অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বিগত তিন দশকে বাংলাদেশের খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ নিম্নরূপ:তথ্য উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ১৯৯৭, ২০১৪
খাদ্যশস্য উৎপাদন (লক্ষ মেট্রিক টন)
অর্থবছরউৎপাদনের পরিমাণ১৯৮০-৮১১৪৯.৭১৯৯০-৯১১৮৮.৬২০১৩-১৪৩৭৭.৮২ | অর্থবছর | উৎপাদনের পরিমাণ | ১৯৮০-৮১ | ১৪৯.৭ | ১৯৯০-৯১ | ১৮৮.৬ | ২০১৩-১৪ | ৩৭৭.৮২
অর্থবছর | উৎপাদনের পরিমাণ
১৯৮০-৮১ | ১৪৯.৭
১৯৯০-৯১ | ১৮৮.৬
২০১৩-১৪ | ৩৭৭.৮২
অর্থবছর | উৎপাদনের পরিমাণ
১৯৮০-৮১ | ১৪৯.৭
১৯৯০-৯১ | ১৮৮.৬
২০১৩-১৪ | ৩৭৭.৮২
- ক)(1)
অবকাঠামো কাকে বলে?
- খ)(2)
ইংরেজ শাসনামলে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা কীরূপ ছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ভিত্তিতে একটি স্তম্ভচিত্র অঙ্কন করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদনের গতিধারা বিশ্লেষণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য যে সকল মৌলিক সুযোগ-সুবিধা বা কাঠামোর প্রয়োজন হয় (যেমন পরিবহন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য), তাকে অবকাঠামো বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইংরেজ শাসনামলে বাংলার অর্থনীতি তীব্র শোষণ, অবহেলা ও স্থবিরতার শিকার হয়েছিল। ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী নিজেদের বাণিজ্যিক ও শিল্প স্বার্থ রক্ষার্থে বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিশ্বখ্যাত হস্তশিল্প ও তাঁতশিল্প ধ্বংস করে এবং দেশকে ব্রিটিশ কারখানার কাঁচামাল সরবরাহকারী ও সমাপ্ত পণ্যের বাজারে পরিণত করে। এছাড়া চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত খাজনা ও শোষণ চাপিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে বাংলার অর্থনীতি চরম দুর্দশা ও বারবার ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদত্ত খাদ্যশস্য উৎপাদনের তথ্যের ভিত্তিতে স্তম্ভচিত্রটির গঠন নিম্নরূপ:
অঙ্কন পদ্ধতি:
১. ভূমিসমান্তরাল অক্ষ (X-অক্ষ)-এ অর্থবছর এবং উলম্ব অক্ষ (Y-অক্ষ)-এ খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ (লক্ষ মেট্রিক টনে) স্থাপন করি।
২. Y-অক্ষে স্কেল নির্ধারণ: প্রতি ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন ব্যবধানে ০ থেকে ৪০০ পর্যন্ত চিহ্নিত করি।
৩. প্রতিটি অর্থবছরের জন্য সমান প্রস্থের স্তম্ভ অঙ্কন করি এবং উৎপাদনের পরিমাণ নির্দেশ করি:- ১৯৮০-৮১ অর্থবছরের জন্য ১৪৯.৭ লক্ষ মেট্রিক টন উচ্চতার স্তম্ভ।
- ১৯৯০-৯১ অর্থবছরের জন্য ১৮৮.৬ লক্ষ মেট্রিক টন উচ্চতার স্তম্ভ।
- ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য ৩৭৭.৮২ লক্ষ মেট্রিক টন উচ্চতার স্তম্ভ।
চিত্র রূপরেখা (Bar Diagram Representation):
উৎপাদন (লক্ষ মে. টন)
400 | ┌─────┐
350 | │ │
300 | │ │
250 | │ │
200 | ┌─────┐ │ │
150 | ┌─────┐ │ │ │ │
100 | │ │ │ │ │ │
50 | │ │ │ │ │ │
0 └─┴─────┴───┴─────┴───┴─────┴─── অর্থবছর
1980-81 1990-91 2013-14
(149.7) (188.6) (377.82)উক্ত স্তম্ভচিত্র থেকে সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় যে খাদ্যশস্য উৎপাদন সময়ের সাথে ক্রমান্বয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত তিন দশকে বাংলাদেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনে এক অভূতপূর্ব ও ইতিবাচক গতিধারা পরিলক্ষিত হয়েছে।
১. উৎপাদনের ধারাবাহিক বৃদ্ধি: ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৪৯.৭ লক্ষ মেট্রিক টন। ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৮.৬ লক্ষ মেট্রিক টনে, অর্থাৎ এক দশকে বৃদ্ধি পায় প্রায় ৩৮.৯ লক্ষ মেট্রিক টন। পরবর্তী দুই দশকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩৭৭.৮২ লক্ষ মেট্রিক টনে।
২. আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার: কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমহ্রাসমান হওয়া সত্ত্বেও এই বিপুল উৎপাদন বৃদ্ধির মূল কারণ ছিল উচ্চফলনশীল (উফশী) ও হাইব্রিড জাতের বীজের সম্প্রসারণ, উন্নত সেচ ব্যবস্থার বিস্তার, সুষম সারের ব্যবহার এবং যান্ত্রিকীকরণ।
৩. সরকারি নীতি ও প্রণোদনা: কৃষিক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি, কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ সেবার আধুনিকায়নের ফলে খাদ্যশস্যের উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ক্রমহ্রাসমান কৃষিজমির মধ্যেও বাংলাদেশের খাদ্যশস্য উৎপাদনের গতিধারা ছিল ক্রমবর্ধমান ও স্থিতিশীল, যা দেশকে খাদ্য নিরাপত্তার পথে এগিয়ে নিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও