অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

সম্পদের উত্তম ব্যবহার, নতুন বাজার অন্বেষণ, রপ্তানি বৈচিত্রকরণ, রপ্তানি ঋণ বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে A দেশে শিল্পজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। পন্য উৎপাদনে A দেশের প্রবৃদ্ধির ধারা নিচে প্রদর্শিত হলো:

  1. ক)

    বৈদেশিক বাণিজ্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য একচেটিয়া প্রভাব হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে - ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রপ্তানি বৃদ্ধিতে সরকার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে প্রদত্ত সূচিতে উল্লিখিত প্রবৃদ্ধির ধারা অর্থনৈতিক উন্নয়নে কি প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুই বা ততোধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে আইনগত কাঠামোর ভিত্তিতে যে দ্রব্য ও সেবাকর্মের ক্রয়-বিক্রয় বা বিনিময় সম্পন্ন হয়, তাকে বৈদেশিক বাণিজ্য (বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের যোগান বৃদ্ধি পায় এবং তীব্র প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়, যা একচেটিয়া কারবারের প্রভাব হ্রাস করে।

    যদি একটি দেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্ধ রাখে বা নিয়ন্ত্রণ করে, তবে দেশের অভ্যন্তরে কোনো একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান পণ্যের উৎপাদন ও মূল্যের ওপর সম্পূর্ণ একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে পারে এবং ভোক্তাদের অতিরিক্ত মূল্য দিতে বাধ্য করতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্মুক্ত হলে বিদেশি উন্নত ও সুলভ পণ্য দেশের বাজারে প্রবেশ করে। ফলে অভ্যন্তরীণ একচেটিয়া কারবারিরা আর তাদের ইচ্ছামতো পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি বা উচ্চমূল্য নির্ধারণ করতে পারে না। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার কারণে তাদের পণ্যের মান উন্নত করতে হয় এবং দাম যৌক্তিক রাখতে হয়। এভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য একচেটিয়া কারবার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে A দেশে রপ্তানি বৃদ্ধিতে সরকার কর্তৃক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, নতুন বাজার অন্বেষণ, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং সহজ শর্তে রপ্তানি ঋণ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপসমূহ গৃহীত হয়েছে।

    উদ্দীপক অনুসারে পদক্ষেপগুলোর ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
    ১. সম্পদের উত্তম ব্যবহার: সরকার দেশের প্রাপ্ত প্রাকৃতিক, মানবিক ও মূলধনি সম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিল্পজাত পণ্যের উৎপাদন ব্যয় হ্রাসে সহায়তা করেছে।
    ২. নতুন বাজার অন্বেষণ: প্রচলিত বাণিজ্যিক অংশীদারদের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতার মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের জন্য নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করা হয়েছে।
    ৩. রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ: নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন শিল্পজাত পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
    ৪. রপ্তানি ঋণ সুবিধা বৃদ্ধি: শিল্পোদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের জন্য সুলভ সুদে ও সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক ঋণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা উৎপাদন ও রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে।

    এই সামগ্রিক সরকারি পদক্ষেপগুলোর সমন্বিত উদ্যোগেই A দেশের শিল্পজাত পণ্য উৎপাদনে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদত্ত সূচিতে ২০১১-১২ অর্থবছরে শিল্পজাত পণ্যের পরিমাণ ছিল ২৩,০৩৫ মিলিয়ন ডলার, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে হয় ২৮,৭৯৮ মিলিয়ন ডলার এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫,৩৩০ মিলিয়ন ডলারে। এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধির ধারা A দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর প্রধান প্রভাবগুলো নিম্নরূপ:
    ১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও চলতি হিসাবের ভারসাম্য: শিল্পজাত পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে। এটি দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য (Balance of Payments) অনুকূলে রাখতে সহায়তা করবে।
    ২. ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: শিল্পজাত পণ্যের প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপিত হবে। ফলে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য বহুমুখী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বেকারত্ব হ্রাস করবে এবং জনগণের মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করবে।
    ৩. জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সঞ্চয়-বিনিয়োগ চক্র: উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। আয় বৃদ্ধির ফলে জাতীয় সঞ্চয় ও নতুন বিনিয়োগের হার বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করবে।
    ৪. অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন: শিল্প খাতের বিকাশ অব্যাহত থাকলে পরিবহন, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো মৌলিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটে এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার ঘটে।

    সুতরাং, উপযুক্ত বিশ্লেষণের প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকে প্রদর্শিত শিল্পজাত পণ্যের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি A দেশের অর্থনীতিকে পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত করে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, গতিশীল ও আধুনিক উন্নত অর্থনীতিতে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন