অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে পাট ও পাটজাত পণ্যের জন্য বাংলাদেশ বিখ্যাত ছিল। কিন্তু একই শতাব্দীর শেষার্ধে পলিথিন, নাইলন ও প্লাস্টিক সামগ্রীর উৎপাদন ও ব্যবহার বেড়ে যায় এবং পাটের বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় পাট ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়। ০১ জানুয়ারি, ২০০২ থেকে ঢাকা শহরে এবং মার্চ, ২০০২ থেকে সারাদেশে সরকার পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করে পাটের তৈরি ব্যাগের ব্যাপক ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়। অন্যদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন করায় পাট শিল্প বিকাশের নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
- ক)(1)
আমদানি বিকল্প শিল্প কী?
- খ)(2)
'কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কুটিরশিল্পের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে।'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে পাটের ব্যবসায় মন্দা দেখা দেওয়ার কারণগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'পাট শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার নতুনভাবে উন্মোচিত হয়েছে।' যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিদেশ থেকে পণ্য সামগ্রীর আমদানি হ্রাস বা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে দেশে নিজস্ব উদ্যোগে অনুরূপ পণ্য উৎপাদনের জন্য যে শিল্প গড়ে তোলা হয়, তাকে আমদানি বিকল্প শিল্প বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কুটিরশিল্প মূলত স্বল্প মূলধন এবং পরিবারের সদস্যদের কায়িক শ্রমের ওপর ভিত্তি করে পারিবারিকভাবে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক শ্রমশক্তি রয়েছে যাদের অনেকেরই বড় শিল্পে কাজ করার মতো বিশেষ প্রযুক্তিগত দক্ষতা বা উচ্চ পুঁজি নেই। কুটিরশিল্প গ্রামীণ নারী ও বেকার যুবকদের ঘরে বসেই কাজের সুযোগ করে দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং ছদ্মবেশী বেকারত্ব দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পাটের ব্যবসায় মন্দা দেখা দেওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো কৃত্রিম বিকল্প দ্রব্যের সহজলভ্যতা এবং বৈশ্বিক চাহিদার ব্যাপক হ্রাস।
বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে বিশ্ববাজারে সস্তা ও দীর্ঘস্থায়ী সিনথেটিক পণ্য হিসেবে পলিথিন, নাইলন ও প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যাপক প্রসার ঘটে। এসব কৃত্রিম উপাদান দিয়ে তৈরি মোড়ক ও ব্যাগ পাটের পণ্যের তুলনায় উৎপাদন ও ব্যবহারের দিক থেকে দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত পাটপণ্যের চাহিদা আকস্মিকভাবে কমে যায়। ফলে উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতির মতোই বিশ্ববাজার হারানোর কারণে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত পাট ব্যবসায় তীব্র মন্দা দেখা দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপক ও সমকালীন বাস্তবতার নিরিখে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ফলে পাট শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার নতুনভাবে উন্মোচিত হয়েছে।
প্রথমত, পরিবেশ দূষণ রোধে পলিথিন ও প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে পাটের চাহিদা আবার বাড়ছে। সরকার পলিথিন নিষিদ্ধ করে পরিবেশবান্ধব সোনালী ব্যাগ ও বিভিন্ন পাটজাত সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের দ্বারা পাটের জিনোম সিকোয়েন্স বা জীবন রহস্য উন্মোচন এক যুগান্তকারী সাফল্য। এর ফলে রোগবালাই প্রতিরোধী ও উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন, স্বল্প সময়ে উন্নত আঁশ আহরণ এবং বৈচিত্র্যময় ও সূক্ষ্ম পাটবস্ত্র তৈরিসহ বহুমুখী বাণিজ্যিক পণ্য উৎপাদন সহজতর হয়েছে।
অতএব, পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে বিশ্বব্যাপী চাহিদা বৃদ্ধি এবং বায়োটেকনোলজির সাফল্যের সমন্বয়ে পাট শিল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে, যা এ খাতের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনার পথ উন্মুক্ত করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও