ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব আজম ও তার স্ত্রী স্বল্প প্রিমিয়ামে একটি বিমাপত্রে বিমাচুক্তি সম্পাদন করেন। কিছুদিন পর জনাব আজম মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী বিমা কোম্পানির নিকট বিমাদাবি পেশ করলে বিমা কোম্পানি দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানালো এবং তাকে জানানো হলো বিমার অর্থ আপনার মৃত্যুর পর আপনার সন্তানরা পাবে।
- ক)(1)
প্রিমিয়াম কী?
- খ)(2)
বিমাযোগ্য স্বার্থ ছাড়া কি বিমাচুক্তি সম্ভব? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব আজম কোন ধরনের বিমাপত্র গ্রহণ করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে বিমা কোম্পানি কর্তৃক জনাব আজম সাহেবের স্ত্রীর বিমাদাবি প্রত্যাখ্যানের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমাগ্রহীতার ঝুঁকি গ্রহণের প্রতিদান হিসেবে বিমাকারীকে নির্দিষ্ট সময় পরপর বা এককালীন যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়, তাকে প্রিমিয়াম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, বিমাযোগ্য স্বার্থ ছাড়া কোনো বিমাচুক্তি আইনত বৈধ বা সম্ভব নয়।
বিমাযোগ্য স্বার্থ বলতে বিমাযুক্ত বিষয়বস্তুর ওপর বিমাগ্রহীতার এমন আইনগত আর্থিক স্বার্থকে বোঝায়, যার অস্তিত্বে বিমাগ্রহীতা আর্থিকভাবে লাভবান বা নিরাপদ থাকেন এবং যার ক্ষতি বা ধ্বংস সাধনে তিনি সরাসরি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। বিমাযোগ্য স্বার্থ না থাকলে বিমাচুক্তিটি একটি বাজি বা জুয়া খেলায় পরিণত হয়, যা আইনানুযায়ী বাতিল ও অবৈধ। তাই বিমাচুক্তির বৈধতা রক্ষায় বিমাযোগ্য স্বার্থ থাকা বাধ্যতামূলক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব আজম 'শেষ উত্তরজীবী বিমাপত্র' (Last Survivor Policy) গ্রহণ করেছিলেন।
যে যৌথ জীবন বিমাপত্রে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির জীবনের ওপর বিমা করা হয় এবং বিমাগ্রহীতাদের মধ্যে একজনের মৃত্যুতে বিমাদাবি পরিশোধ না করে সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তির মৃত্যুর পর মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীকে বিমার অর্থ প্রদান করা হয়, তাকে শেষ উত্তরজীবী বিমাপত্র বলে। এই জাতীয় বিমায় সাধারণত অপেক্ষাকৃত কম হারে প্রিমিয়াম দিতে হয়।
উদ্দীপকে জনাব আজম ও তার স্ত্রী স্বল্প প্রিমিয়ামে যৌথভাবে একটি বিমাপত্র ক্রয় করেন। জনাব আজমের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বিমাদাবি জানালে বিমা কোম্পানি তা নাকচ করে এবং জানায় যে বিমার অর্থ স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাদের সন্তানরা পাবে। অর্থাৎ এখানে বিমাচুক্তির শর্তানুসারে শেষ জীবিত ব্যক্তি (স্ত্রী)-র মৃত্যুর পরই দাবি পরিশোধযোগ্য। অতএব, তাদের গৃহীত বিমাপত্রটি ছিল শেষ উত্তরজীবী বিমাপত্র।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে বিমা কোম্পানি কর্তৃক জনাব আজম সাহেবের স্ত্রীর বিমাদাবি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তটি বিমাচুক্তির শর্তানুযায়ী সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
শেষ উত্তরজীবী জীবন বিমাপত্রের নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক বিমাগ্রহীতার মধ্যে কেবল একজনের মৃত্যু হলেই বিমাদাবি পরিশোধের দায় উদ্ভব হয় না। এই বিমার মূল নীতিই হলো চুক্তিবদ্ধ সকল ব্যক্তির মধ্যে সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তির মৃত্যুর পরই কেবল মনোনীত ব্যক্তি বা তাদের ওয়ারিশগণ বিমাঙ্ক বা ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রাপ্য হবেন। চুক্তি চলাকালীন প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুতে বিমা কার্যকর থাকে এবং প্রিমিয়ামের শর্ত অনুসারে পলিসি বহাল থাকে।
উদ্দীপকে জনাব আজম ও তার স্ত্রী স্বল্প প্রিমিয়ামের সুবিধায় একটি বিমাপত্র গ্রহণ করেছিলেন, যা স্পষ্টতই শেষ উত্তরজীবী বিমাপত্র ছিল। ফলে জনাব আজম মৃত্যুবরণ করলেও তার স্ত্রী জীবিত আছেন। চুক্তির শর্ত মোতাবেক সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তি হিসেবে স্ত্রীর মৃত্যুর পরই তাদের সন্তানরা বিমার অর্থ দাবি করতে পারবে। স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় বিমাদাবি উত্থাপন করা চুক্তির মৌলিক শর্তের পরিপন্থী।
অতএব, বিমাচুক্তির নীতি ও শর্ত পর্যালোচনা করে বলা যায় যে, বিমা কোম্পানি কর্তৃক জনাব আজমের স্ত্রীর বিমাদাবি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তটি আইনগত ও কৌশলগতভাবে সম্পূর্ণ যথার্থ ও যৌক্তিক ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও