ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
"হীরা মুক্তা-মাণিক্যের ঘটা যে শূন্য দিগন্তের ইন্দ্রজাল ইন্দ্রধনুচ্ছটাযায় যদি লুপ্ত হয়ে যাক,শুধু থাক;এক বিন্দু নয়নের জলকালের কপোলতলে শুভ্র সমুজ্জ্বল এর তাজমহল।"
- ক)(1)
সম্রাট শাহজাহানের কতজন পুত্র ছিল?
- খ)(2)
ময়ূর সিংহাসনের ওপর একটি নাতিদীর্ঘ টীকা লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিষয়বস্তু কোন মুঘল সম্রাটের স্থাপত্যকর্মের ওপর ভিত্তি করে রচিত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত স্থাপত্য নির্মাণের উদ্দেশ্য মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুঘল সম্রাট শাহজাহানের চারজন পুত্র ছিলেন (দারা শিকোহ, শাহ সুজা, আওরঙ্গজেব ও মুরাদ বখশ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ময়ূর সিংহাসন (Takht-i Taus) হলো মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অমর শিল্পকীর্তি ও ঐশ্বর্যের অনন্য প্রতীক।
শিল্পী বেবাদল খাঁ এটি নির্মাণ করেন। এটি তৈরি করতে প্রায় সাত বছর সময় লেগেছিল এবং ব্যয় হয়েছিল তৎকালীন প্রায় এক কোটি টাকা। মূল্যবান স্বর্ণ, হীরা, চুনি, পান্না ও অন্যান্য মণিমুক্তা খচিত এই সিংহাসনের শীর্ষভাগে দুটি রত্নখচিত ময়ূর পেখম মেলে দাঁড়িয়ে থাকার মতো কারুকাজ করা ছিল। এতে বিখ্যাত 'কোহিনূর' হীরাও শোভা পেত। পরবর্তীতে ১৭৩৯ সালে পারস্যের নাদির শাহ ভারত আক্রমণ করে এটি পারস্যে নিয়ে যান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চরণগুলো মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অনন্য স্থাপত্যকর্ম 'তাজমহল'-এর ওপর ভিত্তি করে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত 'শাহজাহান' কবিতার অংশবিশেষ।
সম্রাট শাহজাহান ছিলেন মুঘল স্থাপত্যরীতির শ্রেষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক, যার কারণে তাঁকে 'Prince of Builders' বা 'স্থাপত্যের যুবরাজ' বলা হয়। উদ্দীপকের কবিতাংশে উল্লেখ করা হয়েছে, পার্থিব সম্পদ ও ধনদৌলত সময়ের স্রোতে বিলীন হয়ে গেলেও প্রিয়তমা স্ত্রীর প্রতি সম্রাট শাহজাহানের ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে কালের কপোলতলে চিরভাস্বর হয়ে টিকে থাকবে এক বিন্দু অশ্রুজলের মতো শুভ্র সমুজ্জ্বল তাজমহল।
ভারতের আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত এই সমাধিসৌধটি সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্বেতপাথর দিয়ে নির্মাণ করেছিলেন। অতএব, উদ্দীপকের মূল বিষয়বস্তু মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অমর স্থাপত্যকর্ম তাজমহলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তাজমহল নির্মাণের পেছনে সম্রাট শাহজাহানের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল তাঁর প্রিয়তমা মহিষী আরজুমান্দ বানু বেগম (মমতাজ মহল)-এর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশ ও তাঁর স্মৃতিকে অমর করে রাখা।
তাজমহল নির্মাণের ঐতিহাসিক ও নান্দনিক উদ্দেশ্যসমূহ নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
১. ভালোবাসার শাশ্বত রূপায়ণ: ১৬৩১ সালে চতুর্দশ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মমতাজের অকালমৃত্যু হলে সম্রাট শাহজাহান গভীর শোকে নিমজ্জিত হন। স্ত্রীর স্মৃতিকে অনন্তকাল বাঁচিয়ে রাখার জন্য তিনি ভালোবাসার প্রতীকস্বরূপ এই অনুপম সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন।
২. সৌন্দর্যচেতনার চরম প্রকাশ: সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্যপ্রিয় ও নান্দনিক রুচির অধিকারী। তিনি চেয়েছিলেন এমন এক সমাধিস্তম্ভ নির্মাণ করতে, যার স্থাপত্যরীতি, শুভ্র মার্বেল পাথরের প্রতিচ্ছবি এবং সূক্ষ্ম নকশা সমগ্র বিশ্বের বিস্ময় হয়ে থাকবে।
৩. মুঘল স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন: তৎকালীন মুঘল সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক স্থায়িত্ব, আর্থিক প্রাচুর্য এবং পারস্য, মধ্য এশিয়া ও ভারতীয় স্থাপত্যের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের গৌরবকে ইতিহাসের পাতায় অক্ষয় করে রাখাও এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণের অন্যতম লক্ষ্য ছিল।পরিশেষে বলা যায়, তাজমহল কেবল একটি সাধারণ সমাধিসৌধ নয়; বরং এটি মমতাজের প্রতি শাহজাহানের অপার্থিব প্রেম, বিরহের অশ্রু এবং অনন্য শিল্পভাবনার এক চিরন্তন মূর্ত প্রতীক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও