সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
টাকা-পয়সা অন্য পথে নষ্ট করার কারণে লতা তার স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কষ্টে আছেন। সন্তানের লেখাপড়া দূরের কথা এক বেলা খাবারও জোটে না। একদিকে পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা অন্যদিকে স্বামী-সন্তান নেশায় আসক্ত। তাই লতা বাঁচার উপায় খুঁজছেন ।
- ক)(1)
বিশ্ব এইডস দিবস কবে?
- খ)(2)
সামাজিক সমস্যার পরিমাপযোগ্যতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'লতার স্বামী-সন্তান কোন সামাজিক সমস্যাটি সৃষ্টি করেছে? ব্যাখ্যা দাও ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সমস্যাটি প্রতিরোধযোগ্য— মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতি বছর ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক সমস্যার পরিমাপযোগ্যতা বলতে কোনো সামাজিক সমস্যার বিস্তার, তীব্রতা, ক্ষতিকর প্রভাব এবং এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা পরিসংখ্যানগত ও দৃশ্যমান তথ্যের মাধ্যমে নিরূপণ বা পরিমাপ করার বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়। এর মাধ্যমে বোঝা যায় সমস্যাটি সমাজে কতটা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে লতার স্বামী ও সন্তান 'মাদকাসক্তি' নামক সামাজিক সমস্যাটি সৃষ্টি করেছে।
মাদকাসক্তি হলো এমন একটি ক্ষতিকর অবস্থা, যেখানে ব্যক্তি শারীরবৃত্তীয় বা মানসিক কারণে কোনো ক্ষতিকর নেশাজাতীয় দ্রব্যের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং তা গ্রহণ না করে স্বাভাবিক থাকতে পারে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, লতার স্বামী ও দুই সন্তান নেশায় আসক্ত। তারা সংসারের টাকা-পয়সা অন্যায় পথে নষ্ট করে চলেছে, যার ফলে পরিবারের সদস্যদের এক বেলা খাবারও জুটছে না এবং সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো পরিবারের কর্তাব্যক্তি বা সন্তানরা মাদকে আসক্ত হলে অর্থনৈতিক ধ্বংস, নৈতিক অধঃপতন ও সামাজিক অবক্ষয় নেমে আসে। উদ্দীপকের এই চিত্রটি পরিষ্কারভাবে মাদকাসক্তি ও তার বিধ্বংসী ফলাফলকেই তুলে ধরে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চিহ্নিত সমস্যাটি অর্থাৎ 'মাদকাসক্তি' একটি মারাত্মক ব্যাধি হলেও এটি অবশ্যই প্রতিরোধযোগ্য— নিচে এ বিষয়ে মতামত বিশ্লেষণ করা হলো।
মাদকাসক্তি কোনো জন্মগত বা অনিবার্য সমস্যা নয়; বরং এটি সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক বিভিন্ন কারণের প্রভাবে সৃষ্টি হয়। তাই উপযুক্ত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এ সমস্যা সফলভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
মাদকাসক্তি প্রতিরোধে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখে:
১. পারিবারিক সচেতনতা ও মূল্যবোধ: একটি সুস্থ, স্নেহময় ও আদর্শ পারিবারিক পরিবেশ সন্তানকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করে। পরিবারের সদস্যদের প্রতি নজরদারি ও খোলামেলা সম্পর্ক মাদকাসক্তি প্রতিরোধে প্রথম ধাপ।
২. সামাজিক প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা: মাদকের কুফল সম্পর্কে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো।
৩. মাদকের সহজলভ্যতা রোধ: দেশে মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধ করা, চোরাচালান রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।
৪. চিকিৎসা ও পুনর্বাসন: যারা ইতিমধ্যে আসক্ত হয়ে পড়েছে, তাদের সঠিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ দিয়ে মাদকমুক্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়।
৫. সুস্থ বিনোদন ও কর্মসংস্থান: বেকারত্ব দূরীকরণ এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য খেলাধুলা ও গঠনমূলক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করা।
সুতরাং, রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা এবং সক্রিয় উদ্যোগের মাধ্যমে মাদকাসক্তি সমস্যা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও