ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব আনাস ও আকসা 'ইকরা বিমা কোম্পানির' সাথে ১৫ বছর মেয়াদি দুটি বিমা চুক্তি সম্পাদন করেন। জনাব আকসা নমিনি হিসেবে তার ছেলেকে মনোনয়ন করেন। তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী বিমাদাবি করেন। অন্যদিকে, জনাব আনাস করোনা মহামারিতে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৫ বছর পর বিমা প্রিমিয়াম চালিয়ে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
- ক)(1)
মৃত্যুহার পঞ্জি কী?
- খ)(2)
পুনঃবিমা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব আনাসের অপারগতা প্রকাশে বিমা কোম্পানির করণীয় কী? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব আকসার স্ত্রীর বিমাদাবিটির যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে তালিকা বা সারণিতে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন বয়সে মৃত্যুর সম্ভাব্যতা বা হার গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগতভাবে উপস্থাপন করা হয়, তাকে মৃত্যুহার পঞ্জি (Mortality Table) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি বিমা কোম্পানি কোনো ঝুঁকি গ্রহণ করার পর যদি সেই ঝুঁকিকে নিজের আর্থিক সামর্থ্যের বাইরে মনে করে তার সম্পূর্ণ বা আংশিক অংশ অন্য এক বা একাধিক বিমা কোম্পানির নিকট বিমা করে, তবে তাকে পুনঃবিমা (Re-insurance) বলে।
মূলত অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি এড়াতে এবং বড় অঙ্কের ঝুঁকির বিস্তার ঘটাতে মূল বিমাকারী প্রতিষ্ঠান এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এতে মূল বিমাগ্রহীতার সাথে পুনঃবিমাকারীর কোনো সরাসরি সম্পর্ক থাকে না; প্রথম বিমাকারীই মূল বিমাগ্রহীতার প্রতি দায়বদ্ধ থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব আনাসের প্রিমিয়াম চালিয়ে যেতে অপারগতা প্রকাশের ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানির করণীয় হলো বিমাপত্রটি বাতিল না করে তাকে 'সমর্পণ মূল্য' (Surrender Value) প্রদান করা অথবা বিমাপত্রটিকে 'পরিশোধিত বিমাপত্রে' (Paid-up Policy) রূপান্তর করা।
বিমা আইন অনুযায়ী, কোনো বিমাগ্রহীতা যদি একটি নির্দিষ্ট সময় (সাধারণত অন্তত ২ বা ৩ বছর) নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধ করার পর আর্থিক বা অন্য কোনো কারণে প্রিমিয়াম দিতে অসমর্থ হন, তবে বিমাপত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। বিমাগ্রহীতা চাইলে তার বিমাপত্র সমর্পণ করে জমাকৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ (সমর্পণ মূল্য) ফেরত নিতে পারেন, অথবা পূর্বে প্রদত্ত প্রিমিয়ামের আনুপাতিক হারে একটি হ্রাসকৃত পরিশোধিত বিমাপত্র গ্রহণ করতে পারেন যা মূল মেয়াদের শেষে কার্যকর হয়।
উদ্দীপকে জনাব আনাস ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির মধ্যে প্রথম ৫ বছর নিয়মিত প্রিমিয়াম প্রদান করেছেন। সুতরাং তিনি ইতিমধ্যে বিমাপত্রের সমর্পণ মূল্য অর্জন করেছেন। তাই বিমা কোম্পানি তার জমাকৃত অর্থ সম্পূর্ণ বাজেয়াপ্ত করতে পারবে না; বরং আনাসের আবেদন অনুযায়ী তাকে সমর্পণ মূল্য পরিশোধ করবে অথবা জমাকৃত ৫ বছরের প্রিমিয়ামের অনুপাতে বিমাটিকে পরিশোধিত বিমায় রূপান্তর করে দেবে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব আকসার স্ত্রীর সরাসরি বিমাদাবি উত্থাপন করার কোনো আইনগত যৌক্তিকতা নেই; কারণ জনাব আকসা ইতিমধ্যে তার ছেলেকে বৈধভাবে নমিনী মনোনীত করেছেন।
বিমা আইনের বিধান অনুযায়ী, বিমাগ্রহীতা জীবিত অবস্থায় তার বিমাপত্রে যাকে নমিনী বা মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে নিযুক্ত করেন, বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর বিমা কোম্পানির কাছ থেকে বিমাদাবির অর্থ গ্রহণের প্রত্যক্ষ ও আইনসম্মত অধিকার কেবল সেই নমিনীরই থাকে। নমিনী নাবালক হলে তার পক্ষে অভিভাবক অর্থ গ্রহণ করতে পারেন, তবে নমিনী জীবিত ও প্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় অন্য কোনো ওয়ারিশ বা আত্মীয় (এমনকি স্ত্রীও) সরাসরি বিমা কোম্পানির কাছে দাবিদার হতে পারেন না।
উদ্দীপকে জনাব আকসা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার আগে তার ছেলেকে বৈধভাবে নমিনী করে গেছেন। অতএব, বিমা কোম্পানির সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী বিমার অর্থ উত্তোলনের সম্পূর্ণ আইনগত অধিকার তার ছেলের। আকসার স্ত্রী সরাসরি বিমা কোম্পানির কাছে দাবি করলে বিমা কোম্পানি আইনত তা সরাসরি পরিশোধ করতে পারবে না। স্ত্রী যদি সাধারণ উত্তরাধিকার আইন অনুসারে কোনো অংশ দাবি করতে চান, তবে তা বিমা কোম্পানির কাছ থেকে নয়, বরং ছেলে কর্তৃক অর্থ উত্তোলনের পর পারিবারিক উত্তরাধিকার বণ্টন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে।
সুতরাং, আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে জনাব আকসার স্ত্রীর সরাসরি বিমাদাবি করাটি অযৌক্তিক এবং বিমা চুক্তি আইনের পরিপন্থী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও