মতবিরোধ, সংঘাত ও সময়ের অপচয় ঘটে। সমন্বয়সাধন সকল বিভাগের কার্যাবলির মধ্যে ভারসাম্য ও যোগসূত্র স্থাপন করে দলীয় প্রচেষ্টাকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করে তোলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কোম্পানিতে সমন্বয়ের 'ভারসাম্যের নীতি' বা 'আন্তঃবিভাগীয় সংহতি বিধানের নীতি' অনুসরণ না হওয়ায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বিভাগ পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। কার্যকর সমন্বয়ের অন্যতম প্রধান নীতি হলো বিভিন্ন বিভাগের পরিকল্পনা ও কাজের মধ্যে সমন্বয়, সামঞ্জস্য ও ভারসাম্য রক্ষা করা, যাতে এক বিভাগের কার্যক্রম অন্য বিভাগের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়ে সংগতিপূর্ণ হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অর্নবস্ কোম্পানি লিঃ-এর বিভাগীয় প্রধানগণ স্ব-স্ব বিভাগের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও আন্তঃবিভাগীয় কোনো সংহতি বা পারস্পরিক যোগসূত্র স্থাপন করেননি। ফলে এক বিভাগের কাজের সাথে অন্য বিভাগের সামঞ্জস্য না থাকায় প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সমন্বয়ের মৌলিক নীতি অনুযায়ী প্রতিটি বিভাগের কর্মপরিকল্পনায় পারস্পরিক মেলবন্ধন ও ভারসাম্য না থাকার ফলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বোর্ড কর্তৃক সমন্বয় কমিটি গঠন করে দেওয়ায় ভবিষ্যতে বিশৃঙ্খলা কমবে— এই বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
যৌথ প্রচেষ্টা ও বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দিলে আনুষ্ঠানিক কমিটি গঠনের মাধ্যমে আন্তঃবিভাগীয় যোগাযোগ ও কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়। একটি স্থায়ী কমিটি নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে বিভাগীয় সমস্যাবলি নিরসন এবং কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারে।
উদ্দীপকে আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়হীনতার কারণে বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ায় পরিচালনা পর্ষদ উৎপাদন ব্যবস্থাপককে প্রধান এবং অন্য বিভাগীয় প্রধানদের সদস্য করে একটি স্থায়ী কমিশন বা কমিটি গঠন করেছে। এর ফলে নিম্নোক্ত সুফল পাওয়া যাবে:
১. নিয়মিত পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত হবে এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর হবে।
২. সকল বিভাগ সামগ্রিক লক্ষ্যকে সামনে রেখে যৌথভাবে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে পারবে।
৩. কাজের দ্বৈততা ও সংঘাত নিরসন করা সহজ হবে।সুতরাং, দায়িত্বশীল প্রধানদের নিয়ে গঠিত এই স্থায়ী কমিটি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারলে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিতে আন্তঃবিভাগীয় সংহতি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বিশৃঙ্খলা নিশ্চিতভাবেই কমে আসবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও