অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জাহিদ তার শ্রেণী শিক্ষকের নিকট শুনেছে যে কোন দেশের উদ্বৃত্ত দ্রব্য রপ্তানি ও ঘাটতি দ্রব্য আমদানির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হয়। অবশ্য এই বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশ বা জোটের মধ্য হয়ে থাকে। এতে অবশ্য লেনদেনজনিত সমস্যা, মুদ্রা ও ব্যাংক ব্যবস্থার ভিন্নতার মত জটিলতাও থাকে। তবে এতে বিভিন্ন দেশের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, বাজার সম্প্রসারণ, ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা হয়ে থাকে। বিষয়টি জাহিদকে অনুপ্রাণিত করে।

  1. ক)

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কি?

    (1)
  2. খ)

    বাণিজ্য না হওয়ার চেয়ে কিছু বাণিজ্য ভালো - ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য সমূহ আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশের কল্যাণ কিভাবে বৃদ্ধি পায়? স্বপক্ষে যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুই বা ততোধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে বিদ্যমান আইনগত কাঠামোর অধীনে দ্রব্য ও সেবাসামগ্রীর যে লেনদেন বা ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়, তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য (International Trade) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'বাণিজ্য না হওয়ার চেয়ে কিছু বাণিজ্য ভালো' (Some trade is better than no trade)—উক্তিটির তাৎপর্য হলো স্বয়ম্ভরতা বা বাণিজ্যহীন অবস্থার তুলনায় সীমিত পরিসরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কল্যাণ বৃদ্ধি করে।

    কোনো দেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য না করলে তাকে নিজের প্রয়োজনীয় সব দ্রব্য দেশীয় সীমানার ভেতরেই উৎপাদন করতে হয়, যা তুলনামূলক ব্যয় সুবিধার পরিপন্থী। কিন্তু অবাধ বাণিজ্য সম্ভব না হলেও যদি কোনো দেশ কয়েকটি দ্রব্যেও সুবিধাজনক বাণিজ্যে লিপ্ত হতে পারে, তবে দেশীয় উৎপাদন অপেক্ষা সুলভ মূল্যে ঘাটতি দ্রব্য ভোগ করা সম্ভব হয় এবং অর্থনৈতিক উদ্বৃত্ত বাড়ে। তাই বাণিজ্যহীন অবস্থার চেয়ে যেকোনো পরিমাণ বৈদেশিক বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য অধিক কল্যাণকর।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত বাণিজ্যটি হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। উদ্দীপকের আলোকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. সার্বভৌম রাষ্ট্রের উপস্থিতি: এ বাণিজ্য দুটি বা ততোধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়।
    ২. উদ্বৃত্ত দ্রব্য রপ্তানি ও ঘাটতি দ্রব্য আমদানি: কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার অতিরিক্ত উৎপাদিত উদ্বৃত্ত সামগ্রী অন্য দেশে রপ্তানি করা হয় এবং অভ্যন্তরীণভাবে ঘাটতি থাকা পণ্য অন্য দেশ হতে আমদানি করা হয়।
    ৩. ভিন্ন মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা: লেনদেন সম্পন্ন করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজস্ব ভিন্ন ভিন্ন মুদ্রা, বিনিময় হার এবং ব্যাংকিং পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতে হয়, যা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
    ৪. আন্তর্জাতিক চুক্তি ও জোট: বিভিন্ন দেশ বা অর্থনৈতিক জোটের (যেমন- WTO, SAFTA) মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি, রীতিনীতি ও আইনি কাঠামোর অধীনে এ ধরনের বাণিজ্য পরিচালিত হয়।
    ৫. সম্পদের কাম্য ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণ: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার ঘটে এবং পণ্যের বাজারের পরিধি স্থানীয় সীমানা পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রসারিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে একটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণ বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:

    ১. তুলনামূলক ব্যয় সুবিধা ও দক্ষতার বৃদ্ধি: রিকার্ডোর তুলনামূলক ব্যয় সুবিধা তত্ত্ব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে প্রতিটি দেশ তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদিত পণ্য উৎপাদনে বিশেষায়ন অর্জন করে। এর ফলে বিশ্বসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।

    ২. ভোক্তাদের কল্যাণ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত না হওয়া বা ঘাটতি পণ্যসমূহ তুলনামূলক কম খরচে আমদানি করা সম্ভব হয়। ফলে ভোক্তারা বৈচিত্র্যময় এবং উন্নতমানের পণ্য সুলভে ব্যবহারের সুযোগ পায়, যা সামগ্রিক সামাজিক কল্যাণ বৃদ্ধি করে।

    ৩. উদ্বৃত্ত পণ্যের সঠিক ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণ: অভ্যন্তরীণ বাজারের সীমাবদ্ধতা দূর করে উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে বৃহৎ মাত্রার উৎপাদনের সুবিধা (Economies of Scale) অর্জন করা যায় এবং দেশীয় উৎপাদকদের মুনাফা বৃদ্ধি পায়।

    ৪. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও মূলধনী দ্রব্যের প্রাপ্যতা: রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি এবং শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা যায়।

    ৫. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব: রপ্তানিমুখী শিল্প এবং আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট লজিস্টিক খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সাহায্য করে।

    সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাজার সম্প্রসারণ, সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের ভোগের সুযোগ বৃদ্ধি করে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কল্যাণ বাড়াতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন