জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

গ্লুকোজ → পাইরুভিক এসিড ইথানল/ ল্যাকটিক এসিড

  1. ক)

    NADP এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    শ্বসনিক হার কাকে বলে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের A প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ ছক আকারে লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সামগ্রিক প্রক্রিয়াটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    NADP-এর পূর্ণরূপ হলো Nicotinamide Adenine Dinucleotide Phosphate (নিকোটিনামাইড অ্যাডেনিন ডাইনিউক্লিওটাইড ফসফেট)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শ্বসন প্রক্রিয়ায় নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) এবং গৃহীত অক্সিজেনের (O₂) আয়তনের অনুপাতকে শ্বসনিক হার বা Respiratory Quotient (RQ) বলে। অর্থাৎ, RQ = নির্গত CO₂ এর আয়তন / গৃহীত O₂ এর আয়তন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে গ্লুকোজ থেকে পাইরুভিক এসিড তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো 'A' প্রক্রিয়া বা গ্লাইকোলাইসিস (Glycolysis)। নিচে গ্লাইকোলাইসিসের ধাপসমূহ ছক বা প্রবাহচিত্র আকারে দেখানো হলো:

    ১. গ্লুকোজ (Glucose, 6C) + ATP --(হেক্সোকাইনেজ)--> গ্লুকোজ-৬-ফসফেট + ADP
    ২. গ্লুকোজ-৬-ফসফেট --(ফসফোগ্লুকো-আইসোমারেজ)⇌ ফ্রুক্টোজ-৬-ফসফেট
    ৩. ফ্রুক্টোজ-৬-ফসফেট + ATP --(ফসফোফ্রুক্টোকাইনেজ)--> ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিসফসফেট + ADP
    ৪. ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিসফসফেট --(অ্যালডোলেজ)⇌ ৩-ফসফোগ্লিসারালডিহাইড (3C) ⇌ ডাইহাইড্রক্সি অ্যাসিটোন ফসফেট (3C)
    ৫. ৩-ফসফোগ্লিসারালডিহাইড + NAD + Pi --(ডিহাইড্রোজিনেজ)⇌ ১,৩-বিসফসফোগ্লিসারিক এসিড + NADH + H⁺
    ৬. ১,৩-বিসফসফোগ্লিসারিক এসিড + ADP --(ফসফোগ্লিসারোকাইনেজ)⇌ ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড + ATP
    ৭. ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড --(ফসফোগ্লিসারোমিউটেজ)⇌ ২-ফসফোগ্লিসারিক এসিড
    ৮. ২-ফসফোগ্লিসারিক এসিড --(এনোলেজ)⇌ ফসফোইনলপাইরুভিক এসিড + H₂O
    ৯. ফসফোইনলপাইরুভিক এসিড + ADP --(পাইরুভেট কাইনেজ)--> পাইরুভিক এসিড (3C) + ATP

    এভাবে ১ অণু গ্লুকোজ জারিত হয়ে ২ অণু পাইরুভিক এসিড, ২ অণু ATP এবং ২ অণু NADH + H⁺ উৎপন্ন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি হলো অবাধ শ্বসন (Anaerobic Respiration) বা সন্ধান (Fermentation), যার মাধ্যমে গ্লুকোজ আংশিক জারিত হয়ে ইথানল অথবা ল্যাকটিক এসিড উৎপন্ন হয়। প্রকৃতিতে ও মানবজীবনে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম:

    ১. শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্ব: অ্যালকোহল ও মদ শিল্পে ইস্টের অবাধ শ্বসনের মাধ্যমে ইথানল তৈরি করা হয়। বেকারি শিল্পে পাউরুটি ফোলাতে এবং নরম করতে ইস্টের সন্ধান প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
    ২. দুগ্ধজাত সামগ্রী তৈরিতে: ল্যাকটিক এসিড ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুধ থেকে দই, পনির ও ছানা তৈরি করা হয়।
    ৩. শক্তির জোগান: প্রতিকূল পরিবেশে যেখানে অক্সিজেন অনুপস্থিত থাকে, সেখানে অবাত শ্বসনকারী অণুজীবেরা এই প্রক্রিয়ায় বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করে। উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের বীজের অঙ্কুরোদগমে অক্সিজেন সংকটে সাময়িকভাবে এ প্রক্রিয়া কার্যকর থাকে।
    ৪. মানুষের পেশিকোষে: অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের সময় কোষে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে অবাত শ্বসন বা ল্যাকটিক এসিড সন্ধান ঘটে, যা পেশিকে সাময়িক শক্তি জোগায় (তবে ল্যাকটিক এসিড জমার কারণে পেশি ক্লান্ত হয়)।
    ৫. জৈব এসিড ও রসায়ন উৎপাদনে: ভিনেগার (অ্যাসিটিক এসিড), ল্যাকটিক এসিড, বিউটাইল অ্যালকোহল ইত্যাদি বিভিন্ন দরকারি রাসায়নিক তৈরিতে সন্ধান প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়।

    সুতরাং, অর্থনৈতিক, শিল্পজাত এবং জীবতাত্ত্বিক উভয় দিক থেকেই উদ্দীপকের সামগ্রিক প্রক্রিয়াটির গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন