অর্থনীতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. আলম একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। তিনি দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে চাল সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করেন। ফলের মৌসুমে তিনি রাজশাহী অঞ্চলের আম, লিচু ইত্যাডি সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে সরবরাহ করে থাকেন। অন্যদিকে, মি, চৌধুর তৈরি পোশাক রপ্তানি করে সাফল্য লাভ করেছেন। তিনি সরকারের প্রদত্ত নগদ সহায়তা, আয়করের ওপর রেয়াত সুবিধা লাভ করেন। সরকার তাকে সিআইপি মর্যাদায় ভূষিত করে।
- ক)(1)
অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য কাকে বলে?
- খ)(2)
“বাণিজ্য না হওয়ার চেয়ে কিছু বাণিজ্য ভালো”-ব্যাখ্যা করে।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে মি. আলম এবং মি. চৌধুরীর বাণিজ্যের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে রপ্তানি বৃদ্ধিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঐতিহ্যগতভাবে প্রচলিত পণ্যের বাইরে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি শুরু হওয়া পণ্যসমূহকে অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলে (যেমন- তৈরি পোশাক, চামড়াজাত দ্রব্য, হিমায়িত খাদ্য ইত্যাদি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“বাণিজ্য না হওয়ার চেয়ে কিছু বাণিজ্য ভালো”- এ বক্তব্যের অর্থ হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কোনো দেশ যদি পুরোপুরি মুক্ত বাণিজ্যের সুযোগ না-ও পায়, তবু সামান্য বাণিজ্য হলেও বাণিজ্যহীন বা স্বয়ম্ভর অবস্থার চেয়ে অধিক কল্যাণ লাভ সম্ভব।
বাণিজ্যহীন অবস্থায় দেশকে তার সকল প্রয়োজনীয় পণ্য অভ্যন্তরীণভাবে চড়া মূল্যে বা কম দক্ষতায় উৎপাদন করতে হয়। কিন্তু আংশিক বা সীমিত বাণিজ্য থাকলে তুলনামূলক সুবিধা কাজে লাগিয়ে কিছুটা উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানি ও স্বল্প খরচে কিছু পণ্য আমদানি করা যায়। ফলে সামগ্রিক ভোগ ও জাতীয় কল্যাণ বৃদ্ধি পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. আলমের বাণিজ্যটি হলো অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য এবং মি. চৌধুরীর বাণিজ্যটি হলো আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক বাণিজ্য।
এদের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ভৌগোলিক সীমা: মি. আলমের বাণিজ্য দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে (উত্তরাঞ্চল ও রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম) সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে মি. চৌধুরীর বাণিজ্য দেশের ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে বিদেশের সাথে সম্পন্ন হয়।
২. মুদ্রার ব্যবহার: মি. আলম দেশীয় মুদ্রা (টাকা) ব্যবহার করে কেনাবেচা পরিচালনা করেন; কিন্তু মি. চৌধুরীকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার করতে হয়।
৩. বাণিজ্যের নিয়মকানুন: অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে সরকারের শুল্ক বা আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের প্রভাব থাকে না। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক, কোটা, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও বৈদেশিক বাণিজ্যনীতির নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়।
৪. ভাষা ও সংস্কৃতি: মি. আলম একই দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে সহজে ব্যবসা করেন, পক্ষান্তরে মি. চৌধুরীকে ভিন্ন ভাষা, বাজার ও সংস্কৃতির ক্রেতাদের সাথে সমন্বয় করতে হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে রপ্তানি বৃদ্ধিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারে অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী ভূমিকা রাখছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক মি. চৌধুরীকে সরকার নগদ সহায়তা ও আয়করের ওপর রেয়াত সুবিধা প্রদান করেছে এবং তাকে সিআইপি (CIP) মর্যাদায় ভূষিত করেছে। রপ্তানি বৃদ্ধিতে সরকারের এসব পদক্ষেপের মূল্যায়ন নিম্নরূপ:
১. নগদ সহায়তা (Cash Incentive): রপ্তানিকারকদের নগদ প্রণোদনা দেওয়ায় উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায় এবং বিশ্ববাজারে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীদের সাথে পণ্যমূল্যে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
২. আয়কর রেয়াত: কর ছাড় বা আয়কর রেয়াত সুবিধা দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা উদ্যোক্তাদের রপ্তানিমুখী নতুন কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করে।
৩. সিআইপি মর্যাদা প্রদান: সফল রপ্তানিকারকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও বিশেষ মর্যাদা দেওয়া তাদের মনোবল বাড়ায় এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদেরও রপ্তানি বাণিজ্যে আসতে অনুপ্রাণিত করে।
৪. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: সরকারের এসব উৎসাহমূলক পদক্ষেপের ফলে তৈরি পোশাকের মতো প্রধান রপ্তানি পণ্যের বৈদেশিক প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও কর্মসংস্থানকে মজবুত করে।পরিশেষে বলা যায়, সরকারের এ ধরনের অনুকূল বাণিজ্যনীতি ও সুযোগ-সুবিধা দেশের রপ্তানি খাতের টেকসই বিকাশ ও জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও