বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
লাল পলাশের ভস্মস্তূপে কিসের জ্বালা স্তব্ধ অধীর বজ্রগর্ভ মেঘের মতো? শিবির-সীমায় মনের ছায়ায় ইতস্তত ছড়ায় সে তার কূট-মন্ত্রণা ঘৃণায় ঢালা দুই শতকের সেই একদিন মনে কি পড়ে? মিরজাফরের গুলির শিখায়, সমুদ্ধত নিভল তোমার দিনের সূর্য দিগন্তরে দূর গোধূলীর সেই একদিন মনে পড়ে মনে কি পড়ে?
- ক)(1)
'ক্লাইভের গাধা' কে?
- খ)(2)
সিরাজউদ্দৌলার পতন হলে কে কত টাকা পাবে বলে দলিল সই হয়?
- গ)(3)
নাটকের কোন দৃশ্যগুলোর ঘটনাসমূহ উদ্দীপকের ৩য় ও ৪র্থ চরণের সাথে বিশেষভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল চেতনার যে মিল রয়েছে তা যুক্তিসহকারে উপস্থাপন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ক্লাইভের গাধা' বলা হতো মীরজাফরকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটলে কে কত টাকা পাবে তা নির্ধারণ করে ওয়াটসের মাধ্যমে ক্লাইভ ও অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে গোপন চুক্তিপত্র তৈরি হয়। চুক্তিমতে কোম্পানির ক্ষতির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ কোটি টাকা, কলকাতার ইংরেজ বাসিন্দাদের জন্য ৫০ লাখ টাকা, দেশীয় প্রজাদের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং আর্মেনিয়ানদের জন্য ৭ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। এছাড়া মীরজাফর কোম্পানির সৈন্যদের জন্য ৫০ লাখ টাকা এবং ওয়াটসের জন্য বিশেষ উপহারস্বরূপ অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ওমিচাঁদ নিজের জন্য চেয়েছিল বিশ লাখ টাকা (পরবর্তীতে ত্রিশ লাখ টাকা দাবি করে)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ৩য় ও ৪র্থ চরণে ('শিবির-সীমায় মনের ছায়ায় ইতস্তত ছড়ায় সে তার কূট-মন্ত্রণা ঘৃণায় ঢালা') বর্ণিত ষড়যন্ত্রের আবহ 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রথম অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্য এবং দ্বিতীয় অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্যের সাথে বিশেষভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের ওই চরণে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে অন্ধকারের আড়ালে গোপনে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতামূলক কূট-পরামর্শ ও চক্রান্ত ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রথম অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যে ঘসেটি বেগমের মতিঝিল প্রাসাদে মীরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, ওমিচাঁদ ও রায়দুর্লভ একত্রিত হয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করার গোপন ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। একইভাবে দ্বিতীয় অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্যে মীরজাফরের আবাসে ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটসের উপস্থিতিতে নবাবের বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন ও গঙ্গাজল ছুঁয়ে চরম বিশ্বাসঘাতকতার গোপন চুক্তি সম্পন্ন হয়। এই দৃশ্যগুলোতে দেশের সর্বনাশ সাধনের জন্য যে গোপন কূট-মন্ত্রণা চালানো হয়েছিল, তা উদ্দীপকের চরণের সাথে প্রত্যক্ষভাবে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক এবং সিকান্দার আবু জাফরের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল চেতনা মূলত এক ও অভিন্ন—দেশপ্রেমের পরাজয়, বিশ্বাসঘাতকতার ফলে পরাধীনতার গ্লানি এবং সেই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির জন্য তীব্র অনুশোচনা ও ক্ষোভ।
উদ্দীপকে পলাশীর প্রান্তরে মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার ট্র্যাজেডি এবং সেই ঘৃণ্য বিশ্বাসঘাতকদের কূট-কৌশল স্মরণ করে তীব্র খেদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুশো বছরের ব্রিটিশ দাসত্বের সূচনা পর্বের বেদনাবিধুর ইতিহাসকে মূর্ত করা হয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও নাট্যকার দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজউদ্দৌলার একাকী লড়াই এবং মীরজাফর, জগৎশেঠ, ঘসেটি বেগম প্রমুখের চরম দেশদ্রোহিতার চিত্র নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। পলাশীর প্রান্তরে সৈন্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বাধা দিয়ে মীরজাফর সিরাজউদ্দৌলাকে নিশ্চিত পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেয়, যার ফলে বাংলা তার স্বাধীনতা হারায় এবং প্রায় দুই শতকব্যাপী ইংরেজদের দাসত্ব বরণ করতে হয়।
সুতরাং উদ্দীপকের কবির ক্ষোভ ও পলাশীর পতনস্মৃতি এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের স্বাধীনতাহারা বেদনার মূল ভাব সম্পূর্ণ সমান্তরাল। উভয় স্থানেই বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা এবং স্বদেশের স্বাধীনতা হারানোর ঐতিহাসিক বেদনাই মূল সুর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও