‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' নামক রাষ্ট্রটি দীর্ঘদিন বিদেশি শাসকগোষ্ঠীর দ্বারা শাসিত হয়েছে। দেশটিতে দুটি বৃহৎ ধর্মীয় সম্প্রদায় বাস করে। বিদেশি শাসকগোষ্ঠী দেশের জনগণকে খুশি করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের আইন প্রণয়ন করেন। কিন্তু কোনো আইনই ধর্মীয় সম্প্রদায় দুটিকে পুরোপুরি খুশি করতে পারেনি। এমতাবস্থায় শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রটির স্বাধীনতা প্রদানের লক্ষ্যে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেন। এ আইনের ফলের শাসকগোষ্ঠী 'ক' রাষ্ট্রটিকে দুটি স্বাধীন ভাগে ভাগ করে।

  1. ক)

    মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার সদস্য সংখ্যা ছিল কতজন?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে তোমার পঠিত যে আইনের সাদৃশ্য রয়েছে তার বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তোমার পাঠ্য বইয়ের আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন বা মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার সদস্য সংখ্যা ছিল ৩ জন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বৈতশাসন হলো একই সাথে দুটি ভিন্ন কর্তৃপক্ষের দ্বারা একটি প্রদেশ বা অঞ্চলে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার ভারতের প্রদেশগুলোতে এই ব্যবস্থা চালু করে, যেখানে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে 'হস্তান্তরিত' (জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত) ও 'সংরক্ষিত' (গভর্নর ও তার নির্বাহী পরিষদ দ্বারা পরিচালিত)—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন'-এর (Indian Independence Act 1947) সাদৃশ্য রয়েছে। এই আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে দেওয়া হলো:

    ১. দুটি স্বাধীন ডোমিনিয়ন সৃষ্টি: ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি সার্বভৌম ডোমিনিয়ন সৃষ্টি করা হয়।
    ২. ব্রিটিশ শাসনের অবসান: এ আইনের ফলে ভারতে ব্রিটিশ রাজমুকুটের কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্বের অবসান ঘটে।
    ৩. সংবিধান সভা গঠন: উভয় ডোমিনিয়নের নিজস্ব সংবিধান রচনার জন্য পৃথক সংবিধান সভা বা গণপরিষদকে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়।
    ৪. ভারত সচিব পদের বিলোপ: ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায় ভারত সচিবের পদের অবসান ঘটানো হয়।
    ৫. প্রদেশসমূহের সীমানা নির্ধারণ: বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশ দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের গুরুত্ব ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।

    প্রথমত, এই আইনের মাধ্যমেই প্রায় দুইশত বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে এবং ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। দ্বিতীয়ত, এটি উপমহাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের স্বাধীনতা আন্দোলন ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে। তৃতীয়ত, আইনটি উভয় রাষ্ট্রকে নিজস্ব সংবিধান প্রণয়নের পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূচনা করে। যদিও ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ এবং দেশত্যাগের ফলে ব্যাপক দাঙ্গা ও মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছিল, তবুও ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে দক্ষিণ এশিয়ায় সার্বভৌম ক্ষমতার প্রতিষ্ঠায় ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন